ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দিশেহারা মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২১ সোমবার, ০৫:০০ পিএম
দিশেহারা মানুষ

একদিকে করোনার সংক্রমণ প্রতিদিন রেকর্ড ভেঙে চলেছে, অন্যদিকে লকডাউন। একদিকে হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই, অন্যদিকে জীবন-জীবিকা বন্ধ। এক দ্বিমুখী সঙ্কটে দিশেহারা মানুষ। সামনে রোজা, ঈদ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। আবার করোনার প্রকোপ থেকে বাচার অন্য কোনো উপায়ও নাই। এরকম একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি বাংলাদেশ। এ বাস্তবতা সবচেয়ে সংকটাপন্ন যাদের অবস্থা তারা হল নিম্ন আয় এবং মধ্যবিত্ত মানুষ। হঠাৎ করেই এই লকডাউনের ফলে তারা কি করবেন কীভাবে চলবেন তা নিয়ে যেমন তারা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন, পাশাপাশিভাবে করোনা সংক্রমণে আক্রান্তদের এক অবর্ণনীয় দুর্দশা।

প্রথম দফায় বাংলাদেশের যখন করোনা সংক্রমণ হয়েছিল তখন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছিল, অনেক সংকটের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রথম থেকেই সব সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার ফলে করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। সর্বোচ্চ করোনার সংক্রমণ ছিল পাঁচ হাজারের নিচে। আজ ৭ হাজার অতিক্রম করেছে করোনা সংক্রমণের হিসেব। যদিও বলা হচ্ছে যে, এখন বেশি পরীক্ষা হচ্ছে কিন্তু বেশি পরীক্ষার পরও করোনা সংক্রমণের হার ২০ শতাংশের উপরে অর্থাৎ প্রতি ৫ জন মানুষে একজন সংক্রমিত হচ্ছে, এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে এবারের যে ধরনের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ছে সেটি দ্রুত ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। করোনা পরবর্তীতে ব্যাধিতে মানুষ মারা যাচ্ছে বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে যে, করোনা হওয়ার পর তিনি বাসায় চিকিৎসা নিয়েছেন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তার রিপোর্ট নেগেটিভ হচ্ছে। তারপর তিনি আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং বড় ধরনের একটি অসুস্থতার কারণে দ্রুত মৃত্যু মুখে পতিত হচ্ছেন। আর এটি নিয়ে জনমনে আতঙ্ক হচ্ছে। এখন সরকারি হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। নিম্ন আয়ের মধ্যবিত্ত মানুষ সরকারি হাসপাতাল ছাড়া চিকিৎসা নিতে পারবে না। তাদের সেই সামর্থ্য নাই। ফলে এই হাসপাতালগুলোতে এখন তাদের চিকিৎসার দুয়ার প্রায় বন্ধ হবার উপক্রম।

উল্লেখ্য যে, গত বছর যখন করোনা সংক্রমণ হয়েছিল তখন দেখা গিয়েছিল যে নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের মধ্যে করোনার সংক্রমণ তেমন একটা হচ্ছে না। কিন্তু এবার যেন বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এবার দেখা যাচ্ছে যে নিম্ন আয় ও মধ্যবিত্ত মানুষ বেশি করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। একদিকে তারা করোনায় দিশেহারা আবার অন্যদিকে এখন লকডাউনে যে বিধিনিষেধগুলো আরোপ করা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে ধনিক শ্রেণীর জন্য এই লকডাউন তেমন কোনো বাধা সৃষ্টি করবেন না। কারণ শিল্প-কলকারখানাগুলো খোলা থাকবে। ব্যাংক সীমিত আকারে খোলা রাখা হবে। মানুষ বিদেশেও যেতে পারবে। কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা দিন আনে দিন খায় তারা এবার সবচেয়ে বড় সংকটে পড়বে। একদিকে কলকারখানা খোলা রাখা হয়েছে, অন্যদিকে গণপরিবহন বন্ধ করা হয়েছে। গণপরিবহন বন্ধ হওয়ার প্রেক্ষিতে কলকারখানার শ্রমিকরা যাবে কিভাবে। সীমিত আকারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চালু করতে বলা হয়েছে পরিবহন সুবিধা নিয়ে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মচারীরা গণপরিবহনেই যান। তারা যাবেন কীভাবে ইত্যাদি নানা প্রশ্ন উঠেছে। আর এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই মানুষ দিশেহারা হচ্ছে। করোনার কারণে লকডাউনের আগে গতকাল সারাদেশে জিনিসপত্রের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। সামনের দিনগুলোতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে সবকিছু মিলে নিম্ন আয়ের এবং মধ্যবিত্ত মানুষ যারা গত এক বছরের বেশি সময় ধরে এক অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলছে, তারা এখন গভীর সংকটে পড়ে দিশেহারা অবস্থা। এই সংকটে তাদের পাশে কে দাঁড়াবে সেটি হলো এখন বড় প্রশ্ন।

বিষয়: করোনা , লকডাউন