ঢাকা, রোববার, ১৩ জুন ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আওয়ামী লীগ থেকে শিখবে বিএনপি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৪:৫৮ পিএম
আওয়ামী লীগ থেকে শিখবে বিএনপি?

আওয়ামী লীগ যখন ইতিহাসে সবচেয়ে সু সময় অতিবাহিত করছে ঠিক তখনই অস্তিত্বের সংকটে বিএনপি। আওয়ামী লীগ টানা ১২ বছর ক্ষমতায়, বিএনপি ক্ষমতার বাইরে ১৪ বছর। ক্ষমতার বাইরে থাকার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, বিএনপি দিকভ্রান্ত, বিভক্ত। একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে শেষ নিঃশ্বাসের অপেক্ষায় দলটি। এই দলের লক্ষ্য অস্পষ্ট, কর্মসূচী হাস্যকর এবং ভবিষ্যত ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত। এরকম পরিস্থিতিতে এই দলটি কি করবে? ক্ষমতার গর্ভে জন্ম নেয়া এই দলটি দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় আসল সংকটে পড়েছে। মাছ যেমন জল ছাড়া বাচে না, তেমনি ক্ষমতাভিত্তিক রাজনীতিতে অভ্যস্ত দলটি এখন করণীয় খুঁজে পাচ্ছে না। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এরকম বাস্তবতায় আওয়ামী লীগই হতে পারে বিএনপির প্রেরণার উৎস। ৭৫ এর ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক ঘটনার পর আওয়ামী লীগ ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিলো। দলের শীর্ষ ৪ নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হাজার হাজার নেতা কর্মীকে গ্রেপ্তার নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়। চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দলটি শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাড়ায়। ৭৫ এর পর অনেকেই মনে করেছিল আওয়ামী লীগ শেষ। কিন্তু তাদের অনুমান এবং ভবিষ্যত বানী সত্য প্রমাণিত হয়নি। তাই, ঐ সময় ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে আওয়ামী লীগের উত্থানই হতে পারে বিএনপির প্রেরণার উৎস। আওয়ামী লীগ যেভাবে হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন করে জয় করেছিল, সেটাই হতে পারে বিএনপির অনুকরণীয়।

কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছে, কয়েকটি বাস্তব কারনে বিএনপি আওয়ামী লীগের মতো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। এরমধ্যে রয়েছে।

১. সৃষ্টির পার্থক্য: আওয়ামী লীগের জন্মই হয়েছে নিপীড়ন, নির্যাতনের মধ্যে। জনগনের অধিকার আদায়েই জন্ম নিয়েছে দলটি। অন্যদিকে বিএনপির জন্ম হয় ক্যান্টনমেন্টে, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। তাই চাইরেও বিএনপি আওয়ামী লীগ হতে পারবে না।

২. নেতৃত্ব: ৭৫ এর বিয়োগান্তক ঘটনার মাত্র ৬ বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে তিনি আপামর কর্মীদের অবিসংবিদিত নেতায় পরিণত হন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে এসে সংগঠনের হাল ধরেন। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্ব সংকট তীব্র। দলের প্রধান দুই নেতা অকার্যকর। তারেক জিয়া ঝুকি নিয়ে দেশে আসার মতো সাহসী নন।

৩. শক্তিশালী তৃণমূল: আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার শক্তিশালী তৃণমূল। সব সংকটে এই তৃণমূলই আওয়ামী লীগকে বাচিয়ে রেখেছে। তারা নির্লোভ, আদর্শবাদী। কিন্তু বিএনপি হলো সুধিবাবাদীদের নিয়ে ক্লাব। এই দলে লোকজন এসেছে কিন্তু পাওয়ার জন্য। ত্যাগ স্বীকার কি তারা জানে না।

৪. আদর্শ: আওয়ামী লীগের একটি সুনির্দিষ্ট আদর্শ আছে। দলটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ^াস করে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে চায়। কিন্তু বিএনপির সামনে কোন আদর্শ নেই। জিয়ার ১৯ দফা বিএনপির শীর্ষ নেতারাও বলতে পারবে না।

৫. জনসম্পৃক্ততা: আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে জনগনকে সাথে নিয়ে। জনগণের ইস্যু গুলোকে সামনে এনে জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করেছে দলটি। কিন্তু বিএনপি কিছুতেই জনসম্পৃক্ত হতে পারছে না। জনগণের ইস্যুকে সামনে আনতে পারছে না।

আর এসব বাস্তবতায়, বিএনপি আওয়ামী লীগ হতে পারছে না, পারবেও না হয়তো।