ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ২০ ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

চীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত বন্ধু: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২১ বুধবার, ০৮:০২ পিএম
চীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত বন্ধু: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: মোঃ এনামুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে চীন পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত বন্ধু । পদ্মা সেতুসহ অনেক বড় বড় স্থাপনা নির্মাণে চায়না কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে আমাদের পাশে রয়েছে । বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক  রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে প্রত্যাবর্তনে চীন  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।

 প্রতিমন্ত্রী আজ ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত মিয়ানমার নাগরিক রোহিঙ্গাদের জন্য চায়না সরকার প্রদত্ত জরুরী চাল সহায়তা বিষয়ক অনলাইন সার্টিফিকেট স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন ।

 প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে এক মিলিয়নেরও  বেশি মায়ানমার নাগরিক রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ সরকার আশ্রয় দিয়েছে । তাদেরকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করানো যায় ততই সবার জন্য মঙ্গল ।

 অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন,  ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের দেয়া তালিকা থেকে ৪১ হাজার ৭১৯ জন রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করেছে মিয়ানমার। এই তালিকা ধরে আগামী মার্চ-এপ্রিলে প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা যায় ।

 চলমান আলোচনা অনুযায়ী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের সচিব পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সব বিষয়ে পজিটিভ আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার রিয়ালাইজ করেছে তাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া দরকার। বাংলাদেশও ফিল করে তারা (রোহিঙ্গা) সম্মানের সঙ্গে নাগরিক অধিকার নিয়ে ফিরে যাক। চীন সরকারও চায় বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে তাদের ফিরে যাওয়া উচিত।’তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের গ্রাম ভিত্তিক রিপ্যাট্রিয়েশনটা চায়। কিন্তু মিয়ানমার সরকার চায় বাংলাদেশ সরকার যে তালিকা দিয়েছে এবং যে তালিকাটা তারা ভেরিফাইড করেছে সেই তালিকা অনুযায়ী ফেরত নিতে চায়। এই জায়গায় গতকালকের মিটিংটি শেষ হয়েছে। আশা করি পরবর্তী মিটিংয়ে আরও অ্যামিকেবল সলিউশন আসবে` ।‘আমরা গতকাল চীন ও মিয়ানমারের যে সদিচ্ছা দেখেছি, সবাই আশা করছে, তিনটি পক্ষই আশা করছে- আগামী মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে প্রত্যাবাসানটা শুরু হবে আমরা একটা ভাল ফলাফলের অপেক্ষায় আছি।’

 প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের যেমন চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, একইভাবে মিয়ানমারের সঙ্গেও তাদের (চীনের) বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, মিয়ানমারের উন্নয়নে চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। সেই জায়গায় চীন যদি সত্যিকারভাবে চায় সেক্ষেত্রে অবশ্যই তারা মিয়ানমার সরকারকে প্রভাবিত করতে পারবে।’

 এনামুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য ও গতকালের মিটিংয়ের পরিপ্রেক্ষিতে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, তাদের শতভাগ ইচ্ছা বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সেই সম্পর্ক তারা বজায় রাখবেন, বাংলাদেশের সকল সমস্যা সমাধানের জন্য তারা আমাদের পাশে থাকবেন। স্পেশালি রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে তারা কাজ করে যাবেন।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৮ লাখ ২৯ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে এনামুর রহমান বলেন, ‘সেখানে থেকে তারা (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) সাড়ে ৫ লাখ রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমার সরকারের কাছে পাঠিয়েছে। মিয়ানমার সরকার ৪১ হাজার ৭১৯ জনকে ভেরিফাই করেছে। তাদের নেয়ার কথা তারা জানিয়েছে।’

 হস্তান্তর চুক্তির আওতায় রোহিঙ্গাদের জন্য চীন সরকার ২ হাজার ৫৫৪ মেট্রিক টন চাল দিয়েছে জানিয়ে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে এই চাল আমরা পেয়েছি। চাল এখনও রোহিঙ্গাদের বিতরণ করা হচ্ছে। এজন্য আজকে একটি সাইনিং হয়েছে।’

 অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন শরণার্থী প্রত্যাবর্তন কমিশনার (অতি: সচিব) শাহ রেজওয়ান হায়াত, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্মসচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক দেলোয়ার হোসেন ।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোহসিন এবং চীন সরকারের পক্ষে বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত Li Jiming স্বাক্ষর করেন ।