ঢাকা, রোববার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিএনপি মহাসচিব পরিবর্তন হচ্ছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার, ০৮:০০ পিএম
বিএনপি মহাসচিব পরিবর্তন হচ্ছে?

বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর কি তাঁর পদ থেকে সরে যাচ্ছেন? বিএনপি কি নতুন কাউকে মহাসচিব করতে যাচ্ছে?- লন্ডন থেকে এরকম বার্তা এখন বিএনপির গুঞ্জনের প্রধান বিষয়। বিএনপির বর্তমান মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে তারেক জিয়ার শীতল সম্পর্কের বিষয়টি সবাই জানে। বিশেষ করে ২০১৩-১৪ এর আন্দোলনে তাঁর ভূমিকায় তারেক ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। এ ব্যাপারে তারেকের সঙ্গে শমসের মবিন চৌধুরীর কথোপকথন সোশাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে। লন্ডনে তারেকের কতৃত্বে বিএনপি করায়ত্ব হবার পর বিএনপিতে মহাসচিব বদলের গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

বর্তমান মহাসচিব আন্দোলনমুখী নন, সংগঠনকে গোছাতে ব্যর্থ হয়েছেন এমন অভিযোগ তারেক জিয়া প্রকাশ্যেই করেন। এমনকি এবার বেগম জিয়ার সঙ্গে দলের মহাসচিবের লন্ডনে যাবার কথা ছিল। কিন্তু তারেক জিয়ার অনাগ্রহেই শেষপর্যন্ত ফখরুলের লন্ডন যাওয়া হয়নি। তারেক জিয়া এরকম অভিযোগ করেছেন যে, ফখরুল ইসলাম আলমগীর গোপনে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। বিশেষ করে গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর জামিনের বিষয়টিকে তারেক সন্দেহের চোখেই দেখেছেন। এরপরও মায়ের (বেগম জিয়া) ইচ্ছায় মহাসচিব হিসেবে ফখরুলকে মেনে নিয়েছিলেন। এখন তারেক নতুন বিএনপিতে মহাসচিব পরির্তন চান। তারেক জিয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ আছে, ছাত্রদল, যুবদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের। তাঁদের তারেক মহাসচিব বদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

নতুন মহাসচিবের ব্যাপারে তারেক জিয়ার দুটি ভাবনা রয়েছে। একটি হলো, সিনিয়র নেতাদের মধ্যে কাউকে মহাসচিব করা। এই তালিকায় তারেকের পছন্দ ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন অথবা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গত কিছুদিন ধরে ড. খন্দকার মোশারফের সঙ্গে তারেক জিয়ার নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে বলে জানা গেছে। তারেক জিয়ার নির্দেশেই, ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন ২১ আগস্ট সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছেন। ২০০১-০৬ সালে ড. খন্দকার মোশারফ ছিলেন তারেক বিরোধীদের প্রধান নেতা। গত কয়েক বছরে দুজনের সম্পর্ক অনেক ভালো হয়েছে। ড. মোশারফ তারেক জিয়ার নেতৃত্ব মেনে নিয়েছেন। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মুষ্টিমেয় দুএকজন নেতার মধ্যে অন্যতম যাঁকে তারেক জিয়া কিছুটা সম্মান দেখান।

মহাসচিবের ব্যাপারে তারেকের দ্বিতীয় চিন্তা হলো, রাস্তার আন্দোলনে পারদর্শী কোনো তরুণ নেতা। হাবিব-উন-নবী সোহেলের মতো মাঠের কাউকে তিনি মহাসচিব করতে চান। ১৩-১৪ সালে রাজপথের আন্দোলন সফল হতো যদি ঢাকায় নূন্যতম আন্দোলন করা যেত- এমনটাই মনে করেন তারেক জিয়ার অনুসারীরা। তাঁদের মতে, আবার আন্দোলনে যেতে হলে, ‘রাজপথের নির্ভীক কাউকেই মহাসচিব করা উচিত। এ ব্যাপারেও তারেক ঢাকার অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে, বিষয় গুলো পরিষ্কার হবে আরও কয়েকদিনের মধ্যে। এর মধ্যে আগামী নির্বাচনে তারেক জিয়া তাঁর দলের কৌশল চূড়ান্ত করেবেন।


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ