ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের উদ্যােগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ রবিবার, ০৯:৫৮ পিএম
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের উদ্যােগ

সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু আপত্তিকর, স্পর্শকাতর বিষয় সংশোধনের উদ্যােগ গ্রহণ করেছে এবং এই কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। ২০১৮ সালে ০৮ অক্টোবর পাশ হওয়া এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মোট ৬২টি টি ধারা রয়েছে। এরমধ্যে ১৪টি ধারা নিয়ে সম্পাদক পরিষদ আপত্তি প্রকাশ করেছিলো। এছাড়াও অন্যান্য মহল থেকেও বিভিন্ন ধারাগুলি নিয়ে আপত্তি তুলে ধরা হয়েছিলো। আইন মন্ত্রণালয় এখন প্রাথমিক কাজ শুরু করছে। আইন মন্ত্রণালয় সেই সকল ধারাগুলোকে বিশ্লেষণ করছে যে ধারাগুলোর মাধ্যমে আইনটির অপপ্রয়োগের সুযোগ রয়েছে এবং জামিন অযোগ্যতার বিষয়গুলোও বিবেচনা করছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে যে, একবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ শুরু করা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।  দ্বিতীয় পর্যায়ে আইন মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয়কে নিয়ে একটি বৈঠক করবে এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের কাছ থেকে মতামত গ্রহণ করা হবে।  আইন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে যে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলেরও এই আইন নিয়ে কিছু উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা রয়েছে সেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কথাও তারা শুনবে। সকল মহলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এই আইনের যে ধারাগুলো সংশোধন করা দরকার সেই ধারাগুলো সংশোধন বা পরিমার্জন করা হবে।  তবে আইন মন্ত্রণালয় থেকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থাকবে এবং এটি বাতিল করার কোনো উদ্যোগ নেই। তবে আইনটির মাধ্যমে হয়রানির যেনো কোনো সুযোগ না হয় সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

সম্পাদক পরিষদ পক্ষ থেকে এই আইনের ৪২ ধারা যেখানে পরোয়ানার মাধ্যমে তল্লাশি ও জব্দ, ৪৩ ধারা যেখানে বলা হয়েছে পরোয়ানা ব্যতিরেকে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের কথা বলা হয়েছে। এগুলোসহ বেশ কিছু ধারা সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। তবে আইন মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, এইসব রেখেও শুধুমাত্র জামিনযোগ্যতা এবং অপরাধের আমলযোগ্যতা এবং জামিনযোগ্যতার বিষয়টি যদি সংশোধন করা যায় তাহলে এই আইনটি সহজলভ্য হবে। একজন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি আদালত থেকে জামিন পান এবং তার মামলা জলতে থাকে তাহলে এটির অপপ্রয়োগের সুযোগ কমবে বলে আইন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র মনে করছে। আর এখানে এই আইনের ৫৩ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, ধারার ১৭, ১৯, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৬, ২৭, ২৮, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ এ উল্লেখিত অপরাধসমূহ আমলযোগ্য ও অ-জামিনযোগ্য হইবে। এই ধারাতেই গ্রেফতার হয়ে দেখা যাচ্ছে যে মামলাটি বিচারাধীন থাকছে এবং কোনো নিষ্পত্তি হচ্ছে না এবং জামিন হচ্ছে না।

ঠিক এমনটিই ঘটেছিল লেখত মুশতাক আহমেদের ক্ষেত্রে। অথচ এই আইনেই যে তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে সেখানে সুস্পষ্টভাবে এই আইনের ৪০ ধারার (ক) তে বলা হয়েছে যে, কোনো অপরাধ তদন্তের দায়িত্ব প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত কার্য সম্পন্ন করিবেন। ৪০ ধারার (খ) তে বলা হয়েছে, দফা (ক) এর অধীনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত কার্য সম্পন্ন করিতে ব্যর্থ হইলে তিনি, তাহার নিয়ন্ত্রণকারি অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে, তদন্তের সময়সীমা অতিরিক্ত ১৫ দিন বৃদ্ধি করিতে পারিবেন। ৪০ ধারার (গ) তে বলা হয়েছে, দফা (খ) এর অধীন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো তদন্ত কার্য সম্পন্ন করিতে ব্যর্থ হইলে তিনি উহার কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করিবেন, এবং ট্রাইব্যুনালের অনুমতিক্রমে, পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করিবেন।  অর্থাৎ ১০৫ দিনে মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ হওয়ার কথা।

তবে ৪০ এ (২) উপধারায় বলা হয়েছে যে, উপ-ধারা (১) এর অধীনে তদন্তকারি অফিসার কোনো তদন্ত কার্য সম্পন্ন করিতে ব্যর্থ হইলে ট্রাইব্যুনাল তদন্তের সময়সীমা, যুক্তিসঙ্গত সময় পর্যন্ত, বৃদ্ধি করিতে পারিবে।  যারা এটি নিয়ে কাজ করছেন তারা মনে করছেন যে, দীর্ঘসূত্রীতা ন্যায় বিচারের পথে একটি বাধা কাজেই এই সময়ের মধ্যে যদি তদন্ত শেষ না হয় তখন তাকে জামিনের ব্যবস্থা দেয়া যায় কিনা সেটি তারা বিবেচনা করছে। একই সাথে এই বিচার প্রক্রিয়াও যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয় সেটিও নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এই আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করার কথা।  কিন্তু এই ১৮০ দিনে বিচার কাজ নিষ্পত্তি না হলে আরো ৯০ দিনে বাড়ানো যাবে। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যেও যদি বিচার কাজ সম্পন্ন না হয় তাহলে হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে এটি বৃদ্ধি করা যাবে।  এই জায়গাতেও সংশোধন প্রয়োজন বলে আইন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র মনে করছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর অপপ্রয়োগের ফাঁকফোকড়গুলি যদি বন্ধ করা যায় তাহলে এই আইন নিয়ে এখন যে নেতিবাচক কথাবার্তা হচ্ছে সেটি বন্ধ হয়ে যাবে।