ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিচারপতি সিনহার যুদ্ধাপরাধী কানেকশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০১৭ রবিবার, ০৮:০০ পিএম
বিচারপতি সিনহার যুদ্ধাপরাধী কানেকশন

প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিন পরের ঘটনা। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে যাবেন। প্রধান বিচারপতির ছুটি অনুমোদন দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। ছুটির ফাইল সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টারের কাছ থেকে আইন মন্ত্রণালয় হয়ে যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। সেখান থেকে বঙ্গভবনে ফাইল যায় রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফাইল যেতেই গোয়েন্দা সংস্থা রিপোর্ট পাঠাল। ব্যক্তিগত সফর হলেও এই সফরে প্রধান বিচারপতির কিছু স্পর্শকাতর বৈঠক হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ফাইল আটকে রাখল। এর মধ্যে প্রধান বিচারপতি সিনহা যোগাযোগ করলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। গোয়েন্দা রিপোর্ট উপেক্ষা করে ছুটি অনুমোদন দিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি ছুটি মঞ্জুর করলেন। লন্ডনে গেলেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

প্রধান বিচারপতির লন্ডনে যাবার আগেই সেখানে ছিলেন আপিল বিভাগের আরেক বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিক। বিচারপতি মানিক লন্ডনে পরিচিত মুখ। সেখানে আইন পেশাতেও যুক্ত। বিচারপতি মানিকই প্রথম খবর পেলেন যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সঙ্গে বিচারপতি সিন্‌হার বৈঠকের। বিচারপতি মানিক ফোন করলেন প্রধান বিচারপতি সিনহাকে। নানা আলাপে সাকা চৌধুরীর আত্মীয়দের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বৈঠকের প্রসঙ্গটিও এলো। প্রধান বিচারপতি স্বীকারও করলেন। এখান থেকেই দুজনের সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হলো।

এর ক’দিন পরই সা. কা. চৌধুরীর ‘ডেথ রেফারেন্স’ এলো আপিল বিভাগে শুনানির জন্য। প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ গঠন করলেন বিচারপতি মানিককে বাদ দিয়েই। এই নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। একটি দৈনিক পত্রিকার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ পর্যন্ত উঠেছে। পরে গোটা দেশ এ সময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত আপিল বিভাগ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রাখে।

ঘটনা এখানেই শেষ হতে পারতো। কিন্তু সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী রায়ের পর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে যুদ্ধপরাধীদের যোগসূত্রের বিষয়টি আবার সামনে চলে এসেছে। তখন জনমতে সা.কা. পরিবারের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষা করতে পারেননি বলেই কি, এখন যুদ্ধপরাধীদের খুশি করতেই ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়? যে রায়ের মাধ্যমে এই সংসদ এবং সরকারের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে?

আর এই প্রশ্নটি বড় করে এসেছে এ কারণে যে, রায়ের পরপরই বিএনপি এবং জামাত বক্তব্য দেয়। বিএনপি-জামাত কি আগে থেকেই জানতো রায়ে কী হতে যাচ্ছে?

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ