ঢাকা, রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

লকডাউন: সরকারে দুই মত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল ২০২১ বুধবার, ০৪:৫৯ পিএম
লকডাউন: সরকারে দুই মত

গত ৫ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য কথিত লকডাউন চলছে দেশে। কার্যত লকডাউন নিজেই লকডাউন হয়ে গেছে। জনগণ তার জীবন জীবিকার প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হচ্ছে। স্বাভাবিক কর্মদিবসের মতই সবকিছু চলছে। সরকারি বিধিনিষেধকে কেউ তোয়াক্কা করছে না। সরকারও এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে না সঙ্গত কারণেই। কারণ অনেক জায়গায় লকডাউন নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ এবং জনরোষ দেখা দিচ্ছে। আর প্রথম দুই দিন গণপরিবহন না চললেও আজ গণপরিবহন চলছে। বিভিন্ন দোকান মালিক এবং রাইড শেয়ারিং এর সঙ্গে যুক্তরা বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। এরকম একটি অবস্থার মধ্যে সরকার লকডাউন কি আরো বাড়াবে নাকি সবকিছু স্বাভাবিক করে স্বাস্থ্যবিধির ভিত্তিতেই করোনা মোকাবেলা করবে সেটি এখন প্রশ্ন। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এ নিয়ে সরকারের মধ্যে দুই ধরনের মতামত পাওয়া যাচ্ছে। 

সরকারের একটি অংশ মনে করছেন যে স্বাভাবিক জীবন-যাপন চললেও আন্তঃনগর পরিবহন বন্ধ রয়েছে। দূরপাল্লার যান চলাচল হচ্ছে না। এর ফলে করোনার সংক্রমণ কিছুটা হলেও কমবে। সরকারের এই অংশ মনে করছে যে এখন সবকিছু সীমিত করার ফলে কিছু কিছু বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে। যেমন সভা-সমাবেশ হচ্ছে না। বিয়ের অনুষ্ঠান, পার্টি ইত্যাদি বন্ধ হয়েছে। হোটেল রেস্টুরেন্টগুলোতে ভিড়ভাট্টা বন্ধ হয়েছে। এটির কিছু কিছু ফলাফল পাওয়া যাবে। তবে সাত দিন এই লকডাউন যথেষ্ট নয়। এই বিধিনিষেধের সময়সীমা আরও ৭ দিন বাড়ানো দরকার। তারা মনে করছেন যে ৫ এপ্রিলের আগে যেভাবে ঢাকা নগরীতে সব কিছু খোলামেলা চলছিল তা করোনা সংক্রমণকে আরো বাড়িয়ে দিত এবং একটা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করতো। এখন বিধিনিষেধ আরোপের ফলে একদিকে যেমন সবকিছুই চলছে, আবার অন্যদিকে কিছু কিছু নিষেধাজ্ঞার কারণে সমাবেশ, জনসমাগম হয় এমন এমন কর্মসূচিগুলো কমে এসেছে বা বন্ধ হয়েছে। এটির আরও অব্যাহত রাখা দরকার। 

তবে সরকারের একটি বড় অংশই বর্তমান লকডাউনকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছে। এর ফলে জনগণের কাছে সরকার সমালোচিত হচ্ছে বলেও তারা মন্তব্য করছেন। তারা মনে করছেন যে, লকডাউন দিলে এমন লকডাউন দেওয়া উচিত যেন মানুষের উপকার হয়। এই ধরনের অকার্যকর লকডাউন মানুষের একদিকে যেমন ভোগান্তি বাড়াচ্ছে তেমনি বিরক্তি উৎপাদন করছে। লকডাউন এর ফলে নিম্ন এবং স্বল্প আয়ের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও সরকারি অংশ মনে করছেন। তারা মনে করেন যে, প্রথম তিন দিনেই দেখা গেছে যে লকডাউনকে মানুষ মানতে চাচ্ছে না। এরপরে যদি সীমা বাড়ানো হয় তাহলে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান গ্রহণ করতে পারে। এটি সরকারের জন্য নেতিবাচক হবে। এই অংশ মনে করেন যে, এই লকডাউন না দিয়ে বরং মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিধি-বিধানের কঠোর আরোপের পক্ষপাতি।

সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী বলেছেন যে, এমন একটি ব্যবস্থা করা দরকার যেটি জনগণ গ্রহণ করে এবং জনগণ বুঝতে পারে যে এটি তাদের উপকারের জন্য। এখন যে লকডাউন করা হয়েছে সেটির ফলে একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তারা মনে করছে যে এটি বিজ্ঞানভিত্তিক নয়। আর এ কারণেই তারা লকডাউন মানতে চাইছেন না। শেষ পর্যন্ত সরকারের কোন পক্ষ জয়ী হবেন, সরকার লকডাউন বাড়াবে কি না, লকডাউন বাড়ালেও এটিকে বিধিনিষেধগুলো কিছু কমাবেন কিনা এ নিয়ে সরকারের মধ্যেই এখন মতবিরোধ দেখা দিচ্ছে। এই দুই মতের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কি হয় সেটা বোঝা যাবে আগামীকাল যখন সরকার লকডাউন বাড়ানো নিয়ে তার পরবর্তী অবস্থান জানাবে।

বিষয়: লকডাউন