ঢাকা, রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আন্তর্জাতিক অপপ্রচার: সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০২১ সোমবার, ০৮:৫৭ পিএম
আন্তর্জাতিক অপপ্রচার: সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ

বিশ্বে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে। তা বন্ধের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। একটি ভাগে রয়েছে যে, দেশে যে সমস্ত প্রভাবশালী দূতাবাসগুলো রয়েছে তাদের সাথে আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে পর্যায়ক্রমে মতবিনিময় করবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে হলো, বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর সাথে সম্পর্ক তৈরি করবে, বিভিন্ন দূতাবাসগুলো বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার রোধে যেন সক্রিয়ভাবে কাজ করে সে জন্য চেষ্টা করবে। সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে আল-জাজিরার প্রতিবেদন, ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন না হলেও এটি একটি জনপ্রিয় সরকারের জন্য অস্বস্তিকর। আর এই ধরনের মিথ্যা, অপপ্রচার যেন ভবিষ্যতে না হয় সেটির জন্য সরকার এখন থেকেই উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তাছাড়া সরকারের কাছে এধরণের বিশ্বাসযোগ্য খবর আছে যে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোকে বাংলাদেশের সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। সেজন্য যুদ্ধাপরাধীদের পরিবার এবং লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া নানারকমভাবে তৎপর হচ্ছেন।

আর এই পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং সরকারের সাফল্যগুলোকে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তারকৃত মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ইস্যুতে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশী দূতাবাসগুলো নড়েচড়ে বসেছে। তারা এই সমস্ত বিষয়ে তাদের উদ্বেগ উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে। এটি যে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার এবং একটি বিচ্ছিন্ন ব্যাপার, তাছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মত একটা আইন বাংলাদেশের দরকার। এই বিষয়গুলো নিয়ে ঢাকার কূটনৈতিকদের সঙ্গে বসতে চায় সরকার।

সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, ঢাকায় ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ঢাকায় নিযুক্ত কূটনৈতিকদের সঙ্গে ইতিমধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছেন। এই সমস্ত আলাপ আলোচনায় কূটনৈতিকদের থেকে পরামর্শ এবং তাদের মনোভাব গুলো জানছেন। একই সাথে সরকারের বাস্তবতা এবং সরকার কি পরিস্থিতিতে এই ধরণের আইন করেছে সেই ব্যাপারেও তাদেরকে অবহিত করছেন।

ধারনা করা হচ্ছে যে, এর ফলে কূটনৈতিকদের মধ্যে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে সেই অস্বস্তিতা দূর করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের সরকারের সঙ্গে গত এক দশকে যে সুসম্পর্ক ছিল এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা কোন হস্তক্ষেপ করেনি, সেই অবস্থা সরকার ফিরিয়ে আনতে পারবে বলে আশা করছে। একইভাবে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ সহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে তথ্যচিত্র, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি প্রচারের জন্য সরকার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দূতাবাসগুলোকে বলা হয়েছে যে, তারা যেন সরকার বিরুদ্ধে অপপ্রচারগুলো কারা করছে, কিভাবে করছে, সেই ব্যাপারে খোঁজখবর রাখেে এবং শুরুতেই যেন সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্যোগ নেয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরকারের ভাবমূর্তি যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য সরকারের এই উদ্যোগ কতটা সফল হয় সেটাই দেখার বিষয়।