ঢাকা, রোববার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দ্রুত এগিয়ে চলছে স্বপ্নের সেতুর বাস্তবায়ন

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার, ০৮:০৬ এএম
দ্রুত এগিয়ে চলছে স্বপ্নের সেতুর বাস্তবায়ন

 

দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ। ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে পদ্মা সেতুর কাঠামো। চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই জাজিরা (দক্ষিণ) প্রান্তের ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে ক্যাপ বসানো সম্পন্ন হবে। তাছাড়া শিগগির উঠবে এই দুটি পিলারের মধ্যেকার স্প্যান। ছয় মিটার উচ্চতার ক্যাপ বসানো হবে ১১ মিটার উচ্চতার পিলারের ওপরে। অর্থাৎ, নদীর পানির লেভেল থেকে চারতলা ভবনের সমান ১৭ মিটার উঁচুতে গাড়ি চলাচলের জন্য বসবে সেতুর ছাদ। 

পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এমন কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানান, বিশ্বের অন্যতম খরস্রোতা নদীগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পদ্মা অন্যতম। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া থেকে শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতু প্রকল্প অংশে পদ্মা আরও তীব্র খরস্রোতা। চলতি বছরের জুনেই স্প্যান দৃশ্যমান হওয়ার কথা থাকলেও এই স্রোতের কারণে তা হয়ে ওঠেনি। 

বিভিন্ন সূত্রানুযায়ী, পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ এ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ। সরকার থেকে শুরুতে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা থেকে অগ্রগতি ৫-৬ শতাংশ কম। পদ্মা নদীর তলদেশে মাটির স্তরের গঠন জটিলতা এবং বর্ষায় নদীর প্রবল স্রোতের কারণে কাজের ধীরগতি দেখা দিলেও এসব প্রতিকূলতা জয় করে মূল সেতুর পাইলিংয়ের কাজ চলছে পদ্মার দুই পাড়ে (মাওয়া ও জাজিরা)। 

বৈরী আবহাওয়া ও প্রবল পানির স্রোতের কারণে মূল নদীতে এই মুহূর্তে কাজ বন্ধ থাকলেও অন্য যায়গার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে, জাজিরা অংশে সব পিলারের পাইলিংয়ের মাটি পরীক্ষার কাজও শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। টেকনিক্যাল কাজগুলো শেষ না হওয়ায়, স্প্যান বসানোর কাজ চলতি মাসেও সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন সেতু সংশ্লিষ্টরা। 

প্রকল্প এলাকায় বর্তমানে নদী ও ডাঙা মিলিয়ে ১৭টি স্থানে বড় বড় ক্রেন ও অন্য যন্ত্র বসিয়ে কাজ চলছে। এই স্থানগুলোতে পিলার উঠবে। ১ থেকে ৪২ পর্যন্ত নম্বর দিয়ে প্রতিটি পিলারের স্থান চিহ্নিত করা আছে। ১৭টি পিলারের স্থানে কোথাও চলছে পাইল বসানোর কাজ, কোথাও পাইলের ওপরে বসানোর ক্যাপ নির্মাণকাজ হচ্ছে। 

গতবছর ডিসেম্বর মাসেই নির্মাণাধীন পদ্মা বহুমুখী সেতুর জাজিরা প্রান্তে দুটি পিলারের মধ্যে একটি ইস্পাতের কাঠামো (স্প্যান) বসানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল। নকশা অনুসারে ইস্পাতের এই কাঠামোর ভেতর দিয়েই হবে রেলপথ। আর ওপর দিয়ে থাকবে যানবাহন চলাচলের পথ। সেই ইস্পাতের কাঠামো তৈরির কাজ চলছে জাজিরায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পদ্মা সেতুর মূল কাঠামো প্রথমে বসানো হবে দক্ষিণ প্রান্তে। ফলে জাজিরার দিক থেকে সেতুটি দৃশ্যমান হবে। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, জাজিরায় ৩৭ নম্বর পিলারের নিচে রড বেঁধে ক্যাপ লাগানো শুরু হয়েছে। জাজিরা প্রান্তে ৩৭ নম্বর থেকে শুরু হবে স্প্যান বসানোর কাজ। তা একে একে ৪২ নম্বর পিলার পর্যন্ত বসানো হবে। ৪২ নম্বর পিলারে দিকে শুরু হয়েছে কংক্রিট ফেলার কাজ, ৩৮ নম্বর পিলারে ক্যাপ লাগানোর কাজও শুরু হয়েছে। ৩৭ থেকে ৪২ নম্বর পিলার পর্যন্ত ক্যাপ লাগানো শেষ হলেই এসব পিলারের ওপর বসানো শুরু হবে স্প্যান। নির্মাণাধীন পিলারগুলোর ওপর প্রথম দফায় কমপক্ষে পাঁচটি স্প্যান বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। 

এদিকে, জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে পদ্মার তলদেশে পাইল বসানো শুরু হয়েছে বলে নির্মান কাজে আরও ধীর গতি এসেছে। ৩৬ নম্বর পিলারের পাইল স্থাপন করেছে দুই হাজার ৪০০ কিলোজুল ক্ষমতার একটি হ্যামার। এই হ্যামার মেরামতের প্রয়োজনে পাইল বসানোয় সেতুর কাজ প্রায় ২৫ দিন বন্ধ ছিলো। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরে পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যানটি (সুপার স্ট্রাকচার) স্থাপন করা সম্ভব হবে। এরই মধ্যে জাজিরা প্রান্তের ভায়াডাক্টের (সংযোগ সেতুর) ১৩৬টি পাইল স্থাপন হয়ে গেছে। আগস্টে মাওয়া প্রান্তের সংযোগ সেতুর এই কাজও শুরু হয়ে যাবে। 

সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পে এখন প্রায় তিন হাজার লোক কাজ করছেন। তবে শুকনো মৌসুমে বেশি লোক কাজ করে আর বর্ষায় কিছুটা কমে যায়। বর্তমান কর্মীদের মধ্যে প্রায় আট শতাধিক বিদেশি রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই চীনা। সেতু প্রকল্পে এখন পর্যন্ত সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার উপরে ব্যয় হয়েছে। 

এই প্রকল্পের কাজ চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড পেয়েছে। তারা সেতুর ওপরের অংশ নির্মাণ কাজ চীনে সম্পন্ন করছে। এরপর দেশে এনে এগুলো সংযোজন করা হবে। মূল সেতুর কাজ শুরু হয়েছে ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর আর পরিকল্পনা অনুযায়ী এই কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর। 

বাংলা ইনসাইডার/আরএস/জেডএ

বিষয়: পদ্মা-সেতু