ঢাকা, রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে লুকোচুরি কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শনিবার, ১১:০৫ এএম
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে লুকোচুরি কেন?

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে লুকোচুরির সমালোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সর্বশেষ তাঁর দেশে ফেরা বিলম্ব হওয়ার খবরের পরিপ্রেক্ষিতে এই সমালোচনা তীব্রতর হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিলম্বের কারণ হিসেবে তাঁর চিকিৎসার কথা বলা হচ্ছে। অথচ তিনি কোন হাসপাতালে, কী চিকিৎসা নিচ্ছেন, কী কী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়েছেন, সে সবের রিপোর্ট কী এসেছে, এ সব কিছুই জানানো হচ্ছে না দল থেকে। দেশের একধিকবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে সময়ে সময়ে দল থেকে বুলেটিন করা উচিত বলেও মনে করেন তারা।

এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি বিদেশের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেয়র আনিসুল হকের উদাহরণও দেন তারা। সমালোচনা করে তারা বলেন, মেয়র আনিসুল হকের অসুস্থতা ও চিকিৎসার আপডেট সময়ে সময়ে পাওয়া গেলে খালেদা জিয়ার বিষয়ে এতো লুকোচুরি কেন?

অতীত থেকে উদাহরণ দিয়ে তারা বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর হামলার পরও আওয়ামী লীগ থেকে সময়ে সময়ে তাঁর অসুস্থতা ও চিকিৎসার বিষয়ে বুলেটিন দেওয়া হতো।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিষয়ে তারা আরও বলেন, তিনি আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসা করাতেন আগে সৌদি আরবের কিং ফয়সল হাসপাতালে। আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসার জন্য এটি বিশ্বব্যাপী পরিচিত একটি হাসপাতাল। অথচ এখন কেন তা বাদ দেয়ে ইংল্যান্ডে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে খালেদা জিয়াকে? দেশের অন্যতম বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের এসব বিষয়ে সব সময় গণমাধ্যম হয়ে সাধারণ মানুষকে জানানো উচিত বলেও মনে করেন তারা। নিকট ইতিহাস থেকে তারা আরও বলেন, বিগত বিএনপি সরকারের সময় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের চিকিৎসা বিষয়েও এমন লুকোচুরি খেলা হয়েছিল। এমনকি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসার পর তিনি দায়িত্ব পালনে সমর্থ নন বলে ভুল বা অসত্য তথ্য দেওয়ার চেষ্টাও হয়েছিল সরকার থেকে। পরবর্তীতে দেশের গণমাধ্যম সিঙ্গাপুরে গিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির চিকিৎসকের সাক্ষাৎকার নিয়ে তা সম্প্রচার করায় সরকার ব্যর্থ হয়েছিল।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে মারা যাওয়া এবং এর আগে ও পরে সব সংবাদ জনগণকে অবহিত করার বিষয়ও স্মরণ করেন তারা। তাছাড়া বিএনপির সাবেক মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়ার চিকিৎসার খোঁজ-খবরও তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ মানুষ জানতে পারতো বলেও উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলেন, এক সময় বাম নেতারা মারা গেলে তা সপ্তাহখানেক পর জনগণকে জানানো হতো। খালেদা জিয়ার বিষয়েও কি তেমন নেতিবাচক ধারায় এগুচ্ছে বিএনপি?

বাংলা ইনসাইডার/এমএএম/জেডএ