ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আবারও কি লকডাউনে যাবে বাংলাদেশ ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২১ সোমবার, ০৬:৫৯ পিএম
আবারও কি লকডাউনে যাবে বাংলাদেশ ?

বাংলাদেশে গত কয়েকদিন ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। আজ গত সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। শুধু শনাক্তের সংখ্যাই বাড়ছে না সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। হাসপাতালগুলো বলছে গত কয়েকদিনে হাসপাতালে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আইসিইউ গুলো আবার পূর্ণ হতে শুরু করেছে। গত এক বছর আগে বাংলাদেশে যখন করোনা সংক্রমণ শুরু হয়েছিল তখন যে রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল এখন যেনো ঠিক সেই পরিস্থিতি আবার ফিরে আসছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার কি করবে এই নিয়ে জনমনে যেমন প্রশ্ন উঠছে তেমনি বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও আলাপ আলোচনা চলছে। 

সরকার কি আবার লকডাউনে যাবে ? করোনা সংক্রমণ ঠেকানো জন্য আবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করবে ? এরকম প্রশ্নের উত্তরে সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক বলছে যে, এখনই এ ধরনের লকডাউন বা সাধারণ ছুটির কথা ভাবছে না সরকার। বরং লকডাউন বা সাধারণ ছুটির চেয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানা, মাস্ক পরিধান এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয়টিকেই সরকার বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গত এক বছরে করোনার যে অভিজ্ঞতা, সেই অভিজ্ঞতা থেকে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে যে, একটি মানুষ যদি স্বাস্থ্যবিধি ঠিকমতো মেনে চলে, সাবান দিয়ে বার বার হাত পরিচ্ছন্ন রাখে, মাস্ক পরিধান করে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায়ে রাখে তাহলে তার করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি কম। সরকার মনে করছে এখন দেশে গণটিকা কর্মসূচি চলছে কাজেই সাধারণ ছুটির পথে এখন যাওয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। তবে এ নিয়ে ভিন্ন মতও আছে। সরকার আসলে চলতি মাস সময়টুকু দেখতে চায় যে করোনা সংক্রমণ কিভাবে বাড়ে। একই সাথে সরকার এটিও বুঝতে চাচ্ছে যে এই সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্তরাজ্যের যে ভেরিয়েন্ট সেটির কোনো সম্পর্ক আছে কিনা।  যদি সেই সম্পর্ক থাকে তাহলে সরকার পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। 

আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেছেন এবং সেই বৈঠকে স্কুল খোলার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার কথা বলেছেন। একই সাথে বিভিন্ন সামাজিক বিধিনিষেধ আরোপ করার বিষয়টিও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে আলােচনা করা হয়েছে। বাজার হাটে অবাধে ঘোরাফেরা করা, বিয়ের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে মানুষজনের উপচে পড়া ভীড়, পর্যটনগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মানুষের ঘুরে বেড়ানো ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই সমস্ত বিষয়গুলোতে কিছু বিধিনিষেধ আরোপের কথা ভাবা হচ্ছে। তবে সরকার পুরো বিষয়টিকে আরো কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করতে চাইছে। 

সরকারের একাধিক সূত্র বলছে যে, বাংলাদেশে করােনা সংক্রমণ বাড়লেও অন্যান্য দেশগুলো যেভাবে বেড়েছে সেরকম বৃদ্ধি বাংলাদেশে নেই। তাছাড়া এখন পর্যন্ত উদ্বিগ্ন বা আতঙ্কিত হবার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বরং সরকার মনে করছে যে আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি এবং মানুষ যদি একটু সচেতন হয় পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচিকে জোরদার করা যায় তাহলে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। এছাড়াও বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের করোনা সংক্রমণে গরমকাল কতটুকু প্রভাব বিস্তার করে সেটি নিয়েও গবেষণার ওপরে জোর দিয়েছেন। কারণ গতবছর বাংলাদেশে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হয়েছিলো জুন-জুলাই মাসে। এখন এই ধারায় যদি বেড়ে জুন-জুলাই এ করোনা পরিস্থিতির যদি অবনতি হয় সেটা নিয়েও সরকার চিন্তা করছে। সরকার এখনি লকডাউন বা সাধারণ ছুটির পথে যেতে আগ্রহী নয়। তবে পরিস্থিতি যে আস্তে আস্তে খারাপের দিকে যাচ্ছে এটিও সরকার অস্বীকার করছে না।