ঢাকা, রোববার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সোমবার, ০৮:৫৭ পিএম
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের উদ্যোগ

সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে ভিন্ন চিন্তা করছে। সরকার মনে করছে যে, ২০১৮ সালে তথ্য প্রযুক্তিতে নানারকম অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, অপপ্রচার, মিথ্যাচার বন্ধের জন্য এই আইনটি প্রবর্তিত হয়েছিল। সরকার এখন মনে করছে যে, এই আইনে কিছু শব্দ চয়ন এবং অস্পষ্টতা রয়েছে, যে কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এই আইন প্রবর্তিত হওয়ার পর থেকেই দেশের সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আপত্তি তুলছে। যদিও সরকার বলছে যে, সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধের জন্য এই আইনটি করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ডয়েচে ভেলের এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী স্বীকার করেছেন যে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে এবং শব্দচয়নে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। যে কারণে এটি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি উঠছে। যোগাযোগ করা হলে ড. গওহর রিজভী স্বীকার করেন যে, তিনি ডয়েচে ভেলেতে এ কথা বলেছেন এবং এই আইনের কিছু কিছু বিষয় সংশোধিত হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, গহর রিজভী এখন এই আইনের যে স্পর্শকাতর কিছু আপত্তির দিক তা পরিবর্তন করার জন্য সরকারের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

গতকাল তিনি আইনমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়েছেন এবং সেখানে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেন। সরকার মনে করছে যে, বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন মহল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আপত্তি করছে। সংবাদকর্মীরা মনে করছে যে, মুক্ত গণমাধ্যম এর পথে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একটি বড় ধরনের বাধা। যদিও সরকার বিভিন্ন সময় বলে আসছে যে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য কোনো বাধা নয়। বরং যারা ডিজিটাল প্লাটফর্মে বিভিন্ন অন্যায়-অনিয়ম করছে তাদেরকে বন্ধ করার জন্যই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মূল উৎসটি হলো বিএনপির আমলে। তখন ‘আইসিটি অ্যাক্ট’ নামে একটি অ্যাক্ট তৈরি করা হয়েছিল। যে আইনটি সংশোধন আকারে ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছিল। কিন্তু এই আইনটি ২০১৮ সালে প্রবর্তিত হওয়ার পর বেশকিছু অপপ্রয়োগ লক্ষ করা গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী এই আইনে হয়রানির স্বীকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটেই ড. গওহর রিজভী চাইছেন যে, আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরো সতর্কতা এবং যাচাই-বাছাই করার আগে যেনো কেউ হয়রানির শিকার না হয়, সেই ব্যাপারে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। তবে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে তার কথার ফলাফল কি, সে সম্পর্কে কোনকিছু জানা যায়নি। তবে একাধিক সূত্র বলছে যে, এই আইনের বিষয়টি নিয়ে খুব শীঘ্রই আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং ড. গওহর রিজভী একটি বৈঠকে মিলিত হবেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তিদের সঙ্গেও তারা মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে। গণমাধ্যম, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল যেন এই আইনটিকে ইস্যু করে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে না করতে পারে সে জন্যই আইনটিতে কিছু বিষয় পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে সরকার। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সম্পর্কে সরকারের একটি অংশ মনে করছে যে, আইনটি মৌলিক ঠিকই আছে, কিন্তু কিছু কিছু শব্দ বাক্য প্রয়োগের ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে। যে কারণে এ ধরনের বিভ্রান্তিগুলো হচ্ছে সেটি সংশোধনের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব বলেও তারা মনে করছে।