ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ৯ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ শুক্রবার, ০৭:০৪ পিএম
খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে প্রধানমন্ত্রী

খাদ্যে ভেজাল সারাদেশে একটি খারাপ অবস্থায় চলে গিয়েছে। সরকারের নানা সদিচ্ছা থাকলেও খাদ্যে ভেজাল ঠেকানোই যাচ্ছে না। ফলে এবার কঠোর পদক্ষেপের দিকে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এর সাথে সংশ্লিষ্টদের খাদ্যে ভেজাল কঠোর হাতে দমনের নির্দেশনা দিয়েছেন।  তিনি ঐ অনুষ্ঠানে বলেছেন, যারা ব্যবসা করতে চায় বা ব্যবসা করছে, দুই পয়সা বেশি কামাই করার জন্য, তারা এই ভেজাল দিতে থাকে, বা পচা-গন্ধযুক্ত খাবার আবার ব্যবহার করে। এইভাবে ভেজাল দিয়ে এবং লাভের জন্য মানুষের ক্ষতি করবেন না।`  

এদিকে প্রধানমন্ত্রী খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির পাশপাশি যারা এ কাজ করছেন তাদেরও সতর্ক হতে নির্দেশ দিয়েছেন।  ফলে বোঝাই যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। তিনি এ বিষয়টি আগেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছেন এবং এখনাে দেখছেন। তিনি বলেছেন, নিরাপদ খাদ্যের জন্য কেবল ল্যাবরেটরি টেস্ট করলেই হবে না, সেই সঙ্গে সুষম খাদ্য কিভাবে গ্রহণ করতে হবে তা প্রচার করতে হবে।

বাংলাদেশে ভোগ্যপণ্যেও ভেজাল চরম আকার ধারণ করেছে৷ শুধু ভোগ্যপণ্য নয়, শিশু খাদ্য, প্রসাধন সামগ্রী, এমনকি জীবন রক্ষাকারী ওষুধেও ভেজাল৷ প্রতিবছর প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে৷ দেশের বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্য টাটকা বা সতেজ রাখার জন্য ফরমালি ব্যবহার করা হচ্ছে। যেটা মানুষের শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

১৯৯৪ সালে আমেরিকার এনভায়রনমেন্ট প্রটেকশন এজেন্সির প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয় যে, ফরমালিন ফুসফুস ও গলবিল এলাকায় ক্যান্সার সৃষ্টি করে। ২০০৪ সালের ১ অক্টোবর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গলবিল এলাকায় ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য ফরমালিনকে দায়ি করে। টেক্সটাইল কালারগুলো খাদ্য ও পানীয়ের সঙ্গে মিশে শরীরে প্রবেশের পর এমন কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেই যার ক্ষতি করে না। তবে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান ক্ষতিগুলো হয় আমাদের লিভার, কিডনি, হৃৎপিন্ড ও অস্থিমজ্জার। ধীরে ধীরে এগুলো নষ্ট হয়ে যায়। বাচ্চা ও বৃদ্ধদের বেলায় নষ্ট হয় তাড়াতাড়ি, তরুণদের কিছুটা দেরিতে।

খাদ্যপণ্য ভেজালের কারণেই দেশে বিভিন্ন রকমের ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, কিডনি ফেলিউর, হৃদযন্ত্রের অসুখ, হাঁপানি এগুলো অনেক বেড়ে যাচ্ছে। আর আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে রোগীদের লম্বা লাইন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের ‘বিষাক্ত খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি’ শীর্ষক সেমিনারে বলা হয়, শুধু ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ লোক ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার, কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ। এ ছাড়া গর্ভবতী মায়ের শারীরিক জটিলতাসহ গর্ভজাত বিকলাঙ্গ শিশুর সংখ্যা দেশে প্রায় ১৫ লাখ।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সংশ্লিষ্টরা ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযান চালানোর ব্যাপারে তৎপরতা গ্রহণ করছে। ফলে আশা করা যায় খাদ্যে ভেজাল অনেকাংশে কমে আসবে।