ঢাকা, রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

যেসব বিষয়ে বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে সরকারের 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৭:৫৯ পিএম
যেসব বিষয়ে বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে সরকারের 

টানা ১২ বছরের বেশি সময় দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। ১২  বছরের পর এসে বিভিন্ন ইস্যুতে আওয়ামী লীগের মধ্যে চাপ বাড়ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিজেই সম্প্রতি বলেছেন যে, সরকারের সামনে এখন দুটি চ্যালেঞ্জ। একটি হলো করোনা মোকাবেলা, অন্যটি হলো ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঠেকানো। গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হেফাজতের উদ্দেশ্যে কঠোর সতর্কবার্তা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন যে, হেফাজত সীমালংঘন করেছে। আর তার এই বক্তব্যগুলো বিশ্লেষণ করলে সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে সরকারের এখন সামনে প্রধান দুটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একটি হলো করোনা মোকাবেলা, অন্যটি হলো মৌলবাদী ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মোকাবেলা করা। আর এটি করতে গিয়ে সরকার তার চিন্তা-ভাবনা, পক্ষের এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদেরকে একীভূত করবে, একত্রিত করবে এবং সকলকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে সমস্যার মোকাবেলা করবে, সেই উদ্যোগে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বরং সরকার এই সংকটগুলো নিরসনের জন্য আমলাতন্ত্রের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে এমন সমালোচনা হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন যে, সরকার ক্রমশ বিভিন্ন বিষয় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, বা তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। চারটি ক্ষেত্রে এরকম বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি বিশ্লেষকরা খুঁজে বের করেছেন। এই বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে,

১. রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা: আওয়ামী লীগ দেশের প্রধান রাজনৈতিক সংগঠন। সবচেয়ে প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন। আর ৭৫ পরবর্তী পর্যায় থেকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ধারা হলো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে একত্রিত করে রাজনীতি করা। এজন্যই আওয়ামী লীগ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৫ দলীয় জোট গঠন করেছিলো। পরবর্তীতে তা ৮ দলীয় জোট হয়। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ বাম গণতান্ত্রিক এবং উদারনৈতিক রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের একটি ১৪ দলীয় মোর্চা গঠন করেছে। কিন্তু ২০১৮ তে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ একলা চলো নীতি অনুসরণ করে চলেছে। এখন হেফাজতকে মোকাবেলার সময় আওয়ামী লীগ একক শক্তিতে এগুতে চাইছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, হেফাজতের বিরুদ্ধে লড়তে গেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্রিত করতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ এখনও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে তার সহমর্মী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আগের মত উষ্ণ সম্পর্ক আওয়ামী লীগের নেই এমনটি মনে করছেন সমালোচকরা।

২. বিশেষজ্ঞ বিচ্ছিন্নতা: আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মাথাব্যথার বিষয় হলো করোনা মোকাবেলা করা। করোনা মোকাবেলা করতে গেলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়াটা জরুরি বলে মনে করেন সকলেই। বিশেষ করে বাংলাদেশে বেশ কিছু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, যারা এই সংকট নিরসনে সরকারকে ভালো সহযোগিতা করতে পারেন কিন্তু তাদের পরামর্শ নেয়া হচ্ছে না। বরং সরকার আমলাদের ওপর ভর করে করোনা মোকাবেলা করতে চাচ্ছেন। বিশ্লেষক মনে করছেন যে, করোনা একটি স্বাস্থ্যগত ব্যাধি। এটাকে মোকাবেলা করতে গেলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদেরকে পাশে নিতেই হবে। সেটি না নিয়ে বরং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এক ধরনের দূরত্ব এবং বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। 

৩. সুশীল সমাজের সাথে বিচ্ছিন্নতা: সুশীল সমাজের সাথে আওয়ামী লীগের দূরত্ব বেশ কিছুদিন ধরেই। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে এবং হেফাজতকে মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে সুশীল সমাজকে পাশে রাখা দরকার। বিশেষ করে তাদের মতামতগুলো যেন সরকারের কর্মকৌশলের প্রতিফলিত হয় তাহলে জনগণ উপকৃত হবে এবং সরকারের জন্য সংকট নিরসন সহজ হবে। কিন্তু সুশীল সমাজের সঙ্গে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে। এই বিচ্ছিন্নতাও কাটানোর প্রয়োজন বলে অনেকে মনে করছেন। 

৪. জনবিচ্ছিন্নতা: সম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে জনবিচ্ছিন্নতা। বিশেষ করে করোনা মোকাবেলায় সরকার সম্প্রতি যে লকডাউন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন তাকে সাধারণ মানুষ রীতিমতো প্রত্যাখ্যান করেছে। এই লকডাউনের বিভিন্ন বিধিনিষেধের প্রতিবাদে প্রতিদিন বিভিন্ন রকম মিছিল সমাবেশ হচ্ছে। সরকারকে আরও জনবান্ধব হতে হবে যেমনটি গত ১২ বছর সরকার ছিল, এমনটি মনে করেন বিশ্লেষকরা। জনবিচ্ছিন্ন হলে সরকারই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর তাই এই প্রধান দুই সংকট মোকাবেলায় সবাইকে সাথে নিয়ে সরকারকে কৌশল প্রণয়ন করতে হবে এবং সমাধানের পথ খুঁজতে হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল।

বিষয়: সরকার