ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিন খালেদা জিয়া কোথায় ছিলেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৯:৫৭ পিএম
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিন খালেদা জিয়া কোথায় ছিলেন?

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। ২০০৯ সালের এই দিনে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। পিলখানা বিদ্রোহ নামে এই ঘটনা ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। এই ঘটনার বিচার শুরু হয়েছে। যারা এই ঘটনার নেপথ্যে ছিল এবং এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে, এখন তা আপীল বিভাগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। কিন্তু এই ঘটনায় যারা নেপথ্যে ছিল, সেই নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের এখন পর্যন্ত চিহ্নিত করা যায়নি।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সকালে কিছু কিছু ঘটনা এই ষড়যন্ত্রেরই ইঙ্গিত বহন করে। ঐ সময় বেগম খালেদা জিয়া থাকতেন ক্যান্টনমেন্টের ৬ মইনুল হোসেন রোডের বাসভবনে। ঐ দিন ভোরবেলা বিডিআর বিদ্রোহ শুরুর আগে বেগম খালেদা জিয়া তার বাসভবন থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন কালো কাঁচে ঘেরা গাড়িতে করে। বেগম খালেদা জিয়া সেই সময় কেন পালিয়ে গিয়েছিলেন সেই রহস্যের এখনো কোন কিনারা হয়নি। অনেকেই মনে করেন যে ২০০৮ এর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠিত হয়েছিল এবং আওয়ামী লীগ সরকার বিপুল কর্মসূচি নিয় দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিল। অনেকের ধারণা যে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের উদ্দেশ্যেই পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির অনেক নেতারাই এই ঘটনাটির সম্পর্কে জানতেন। এই ঘটনাকে অনেকেই ৭৫ এর ১৫ আগস্টের সঙ্গে তুলনা করেন। ৭৫ এর ১৫ আগস্টের ঘটনা যেমন জিয়াউর রহমান জানতেন কিন্তু তারপরও তিনি নীরব ছিলেন। ঠিক তেমনিভাবে পিলখানার ঘটনাটিও খালেদা জিয়া জানতেন এবং এই কারণেই তিনি তার বাসা থেকে চলে গিয়েছিলেন।

কারো কারো মতে এই ঘটনার মূল পরিকল্পনা ছিল যে, পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে একটি সেনা বিদ্রোহের পরিস্থিতি তৈরি করা হবে এবং তার মাধ্যমে সদ্য নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি তখনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে গণভবনে উঠেননি। তিনি সেই সময় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ছিলেন। পিলখানা থেকে যমুনার দূরত্ব খুবই কম ছিল। এই ঘটনায় যে পরিমাণ উত্তেজনা এবং আবেগ সৃষ্টি হয়েছিল তাতে সেনা বিদ্রোহ কোন অলীক কল্পনা ছিলনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা, দূরদৃষ্টি এবং এই ঘটনার পর তিনি যখন ক্যান্টনমেন্টে একা যেয়ে সেনা কর্মকর্তাদের সাথে সেনাকুঞ্জে মিলিত হন, তার মাধ্যমে ক্ষোভ, অসন্তোষ, আবেগ, অনুভূতি সেটাকে তিনি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হন। এভাবেই একটি নির্বাচিত সরকার উৎখাতের যে ষড়যন্ত্র, সেই ষড়যন্ত্র ভেস্তে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে যেমন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়নি, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার হয়েছে কিন্তু রহস্য উন্মোচিত হয়নি ঠিক তেমনিভাবে পিলখানা বিদ্রোহের ঘটনার বিচার হচ্ছে কিন্তু এর রহস্য উন্মোচনের কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।