ঢাকা, রোববার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার: এবার ইকোনমিস্টে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ শুক্রবার, ১০:০০ পিএম
বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার: এবার ইকোনমিস্টে

বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচারে নেমেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। আল জাজিরা যেমন বাংলাদেশকে উদ্দেশ্য করে এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য করে ‘অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টারস ম্যান’ নামক তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছিল ঠিক তেমনি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে অসত্য এবং বানোয়াট তথ্য দিয়ে আরো একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ইকোনমিস্ট। দ্য ইকোনমিস্টের ১৩ ফেব্রুয়ারির সংখ্যায় এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।  এই সংঘবদ্ধ চক্রটি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংগঠনকে টার্গেট করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের অসত্য সংবাদ প্রকাশ করে যাচ্ছে যা একেবারেই ভিত্তিহীন। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা। যারা দেশের ভাবমূর্তি বিশ্বের দরবারে ক্ষুন্ন করার পায়তারায় নেমেছে।  আর সেই ষড়যন্ত্রেরই আর একটি অংশ হলো বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে জড়িয়ে ইকোনমিস্টের এই প্রতিবেদন।

প্রতিবেদনে তারা কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরার প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছে, হত্যার দায়ে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের পলাতক দুই ভাইকে সেনাপ্রধান শুধু লুকিয়ে থাকতে সহযোগীতাই করেনি বরং তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করেছে, আর এ ঘটনার কোনো তদন্ত বাংলাদেশ সরকার করে নি।  এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনাপ্রধানের এই দুই পলাতক ভাইদের সম্পর্কে অবহিত ছিলেন এবং এ বিষয়ে তিনি কোনো গুরুত্ব দেননি।

এই বানোয়াট প্রতিবেদনে তারা আরও উল্লেখ করেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে এক অদ্ভুত সম্পর্ক রয়েছে।  ১৯৭৫ সালে একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার পিতা বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের বেশিরভাগ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, সেই সেনারাই তাকে প্রথম রাজনীতিতে নিয়ে এসেছিল। সেই থেকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে তিনি সেনাবাহিনীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য দু`টি পরস্পরবিরোধী প্রান্তকে অনুসরণ করেছিলেন, যাতে তাকে কেউ পরাজিত করতে না পারে।

এছাড়াও প্রতাবেদনটিতে বলা হয়, শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ তার প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর চেয়ে সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে কম জনপ্রিয় ছিল।  কারণ সেনা অফিসার এবং যুদ্ধের নায়ক জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং এখন তার নেতৃত্বে রয়েছেন তারই স্ত্রী খালেদা জিয়া।  তবুও শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বারে মতো ক্ষমতায় আসেন এবং তিনি ধীরে ধীরে সশস্ত্র বাহিনীতে বিএনপির সমর্থনকে মুছে ফেলেন এবং বর্তমান সেনাপ্রধান এবং আল জাজিরার প্রধান অভিযুক্ত আজিজ আহমেদের মতো অনুগতদের পদোন্নতি দিয়েছেন। একই সাথে, তিনি সশস্ত্র বাহিনীর বেতনও অনেকগুণে বৃদ্ধি করেছেন।  সৈন্যদের নিকটাত্মীয়রা এখন সামরিক হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারেন, যা দেশের সেরা হিসাবে বিবেচিত হয়। ২০১৫ সালে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদেরও দ্বিগুণ বেতন প্রদান করেছিলেন।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে সরকারের ব্যয় ২০০৮ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ১২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও কোনও স্পষ্ট সামরিক হুমকি ছিল না। সেনাবাহিনী চাইনিজ ফাইটার জেট এবং ট্যাঙ্ক কিনেছে এবং বেশ কয়েকটি বড় নতুন ঘাঁটি তৈরি করেছে, যেমন দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা পটুয়াখালীতে ৬২০ হেক্টর জায়গার উপরে একটি, যেটি প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে উদ্বোধন করে বলে জানানো হয় প্রতিবেদনটিতে।

বানোয়াট এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার প্রথম দশ বছরে সশস্ত্র বাহিনী তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থও ব্যাপকভাবে প্রসারিত করেছে, এরমধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সেনা কল্যাণ ট্রাস্ট (এডাব্লিউটি) ও সেনা কল্যাণ সংস্থা (এসকেএস)।  সৈন্য ও প্রবীণদের কল্যাণের জন্য এই দুটি প্রতিষ্ঠান সেনাবাহিনী থেকে প্রযুক্তিগতভাবে স্বতন্ত্র, তবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত হয়। এর ওয়েবসাইট অনুসারে, একা এসকেএস এর ৬০ বিলিয়ন টাকার বেশি (৭০০ মিলিয়ন ডলার) এর সম্পদ রয়েছে। এডাব্লিউটি এর এ সম্পদের মধ্যে রয়েছে, বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল হোটেল এবং একটি ফার্ম যারা জাতীয় নির্বাচনে যে ভোটদানের মেশিন ব্যবহার করা হয় সেগুলো তৈরি করে।  চুক্তির জন্য কোনও দরপত্র ছিল না; পরিদর্শক দলগুলি এবং বিরোধী রাজনীতিকরা অভিযোগ করেছেন মেশিনগুলির নকশাই ভোট-কারচুপিকে সহজ করে তুলেছে।

সশস্ত্র বাহিনী সরকারের বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প পরিচালনা করে যাকে আল জাজিরার পক্ষ থেকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। উদাহরণস্বরূপ, প্রত্যন্ত দ্বীপে শরণার্থী শিবির তৈরি করতে নৌবাহিনী ৩০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিল।  রাজধানী ঢাকার মূল বিমানবন্দর সম্প্রসারণের দায়িত্বে রয়েছে বিমান বাহিনী। সেনাবাহিনী হাইওয়ে নির্মাণ পরিচালনা করছে বলে এ প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সিনিয়র অফিসারদের স্ব-সমৃদ্ধ করার জন্য স্পষ্ট সুযোগও দেওয়া হয়েছে, ঢাকায় জমি দেওয়া হয়েছে। তারা সকলেই এমন প্লট পান যার উপরে তারা সাত তলা পর্যন্ত একটি বিল্ডিং নির্মাণ করেন।  তত্ত্বগতভাবে, এটি আবাসন ভাতার একটি রূপ; এর মাধ্যমে অফিসাররা কমপক্ষে কয়েকটি ফ্ল্যাট বিপুল টাকায় বিক্রি করে। অনেক চাকরিজীবী বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ভালো সরকারি চাকরি দেওয়া হয়: উদাহরণস্বরূপ, জাতীয় বন্দর কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বদানকারী সংস্থা বা চা চাষ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। এমনকি নিম্ন স্তরের কর্মচারিরা ভালো পারিশ্রমিক উপভোগ করে: সরকার তাদের শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েন করে প্রতিটি বাংলাদেশি সৈন্যের জন্য প্রায় ১০,০০০ ডলার পাচ্ছে।

এই অসত্য প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এই প্রশ্রয় দেওয়া কাজ করেছে। যদিও সেনাবাহিনী তিনবার ক্ষমতা দখল করেছে এবং স্বাধীনতার পর থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৫ বছর দেশ চালিয়েছে, কিন্তু এরা শেখ হাসিনাকে থাকতে দিয়েছে।  

এই বানোয়াট প্রতিবেদনের ফলে এটি প্রমাণ হয় যে, দ্য ইকোনমিস্টের মতো আন্তর্জাতিক মানের গণমাধ্যমগুলো টাকার বিনিময়ে এবং সংঘবদ্ধ চক্রের এজেন্ডা বাস্তাবায়নের কাজে নেমেছে। তাদের প্রধান কাজই এখন হয়ে উঠেছে বাংলাদেশকে যেকোনােভাবে খাটো করা। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এই ষড়যন্ত্রের ঘাের বিরোধী তা আল জাজিরার প্রতিবেদন প্রকাশের পরে মানুষের প্রতিক্রিয়াতেই বোঝা গিয়েছে।  ফলে দ্য ইকোনমিস্টের এই দূরভিসন্ধিমূলক প্রতিবেদন মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে।