ঢাকা, রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

জনঅসন্তোষ: সরকারের জন্য অশনিসংকেত 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল ২০২১ বুধবার, ০৭:৫৯ পিএম
জনঅসন্তোষ: সরকারের জন্য অশনিসংকেত 

৫ এপ্রিল থেকে দেশে চলছে লকডাউন। এ লকডাউন ক্রমশ প্রহসনে পরিণত হয়েছে। লকডাউনের তৃতীয় দিনে এসে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ বিক্ষোভ করে রাস্তায় নেমেছে। এ ধরনের লকডাউন তাদের যে ক্ষতি করছে তারা তার প্রতিবাদ করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের এই অসন্তোষ ক্রমশ অসন্তোষে রূপ নিচ্ছে এবং এখনই যদি সরকার এই বিষয়টিকে নজরে রাখতে না পারে, সামাল দিতে না পারে তাহলে সামনে সরকারের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের আন্দোলনগুলো সবসময় বিপজ্জনক দিকে রূপ নেয়। এর আগে নিরাপদ সড়কের আন্দোলন একটি জটিল পরিস্থিতিতে নিয়ে গিয়েছিলো। সরকার সে সময় বাধ্য হয়ে নিরাপদ সড়কের লক্ষ্যে আইন সংশোধন করেছিলো। ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিলো। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকার আইন পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিলো। এখন লকডাউন নিয়ে যে আন্দোলন সেই আন্দোলনে জনঅসন্তোষে রূপ নিচ্ছে। ব্যবসায়ী মহল মনে করছে যে, অন্য সব কিছু খোলা রেখে সীমিত আকারে অফিস-আদালত খোলা রেখে শুধুমাত্র দোকানপাট বন্ধ রাখাটা অগ্রহণযোগ্য এবং অকার্যকর। এ ধরনের লকডাউন অর্থহীন বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।

লকডাউন এর প্রথম দিন থেকেই ব্যবসায়ীরা থেমে থেমে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। এখন এই বিক্ষোভ এবং তাদের কর্মসূচি পুঞ্জীভূত হচ্ছে। সমন্বিতভাবে যেকোনো সময় কর্মসূচিতে যেতে পারেন এই ব্যবসায়ী মহল। বিশেষ করে যারা ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসায়ী, সামনের রোজা, ঈদ, পহেলা বৈশাখ, এইসময় দোকানপাট বন্ধ রাখা তাদের জন্য চরম ক্ষতিকর বলে তারা মনে করছেন। আর এখানেই একটি সংকট তৈরি হচ্ছে। ব্যবসায়ী মহল যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করে তাহলে সেটি সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের চাপ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু ব্যবসায়ী মহল নয়, এখন বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠী যেমন রাইড শেয়ারিং যারা করেন তারা, বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র পেশার মানুষ জনরাও আন্দোলন করছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়গুলোর দিকে নজর দেয়া দরকার বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ এ ধরনের আন্দোলন দ্রুত গতিতে অন্যরকম রূপ নিতে পারে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যারা এখন রাস্তায় নেমেছেন তারা একেবারেই পেটের দায়ে নেমেছেন। কারণ এ ধরনের লকডাউন তাদের জন্য অনেক ক্ষতিকারক হবে। তারা মনে করছেন যে, গত এক বছর ধরে করোনার কারণে যে ব্যবসায়ীক অচলাবস্থা সেই অচলাবস্থা আরও তীব্র হবে লকডাউনের কারণে। লকডাউন নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে কিছু খোলা রাখা, কিছু বন্ধ রাখার যে কৌশল, সেই কৌশলটি কোনো ভাবেই কার্যকর হবে না বলে মনে করছেন। এমনকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই লকডাউন অর্থহীন এবং এর ফলে লাভের চেয়ে ক্ষতি বড় হবে। তাহলে কেন কি কারণে সবকিছু আংশিক খোলা, আংশিক বন্ধ রাখা হয়েছে এই প্রশ্ন ক্রমশ উঠছে। মানুষ জন এসব সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করতে শুরু করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, টানা ১২ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগকে অবশ্যই জনগণের চিন্তা করতে হবে। জনগণের ভাবনাগুলো মাথায় রাখতে হবে। প্রথমত, বুঝতে হবে যে, জনগণ একটি অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, মানুষ কাজ করতে চায় এবং তৃতীয়ত, করোনা নিয়ে যে ভীতি সেই ভীতি কমে গেছে। কাজেই সরকারকেও লকডাউন এর বিকল্প একটি পদ্ধতি বের করতে হবে যেন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের এবং মধ্য আয়ের মানুষের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়। তা না হলে খুব শীঘ্রই এই সরকারের সিদ্ধান্তগুলো জনঅসন্তোষের মুখে পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছেন।

বিষয়: জনঅসন্তোষ