ঢাকা, শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সরকারি চাকরি কেন করবেন, কেন নয়!

মোস্তাকিম ভুঞা
প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০২০ রবিবার, ১১:০০ পিএম
সরকারি চাকরি কেন করবেন, কেন নয়!

 

খালেদ মুহিউদ্দীন। একজন পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক। কর্মজীবনে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে কাজ করেছেন তিনি। এখন তিনি জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলের বাংলা বিভাগের প্রধান। পেশাগত জীবনে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারেও যোগদান করেছিলেন খালেদ মুহিউদ্দীন। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক রুটিন জীবন ছেড়ে দিয়ে আবারও সাংবাদিকতায় চলে আসেন তিনি। শুধু খালেদ মুহিউদ্দীন নয়। সোনার হরিণ খ্যাত সরকারি চাকরি অনেকেই ছেড়ে দিয়েছেন। তবে শতাংশের হিসেবে এই সংখ্যাটা কে কমই বলা চলে।

একটা চাকরি বা জীবিকা হল সারা জীবনের জন্য। সুতরাং অর্থ-কড়ি বা সামাজিক মর্যাদার চেয়ে নিজের ভালো লাগা বা ভালোবাসাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আত্মসন্তুষ্টির বিষয়টি আসলে নিজের কাছে। তাই চলুন জেনে নেই সোনার হরিণ খ্যাত সরকারি চাকরি কেন করবেন, কেন নয়- এই সমস্ত বিষয়ে।

কেন করবেন

নিশ্চিত জীবন

সরকারি চাকরি মানেই নিশ্চিত জীবন। রোদ, বৃষ্টি, গ্রীষ্ম, বর্ষা কোন কিছুতেই অসুবিধা নেই। করোনায় বেসরকারি চাকরিজীবীরা যেখানে উৎকণ্ঠিত, সেখানে নিশ্চিত জীবন পার করছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

সুযোগ-সুবিধা

সরকারি চাকরিতে বছর শেষে ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, নানান রকম ভাতা, প্রমোশন ইত্যাদি নির্দিষ্ট নিয়মে চলতে থাকে। এছাড়া ছুটিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয় তো রয়েছেই। ফলে এদিক থেকে সরকারি চাকরি একেবারে সোনায় সোহাগা।

পেনশন, প্রভিডেন্ট ফাণ্ড

সরকারি চাকরিতে কর্মজীবন শেষে পেনশন কিংবা প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের মতো সুযোগ সুবিধা রয়েছে। তাছাড়া, চাকরির ধরণ ভেদে হাউজ লোন, কার লোন বা বিদেশে উচ্চ শিক্ষায় যেতে স্কলারশীপ সুবিধাসহ অসংখ্য সুবিধা রয়েছে; যা অন্যান্য চাকরিতে থাকে না।

সামাজিক মর্যাদা

সরকারি চাকরির সবচেয়ে বড় ফায়দা হল সামাজিক মর্যাদা। বিসিএস কর্মকর্তা হয়ে যদি একবার চাকরিতে প্রবেশ করতে পারেন; দেখবেন আপনার উগ্র সামাজিক মর্যাদা তৈরি হবে। মেয়ে বিয়ে দেওয়ার জন্য শিল্পপতি, ব্যবসায়ী বা রাজনীতির বাঘা বাঘা সব লোক আপনার দ্বারে চলে আসবে। এসবের বাইরে সামাজিক সকল উৎসব পার্বণে দাওয়াত পাওয়া থেকে শুরু করে, এলাকায় আপনার একটা স্বার্থবাদী সমর্থক গোষ্ঠীও তৈরি হয়ে যাবে; অবশ্য উগ্র সামাজিক মর্যাদার কারণে আপনি মাঝে মধ্যে বিব্রত বা বিড়ম্বনারও শিকার হতে পারেন।

কেন নয়

একঘেয়ে

অনেকের কাছে সরকারি চাকরি হল একটা একঘেয়ে ও ক্লিশে কাজ। সারাদিন ফাইল পত্র নিয়ে পরে থাকা অনেকেই পছন্দ করেন না। তাই সরকারি চাকরিতে ঢুকার আগে এই বিষয়গুলোও মাথায় রাখা ভালো।

সৃজনশীলতা

আপনি যদি একটু অন্য রকম হয়ে থাকেন; যে কোন বিষয়ে বৃত্তের বাইরে চিন্তা করতে পারেন কিংবা সৃজনশীল কাজ করতে পছন্দ করেন- তাহলে সরকারি চাকরিতে আপনার মন বসবে না বললেই চলে। কারণ সরকারি চাকরিতে সৃজনশীলতা দেখানো র সুযোগ থাকে না বললেই চলে।

রাজনীতি

সরকারি যে প্রতিষ্ঠানেই আপনি চাকরি করেন না কেন- রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্ন উঠবেই। আপনি কোন দলের রাজনীতি করেন কিংবা কোন আদর্শে বিশ্বাস করেন এই বিষয়গুলো ভালোভাবেই দেখা হয়ে থাকে। আর এই সকল বিষয় অনেক সময় আপনার পদ, পদায়ন কিংবা কর্মস্থল ঠিক করার মতো বিষয়গুলোকে প্রভাবিত করে।