ঢাকা, রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

উপেক্ষিত ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল ২০২১ বুধবার, ০৯:০০ পিএম
উপেক্ষিত ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

বাংলাদেশে মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বর্তমানে সেরা মনে করা হয় তাকে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক তিনি। করোনা সংকটের শুরু থেকে প্রথম তিনি মানুষজনকে সচেতন করার কাজটি করেছেন। যেকোনো বিচারে তিনি একজন স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞ। শুধুমাত্র জাতীয় পর্যায়ে নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও তার খ্যাতি রয়েছে। সেই ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ যেন উপেক্ষিত হচ্ছেন। করোনা মোকাবেলার সময় প্রথম দিকে ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার কথাকে মূল্যায়ন করা হতো রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলার সময় সরকার যে একের পর এক সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছেন সেই সিদ্ধান্তগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত চিকিৎসককে উপেক্ষিত করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন শুধু ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ নয়, করোনা মোকাবেলায় করণীয় কী, কী কৌশল অবলম্বন করা উচিত -এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মতামতকে পাত্তা না দিয়ে আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে সব কিছুর মধ্যে একটি জগাখিচুড়ি ঘটছে এবং কোন পদ্ধতি কার্যকর হচ্ছে না। কাগজে-কলমে যদিও দেশে ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন হচ্ছে কিন্তু এই লকডাউনে মানুষ বেরিয়ে যাচ্ছে এবং যে যার মত করে কাজ করার চেষ্টা করছে। আবার যখন লকডাউন তখন করোনার সংক্রমণ নতুন রেকর্ড স্পর্শ করছে। আর এই জন্যই মনে করা হচ্ছে যে আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নয় বরং এ ব্যাপারে বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সরকারকে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। আর এখানে ডা. আব্দুল্লাহর মত স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে।

চিকিৎসকরা মনে করছেন যে, বিষয়টি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত। কাজেই লকডাউন হবে কি হবে না বা কোন পদ্ধতিতে করোনার সংক্রমণ কমানো যাবে এটি পুরোটাই একটি টেকনিক্যাল বিষয়। সেখানে চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা উচিত। এ প্রসঙ্গে তারা আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের উদাহরণ দিয়ে বলছেন যে, সেখানে একজন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ পুরো বিষয়গুলো তত্ত্বাবধান করছেন এবং একটি বিশেষজ্ঞ টিম সরকারকে কি করতে হবে না হবে সে ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশে ডা. আব্দুল্লাহর মত চিকিৎসক থাকা স্বত্বেও তারা তাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের পরামর্শ নেয়া হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে করোনা মোকাবেলায় অনেক ভালো এবং বড় ধরনের বিশেষজ্ঞ আছেন। যাদের মূল্যায়ন সরকারকে সহায়তা করত, যাদের পরামর্শ গ্রহণ করলে সরকারি বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে সরকারকে তাদের কথা শুনতে হবে এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হবে। করোনা মোকাবেলার দ্বিতীয় ধাপে দেখা যাচ্ছে যে, প্রথম যে ১৮ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল সেই নির্দেশনাটি এসেছিল প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের পক্ষ থেকে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ ধরনের নির্দেশনা দিতেই পারেন। কিন্তু এই নির্দেশনা যদি টেকনিক্যাল কমিটির মাধ্যমে আসত তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে এটি বেশি গ্রহণযোগ্য হতো। সাধারণ মানুষ মনে করত যে, পরামর্শগুলো বিজ্ঞানসম্মত এবং বাস্তবসম্মত। এমনকি যখন লকডাউনের ঘোষণা দেয়া হলো সে লকডাউনের ঘোষণা সম্মিলিত মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের যে প্রজ্ঞাপনটি সেই প্রজ্ঞাপনে বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাভাবনার অনুপস্থিতি আছে বলে অনেকে মনে করছেন।

বেশ কয়েকজন চিকিৎসক বলছেন ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ মত একজন স্বনামখ্যাত চিকিৎসক এবং তার নেতৃত্বে যদি বাংলাদেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি টিমকে করোনা মোকাবেলার কৌশলপত্র প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হতো তাহলে পরিস্থিতি অনেক ভালো হতো। কিন্তু এক্ষেত্রে সরকার অনেকটাই আমলাদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। আর এ কারণেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো সময় আছে সব করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ দিকে যাওয়ার আগেই ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর মত যারা বিশেষজ্ঞ আছেন তাদেরকে সামনে নিয়ে এসে কৌশলপত্র প্রণয়ন করতে হবে এবং করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।