ঢাকা, বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১, ৭ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

`অপরাধ প্রবণতা রোধে সন্তানদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করতে হবে`

জুয়েল খান
প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২১ বুধবার, ০৪:০০ পিএম
`অপরাধ প্রবণতা রোধে সন্তানদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করতে হবে`

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেছেন, কিশোর অপরাধের প্রবণতা প্রচণ্ডভাবে বেড়েছে। এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বাসার কর্মকাণ্ড মনিটরিং করতে হবে।

এলিনা খান বলেন, কিশোর অপরাধের প্রবণতা দুইভাবে বেড়েছে। কিশোর গ্যাং হয়ে প্রকাশ্যে অপরাধে জড়ানো। অন্যদিকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অপ্রকাশ্যে নানা ধরনের অপরাধে জড়াচ্ছে। তাদের অপরাধ বাইরে প্রকাশ হচ্ছে না কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারা বাজে ধরনের অপরাধের দিকে ঝুঁকছে। শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত দুই পার্যায়ের কিশোররাই অপরাধ প্রবণতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। আর এর সর্বশেষ উদাহরণ কলাবাগানের ঘটনা।

তিনি বলেন, এই মূহুর্তে আমাদের লোকসংখ্যার তুলনায় কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার কারণে কিশোররা শটকটে আয়ের জন্য অপরাধের পথে পা বাড়াচ্ছে আর এর সাতে যুক্ত হচ্ছে মাদক। এ ছাড়া এই বয়সে তারা পরিবারের পরিবেশ সেভাবে পাচ্ছে না। আবার যারা স্কুল-কলেজে যাচ্ছে তাদের পরিবার নিজেদের নিয়ে এতো ব্যস্ত থাকেন যে সন্তানরা কি করছে সে বিষয়ে খোঁজ খবর রাখতে পারে না। ফলে এই সময়ে সন্তানরা নানা ধরনের অপরাধে জড়াচ্ছে। অনকে সময় অল্প বয়সী এসব সন্তানেরা এমন কিছু অপরাধে জড়ায় যা ভাবলেই গা শিউরে ওঠে।

এলিনা খান বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সন্তানেরা বাসায় বসে কি করছে এসব বিষয়ে পরিবারের ধারনাই থাকে না। যেমন সন্তান যখন কম্পিউটারের সামনে বসে তখন অনেক অশালীন ছবি কিংবা ভিডিও সামনে চলে আসে যা দেখে কোমল মনে দাগ কাটে আর এর থেকে মনের মধ্যে সুপ্ত বাসনা তৈরি হয় এবং সেই বাসনা পূরণ করার জন্য অল্প বয়সেই শারীরিক সম্পর্কের দিকে ধাবিত হয়।  এভাবেই আস্তে আস্তে কিশোর বয়সে এসব অপরাধের জড়ায় তারা। আর বিষয়টি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা এখন নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে পরবর্তী প্রজন্ম হুমকির মুখে পড়ছে। এজন্য আমরা সন্তান কি করছে, কার সাথে মিশছে বা সে বিপথগামী হচ্ছে কি না সেসব বিষয়ে পরিবারকে অবশ্য গুরুত্ব সহকারে নজর রাখতে হবে। সন্তান একবার বড় অপরাধ করলে তখর পুরো পরিবার বিপদের মুখে পড়বে।

কিশোর অপরাধ প্রবণতা রোধে সামগ্রিকভাবে উদ্যোগ নিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক দূর গড়িয়েছে কিশোর অপরাধের বিস্তার। এখনই ঠেকাতে হবে না হলে সামনে খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা আসবে যখন কারও সন্তানই আর নিরাপদ হয়ে বেড়ে উঠবে না। এক্ষেত্রে সন্তানদের সব সময় মনিটরিং করতে হবে।