ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ৬ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে নিয়ে সরকারের নতুন অস্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ ডিসেম্বর ২০২০ শুক্রবার, ০৯:৫৮ পিএম
স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে নিয়ে সরকারের নতুন অস্বস্তি

করোনা সঙ্কটের শুরু থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ে নানারকম সমালোচনা ছিল ‌। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ,সমন্বয়হীনতার বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছিল । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এক ভিডিও কনফারেন্সে পিপিই এবং এন ৯৫ মাস্ক যথাযথভাবে সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছিলেন । আর এ  বাস্তবতায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয় । স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল অন্য মন্ত্রণালয়ে । স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন । সিএমএইচডি তে দেওয়া হয়েছিল নতুন পরিচালক ।সমস্ত পরিবর্তনের ফলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘুরে দাঁড়ায় , গতি আসে মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মে ।

কিন্তু এখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় আবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অস্থিরতা শোনা যাচ্ছে ‌ এবং এই অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান ব্যক্তি স্বয়ং মন্ত্রীর ভূমিকা রয়েছে বলে সরকার নীতিনির্ধারকের কাছে তথ্য এসেছে । আর এটি নিয়ে সরকারের মধ্যে নতুন অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ২০০৯ সালে মন্ত্রীসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি মরহুম মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ছিলেন। সকলের প্রত্যাশা করেছিল যে, প্রতিমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দিবেন এবং ভালো কাজ করবেন ‌। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পরই ডেঙ্গু মোকাবেলার সময় তিনি বিতর্কিত হন এবং সমালোচনায় পড়েন ।

এরপর করোনা মোকাবেলার সময় তার একের পর এক কথাবার্তা এবং পদক্ষেপ সমালোচিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের খোলনলচে পাল্টে ফেলল , মন্ত্রীকে বহাল রেখে ছিলেন এবং প্রত্যাশা করেছিলেন যে নতুন টিমকে নিয়ে মন্ত্রী আগের চেয়ে ভালো কাজ করবেন । কিন্তু অভিযোগ উঠছে যে ,   স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই মন্ত্রণালয়ে বিভক্তি সৃষ্টি করছেন এবং মন্ত্রণালয়ের কাজের গতিকে শ্লথ করার চেষ্টা করছেন ।
সরকারের একাধিক সংস্থা স্বাস্থ্যমন্ত্রী সম্পর্কে যে সমস্ত তথ্য দিয়েছে তাতে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এক ধরনের বিরক্তি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে । সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে , বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী স্বাস্থ্যমন্ত্রী পেশাজীবী দুটি স্বাস্থ্য সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের চারজনের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছেন তাঁর বাসভবনে । ওই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ২৯ নভেম্বর রাতে বিএমএ সভাপতি মুস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এতেসানুল হক চৌধুরী দুলাল , স্বাচিপের সভাপতি ইকবাল আর্সলান এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডাক্তার আব্দুল আজিজ স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক এবং নৈশভোজে মিলিত হন । এই বৈঠকে তারা স্বাস্থ্যসেবা সচিবকে সরিয়ে দেওয়ার উপায় উদ্ভাবন নিয়ে কথাবার্তা বলেন বলে জানা গেছে । একাধিক সংস্থা বলছে যে , স্বাস্থ্য মন্ত্রী স্বাস্থ্য সচিব কে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না । আর এ কারণেই তিনি স্বাস্থ্য সচিবকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য পেশাজীবি সংগঠনগুলোকে ব্যবহার করতে চেয়েছেন ‌। তিনি নিজেই কিছু কর্মকান্ড করে সেই কর্মকাণ্ডের দায়ে স্বাস্থ্যসেবা সচিবের উপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন এমন অভিযোগও উঠেছে ।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, মন্ত্রণালয়ের ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি না করা , মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত না আসা সহ একাধিক কারণে এখন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে সরকারকে । বিশেষ করে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এর সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যদি সমন্বিতভাবে কাজ করতে না পারে তাহলে পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা । আর এই কারণেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নতুন করে প্রশ্নের মুখোমুখি পড়ছে । সরকারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন , যে সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সত্তিকারের নেতা হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আবির্ভূত হওয়ার কথা সেই সময় তিনি বিভিন্ন রকম বিভক্তিমূলক পদক্ষেপের পথে হাঁটছেন ‌ এরকম তথ্য আমাদের কাছে আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে ,প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের দুইজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা এই বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং ভূমিকা কিভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এই সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। আর এই ফলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সম্পর্কে সরকারের মধ্যে নতুন অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে নিয়ে  অস্বস্তি নতুন নয় শুরু থেকেই তিনি বিভিন্ন রকম বিতর্কে মধ্যে জড়িয়ে পড়েছিলেন । এখন নতুন অস্বস্তির পর , বির্তকের পর কি হবে সেটাই দেখার বিষয়!