ঢাকা, রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সুশীল এবং দূতাবাসগুলো কি করছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ মার্চ ২০২১ সোমবার, ০৭:৫৯ পিএম
সুশীল এবং দূতাবাসগুলো কি করছে?

ওয়ান-ইলেভেনের আগে যেমন বাংলাদেশের সুশীল সমাজ এবং বিভিন্ন দূতাবাসগুলো তৎপর ছিলো ঠিক তেমনি তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে। বিভিন্ন দূতাবাসে বিভিন্ন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের ঘন ঘন যাতায়াত হচ্ছে এবং সরকারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা কথা বলছে। এই সময়ই আবার ২০১৮ তে বার্নিকাটের গাড়িতে হামলার ঘটনাটিকে সামনে আনা হয়েছে। এছাড়াও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং মানবাধিকার ইস্যু নিয়েও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা কথা বলছেন। আর এসমস্ত কথাবার্তায় ইন্ধন দিচ্ছে পশ্চিমা দেশের কয়েকটি দূতাবাস।

এই তৎপরতা শেষ পর্যন্ত সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র কি না সেই প্রশ্নও উঠেছে। ইতোমধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে যে, বিভিন্ন দূতাবাসগুলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে এ ধরনের বক্তব্য বা বিবৃতি যেন না দেয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, এটি কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপের সামিল। কিন্তু তারপরও কূটনৈতিক পাড়ার তৎপরতা থেমে নেই।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, মার্কিন দূতাবাসেই এখন পর্যন্ত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে অন্তত তিনটি বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকে ড. বদিউল আলম মজুমদার সহ সুশীল সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন এবং গণমাধ্যমেরও কয়েকজন সাংবাদিক ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেছেন যে, এটি ছিলো শুধুই একটি গেট টুগেদার। সেখানে দেশের সাম্প্রতিক নানা বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।

তারা বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, মুশতাকের মৃত্যু এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে কথাবর্তা হয়েছে। মুশতাকের মৃত্যুর আগেও দেখা গেছে যে, দূতাবাসগুলো তৎপর ছিলো এবং তখন কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের আমন্ত্রণে কূটনিতিকরা বিভিন্ন নৈশভোজের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে সামরিক এবং বেসমারিক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও ছিলেন। এই বৈঠকের সঙ্গে এখনকার তৎপরতার কোনো যোগসূত্র আছে কিনা জানতে চাইলে সুশীল সমাজের এক প্রতিনিধি বলেছেন, কোনো যোগসূত্র নেই। তারা বলছেন যে, বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে মুশতাকের মৃত্যুর পর এই আইনটি নিয়ে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন উঠেছে। দূতাবাস হিসেবে আমরা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর লক্ষ্য রাখি এবং এটা লক্ষ্য রাখা আমাদের দায়িত্ব।

আর সেই বাস্তবতা থেকেই এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির সরকার বিরোধী আন্দোলনের চেষ্টা, কল্যাণ পার্টি উদ্যোগ এবং সুশীল সমাজের তৎপরতা সবকিছুর পেছনেই সরকারকে চাপে ফেলার কোন কৌশল কিনা সেই প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষ করে যখন বাংলাদেশে মুজিববর্ষ উদযাপন হবে এবং করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ সফল হয়েছে, ঠিক সেরকম পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নিয়ে কূটনৈতিকদের এই উদ্যোগ, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপের সামিল কিনা সেটা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।