ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

লকডাউন নয়, পাঁচ বিধিনিষেধ আসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২১ সোমবার, ০৮:০২ এএম
লকডাউন নয়, পাঁচ বিধিনিষেধ আসছে

বাংলাদেশে প্রতিদিনই করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ।আর এই দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলার জন্য সরকার কিছু বিধিনিষেধ আরোপের কথা নতুন করে ভাবছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছে। তবে সরকার করোনা মোকাবেলা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দুটির মধ্যে সমন্বয় করতে চাইছে। তাই এ দফায় প্রথমবারের মতো কোনো সাধারণ ছুটি বা লকডাউনের পথে যাবে না সরকার। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের কথা ভাবা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ৫টি বিষয়ে অবিলম্বে বিধিনিষেধ আরোপের সুপারিশ করবে এবং এটি নিয়ে আগামী দুই এক দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করতে পারেন। যেসব বিষয় নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে তার মধ্যে রয়েছে,

১. পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে সাময়িকভাবে বিধিনিষেধ: সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে যে মানুষ দল বেধে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে যাচ্ছেন। বিশেষ করে কক্সবাজার, কুয়াকাটা, সুন্দরবন ইত্যাদি পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ভীড় এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো তোয়াক্কা নেই।এ জন্য সরকার করোনার উর্ধ্বগতি হলে সাময়িকভাবে পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার কথা ভাবছে। 

২. গণপরিবহণে বিধিনিষেধ: এখন গণপরিবহণগুলোতে কোনো স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। উপচে পড়া ভীড়। সেই জায়গায় কিছু বিধিনিষেধ আরোপের কথা ভাবছে সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে গণপরিবহণে স্বাস্থ্যবিধি যেনো মানা হয় সেজন্য কিছু বিধিনিষেধের জন্য তারা প্রস্তাব করবে।

৩. হোটেল-রেস্টুরেন্টে বিধিনিষেধ: হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতে যেনো গাদাগাদি, ভীড় না হয় এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেনো হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলো পরিচালিত হয়। একবারে যেনো সীমিত সংখ্যক লোক না থাকে সেটি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সুপারিশ করবে।

৪. ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে উপস্থিতি সীমিত করা: সামনে রোজা আসছে। এই সময় তারাবির নামাজসহ মসজিদে জমায়েত একটি বড় বিষয়। এর মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এজন্য সরকার সেখানে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করছে। 

৫. গণজমায়েতমূলক অনুষ্ঠান আপাতত বন্ধ রাখা: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মনে করছে যে, সভা-সমাবেশ, বিয়ের অনুষ্ঠান, মিলাদ-মাহফিলসহ রোজায় ইফতার মাহফিলের মতো অনুষ্ঠানগুলো যেনো এখন না হয় সে ব্যাপারেও তারা সুপারিশ করবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী দুই এক দিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট বিধিনিষেধের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।