ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

এখন লকডাউনও ভাবছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২১ সোমবার, ০৯:৫৮ পিএম
এখন লকডাউনও ভাবছে সরকার

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। আজ সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজারের বেশি আক্রান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শঙ্কা করছে যে, করোনা এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে পারে এবং সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। এরকমই একটি ধারণা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আজ করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে যেখানে তিনি সমাবেশ, গণজমায়েত সীমিতকরণ সহ বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করেছেন। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, সীমিত করণের যে নির্দেশনা তা শেষ পর্যন্ত প্রতিফলিত হবে না। কারণ বাংলাদেশের মানুষ নানা বাস্তবতার কারণে করোনার চেয়ে জীবন এবং জীবিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। আর এ কারণেই এ সমস্ত বিধিনিষেধকে শেষ পর্যন্ত মানা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ইকবাল আর্সলান বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, যে দেশের মানুষ মাস্ক ব্যবহারই করে না সে দেশের মানুষ হোটেল-রেস্টুরেন্টে অর্ধেক শতাংশ জমায়েত হবে কিংবা গণজমায়েত করবে না, বাজার-হাটে যাবে না এটি মানা কষ্টকর। কারণ তিনি বলেন, অতীতে অভিজ্ঞতা বলছে যে মানুষ এ সমস্ত মানে না। বরং কঠোরভাবে এটির প্রয়োগ করতে হবে। আর যদি এটি না প্রয়োগ করা হয় তাহলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, যেভাবে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে তাতে করে বাংলাদেশে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে প্রতিদিন ১০ হাজার সংক্রমণ চলে যেতে পারে। আর এটি যদি হয়, তাহলে সরকারকে বিকল্প ভাবতে হবে। 

আজকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকতাদের সাথে তিনি যোগাযোগ করেছেন। সূত্রগুলো বলছে, সরকার প্রথমে ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করে দেখতে চায় যে এতে করে পরিস্থিতির উন্নতি হয় কিনা। যদি পরিস্থিতির উন্নতি হয় তাহলে হয়ত সরকার আর লকডাউনে যাবে না। কিন্তু এই ১৮ দফা বাস্তবায়নের পরও যতি পরিস্থিতির উন্নতি না হয় তাহলে সরকারকে শেষ পর্যন্ত আবার লকডাউন বা সাধারণ ছুটিতে যেতে হবে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, সামনের দিনগুলো খুবই স্পর্শকাতর। বিশেষ করে রমজান মাস শুরু হলে তারাবির নামাজের ভীড় হবে। মানুষ বাজার-হাটে বেশি করে যাবে। কারণ দেখা গেছে যে, প্রতিবছর রমজান মাসে মানুষের বাজার-হাট করার প্রবণতা বাড়ে। ঈদের কেনাকাটা আরো একটি অনুসঙ্গ যুক্ত হবে। ফলে করোনার প্রকোপ বাড়বে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকতা বলেছেন, শুধু যদি আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি তাহলে কিছুই করার দরকার ছিলো না। কিন্তু মাস্ক ব্যবহার করা, সামাজিক দুরুত্ব রাখা এবং বার বার সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার মতো মৌলিক স্বাস্থ্যবিধিগুলো মানতেই আমাদের অনিহা। যার ফলে করোনা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানি এবং কারোনা যদি এভাবে সংক্রমণ যদি এভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে তাহলে সরকারের সামনে হয়ত আর কোনো বিকল্প থাককে না লকডাউন দেয়া ছাড়া।

তবে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা এখনই লকডাউন দিতে চাইছি না। কিন্তু লকডাউনকে আমরা এখন বাতিলও করতে পারছি না। আসলে বাংলাদেশের জন্য আগামী সাত দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সাত দিনের যদি করোনা পরিস্থিতির যদি উন্নতি না হয় তাহলে হয়ত সরকারকে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যেটি কারোর জন্যই কাম্য নয়।

বিষয়: লকডাউন