ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শেষ পর্যন্ত লকডাউনে যেতেই হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৮:০০ পিএম
শেষ পর্যন্ত লকডাউনে যেতেই হবে?

দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশে করোনা ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে। আজকের হিসেব অনুযায়ী গড়ে প্রতি ৪ জনের মধ্যে একজন আক্রান্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনে আরো খারাপ সময় অপেক্ষা করছে। এখন ঢাকা শহরে এরকম বাড়ি খুঁজে পাওয়া দুস্কর হবে, যেখানে একজন করোনা রোগী নেই। এরকম পরিস্থিতিতে সরকার যে ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়েছে তা করোনা মোকাবেলার জন্য অপ্রতুল এবং অপর্যাপ্ত বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তাদের মতে এ দিয়ে করোনার গতি থামানো যাবে না। এসব বিধিনিষেধ আপেক্ষিক। তা প্রতিপালনে যে নজরদারী প্রয়োজন, তা করা সম্ভব হবে না। 

বিশেষজ্ঞরা বলছে, লকডাউন ছাড়া বিশ্বের কোন দেশই করোনা মোকাবেলা করতে পারেনি। নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া লকডাউন দিয়েই করোনা প্রতিরোধ করেছে। গত ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন সংক্রমণ বা স্টেইন ধরা পরে। এরপর থেকে যুক্তরাজ্যে ধাপে ধাপে কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করে। কঠোর লকডাউনের মাধ্যমেই দেশটি এখন করোনাকে অনেকটাই লাগামের মধ্যে আনতে পেরেছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের মতো অতি ঘনবসতিপূর্ণ দেশে করোনা মোকাবেলার জন্য লকডাউনের বিকল্প নেই। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনা থেকে বাঁচার উপায় দুরকম। প্রথম লকডাউন দ্বিতীয় স্বাস্থ্য বিধি। স্বাস্থ্য বিধির মধ্যে আছে মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত পরিস্কার করা। বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য বিধি মানার আগ্রহ খুবই কম। আজ দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড হবার পরও দেখা যাচ্ছে, মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য বিধি মানার তাগিদ নেই। এখনও বাজার হাট খোলা, সেখানে মানুষ অবাধে সামাজিক দূরত্ব ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছে। গণ পরিবহনে বিধি নিষেধ করা হলেও বাস্তবে তা খুব একটা মানা হচ্ছে না। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের অবাধে চলা ফেরা নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে, করোনা আরো ভয়ঙ্কর হতে পারে। সরকার সম্ভবত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই, লকডাউনে যেতে চাইছে না। সামনে রোজা এবং ঈদ, এর আগে সব কিছু বন্ধ করে দিলে, অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পরতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন আয়ের মানুষ এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পরতে পারে। এরকম আশঙ্কা থেকেই সরকার হয়তো লকডাউনে যেতে আগ্রহী নয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে আক্রান্ত বাড়লে, সরকারকে লকডাউন দিতে হবে না, অসুস্থ মানুষ ঘরে কাতড়াবে এতে এমনিতেই লকডাউন হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন অন্তত ১৪ দিনের লকডাউন দিয়ে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা উচিত। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় লকডাউনের বিকল্প নেই।