ঢাকা, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার ৫ কৌশল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৭:০১ পিএম
আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার ৫ কৌশল

টানা ১২ বছর ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশতো বটেই উপমহাদেশে এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি বিরল ঘটনা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি দল দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকলেই মানুষ পরিবর্তনের দিকে ঝুকে, পরিবর্তন চায়। তাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভালো কাজ করেও ক্ষমতায় থাকা এবং জনপ্রিয়তা ধরে রাখা কঠিন। কিন্তু এই কঠিন কাজটিই সহজ ভাবে করেছে আওয়ামী লীগ। কিভাবে এক যুগ ক্ষমতায় টিকে আছে?

টানা ক্ষমতায় থেকেও জনপ্রিয় থাকার কৌশলই বা কি? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার কৌশল ৫টি। এগুলো হলো:

১. জনগণকে উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করা: ২০০৮ এর নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য ছিলো টার্নিং পয়েন্ট। ঐ নির্বাচনের ইশতেহারে আওয়ামী লীগ সময় নিঘন্ট (টাইম বাউন্ড) উন্নয়ন কর্মসূচী ঘোষণা করে। ডিজিটাল বাংলাদেশের একটি রূপ পরিকল্পনা ঘোষণা করে। ক্ষমতায় এসে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অনুযায়ী উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন শুরু করে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই উন্নয়ন কর্মসূচীতে জনগনকে সম্পৃক্ত করে। ফলে ব্যক্তিগত জীবনে মানুষের মধ্যে যেমন উন্নত এবং স্বাচ্ছন্দ্য জীবনের আকাংখা তৈরি হয়, তেমনি সামাজিক ভাবে সমাজে একটি উন্নয়ন চেতনা সৃষ্টি হয়। এরফলে কর্মজাগরণের একটি আবহ তৈরি করতে সক্ষম হয় আওয়ামী লীগ। এতে করে, জনগন জালাও পোড়াও হরতালের রাজনীতিকে বর্জন শুরু করে। ফলে, সরকার বিরোধি আন্দোলন অসম্ভব হয়ে পরেছে এখন।

২. প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক: ২০০৯ সাল থেকেই আওয়ামী লীগ সরকার প্রশাসনকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখে। পে স্কেল দিয়ে বেতন স্কেল বাড়ানো নিয়মিত নিয়োগ ও পদোন্নতির ধারা চালু করে। ফলে, প্রশাসন এই সরকারের উপর আস্থাশীল হয়ে ওঠে। সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বা গোপন গ্রুপিং কমে যায়। প্রশাসনে পদোন্নতি এবং ভালো পোষ্টিং পেতে সরকারের ঘনিষ্ঠ হবার প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

৩.  সেনাবাহিনীতে পেশাদারিত্ব: বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে উচ্চাভিলাষী কিছু সেনাকর্মকর্তা রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের ঘটনা ঘটায়। ৭৫ থেকে ৮২ পর্যন্ত সেনা অভ্যুত্থান ছিলো নিয়মিত বাস্তবতা। এমনকি ২০০৭ সালে ড: ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তত্বাধায়ক সরকারের পেছনেও সেনাবাহিনীর একটি অংশের সমর্থন ছিলো। আওয়ামী লীগ পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে শৃংখলা ফিরিয়ে আনা এবং পেশাদারিত্বের উপর জোর দেয়া। ফলে গত এক দেশকে সেনাবাহিনী রাজনীতি বিযুক্ত হয়ে একটি পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠেছে। রাজনীতিতে সেনাবাহনীর হস্তক্ষেপ না করার ফলে ষড়যন্ত্র বা অন্য পন্থায় আওয়ামীলীগকে সরানো কঠিন হয়ে পরেছে।

৪. বিরোধি দলকে নিয়ন্ত্রনে রাখার কৌশল: গত ১২ বছরে দেশের বিরোধি দলগুলোর লাগাম সরকারের হাতেই ছিলো। বড় ধরনের সরকার বিরোধি আন্দোলন হতে পারেনি। বিরোধি রাজনীতির বদলে আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের রাজনীতিকে বিকষিত করে। তাছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যু আওয়ামী লীগকে বাড়তি সুবিধা দেয়।
৫. দলের শুদ্ধি অভিযান: টানা ক্ষমতায় থেকেও আওয়ামী লীগ দলে দানব তৈরী হতে দেয়নি। নানা অনিয়মের অভিযোগে অনেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগ পশ্চিম বঙ্গের বামফ্রন্টের মতো সরকারের চেয়েও বড় হয়নি।

মূলত: এই পাচ কৌশলেই আওয়ামী লীগ বড় ধরনের চাপ ছাড়াই ক্ষমতায় টিকে আছে।