ঢাকা, বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১, ৭ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মন্ত্রীদের চেয়ে এখন ক্ষমতাবান দলের নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০২০ শুক্রবার, ০৭:৫৯ পিএম
মন্ত্রীদের চেয়ে এখন ক্ষমতাবান দলের নেতারা

জামালপুর দুই আসন থেকে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ফরিদুল হক খান। জামালপুর থেকে এর আগেও একজন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। দু`জন প্রতিমন্ত্রীর এই জামালপুরে মূল নেতা হলেন মির্জা আজম, তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং পরিচিত মুখ। একবার মাত্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ২০১৪-১৮ মেয়াদে। এছাড়া তিনি সরকারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবী পাননি কখনো। কিন্তু নিজের যোগ্যতায় এবং পরিশ্রমের কারণে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনি একটি সম্ভাবনাময় নাম, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে।

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকার কারণে এবং এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচীতে দায়িত্ব পালন করার কারণে আওয়ামী লীগের তরুণদের মধ্যে যেমন তিনি জনপ্রিয়, তেমনি এলাকায় তিনি ক্রমশ অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হয়েছেন। জামালপুরে থাকলেও এই দুই মন্ত্রী মির্জা আজমের ওপর নির্ভরশীল। দুই মন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে মির্জা আজমের সঙ্গে পরামর্শ করেন। দুই মন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করে তাদের নেতা মির্জা আজমের দোয়া চেয়েছেন। মির্জা আজমও তাদেরকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন সহ বিভিন্ন রকম কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন।

এই ঘটনাটি একটি বিষয়ে স্পষ্ট করেছে তা হলো, টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্রমশ মন্ত্রিসভার চেয়ে দলকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। দলের নেতারা ক্রমশ মন্ত্রীদের চেয়ে ক্ষমতাবান হিসেবে পরিগণিত হচ্ছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবসময় চেয়েছিলেন দল এবং সরকারকে আলাদা করতে। আর এ কারণেই দলকে শক্তিশালী করতে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। জাতির পিতার যে আকাঙ্ক্ষা, সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করছেন। প্রথমদিকে ১৯৯৬ সালে তিনি এটি করতে পারেননি। তখন সরকার এবং দল একাকার হয়ে গিয়েছিল। তখন সরকারের সব হেভীওয়েট নেতারাই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

কাজেই রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ক্রমশ সরকার নির্ভর হয়ে পড়েছিল। যেটির নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতার বাইরে থাকে তখন। ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রথম সরকার এবং দলকে আলাদা করার প্রক্রিয়া শুরু করেন। ধাপে ধাপে এগুতে এগুতে তিনি আজকের আওয়ামী লীগ এবং সরকারকে মোটামুটি আলাদা করে ফেলেছেন। এর মধ্যে সরকারে কয়েকজন মাত্র মন্ত্রী রয়েছেন, যারা আওয়ামী লীগের নেতা আবার মন্ত্রিসভা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। এদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া যারা রয়েছেন তারা হলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা: দীপু মনি ও হাসান মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রাজ্জাক।

এই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে এনামুল হক শামীম, মহিবুল চৌধুরী নওফেল, খালেদ মাহমুদ চৌধুরীসহ প্রতিশ্রুতিশীল নেতারা দলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন। শুধু এই দল এবং সরকারকে আলাদা করা না। খুব পরিকল্পিত ভাবেই দলকে ক্ষমতাবান করছেন এবং দলকে এমন একটায় নিয়ে যেতে চাইছেন যেখানে দল সরকারের ওপর জবাবদিহিতা করতে পারে।

সাম্প্রতিক করোনার সময় এই বিষয়টি সুস্পষ্ট ভাবে উঠেছে। জামালপুরের যে মডেল এই মডেলটি সারা দেশে অনুসরণ করা হচ্ছে। অনেক অনুষ্ঠানগুলোতে এখন দেখা যাচ্ছে মন্ত্রী নন, এমপি নন কিন্তু দলের নেতা, তিনি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি থাকছেন। বিভিন্ন নীতি নির্ধারনি বিষয়ে মন্ত্রীদেরকে পরামর্শ দিচ্ছেন। এই চেক ইন বালেন্সটি আওয়ামী লীগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। আওয়ামী লীগে এখন, সরকারে নেই, এমন কি সংসদে নেই, এমন প্রভাবশালী নেতার সংখ্যা কম নয়। এসমস্ত নেতারা দেলে গুরুত্বপুর্ণ হয়ে উঠছেন। দলের অঙ্গিকার এবং দলের আদর্শনীতি যেন সরকারের মধ্যে প্রতিফলিত হয় সে ব্যাপারে তাদের নজরদারি এবং বক্তব্য বাড়ছে। এর ফলে সরকার এবং দলের মধ্যে চেক ইন ব্যালেন্স তৈরি হচ্ছে।