ঢাকা, রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

যে কারণে লাগামহীন হয়ে উঠতে পারে করোনায় মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২১ বৃহস্পতিবার, ১০:০০ পিএম
যে কারণে লাগামহীন হয়ে উঠতে পারে করোনায় মৃত্যু

বাংলাদেশ গত ২৪ ঘণ্টায় একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ করোনায় মৃত্যুবরণ করেছে। ৭৪ জন মৃত্যুর মধ্য দিয়ে করোনা নতুন করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের নাগরিকদের ওপর। প্রশ্ন উঠেছে যে এটি কি বিচ্ছিন্নভাবে একদিনে সর্বাধিকসংখ্যক মৃত্যু নাকি এই মৃত্যুহার বাড়তেই থাকবে। গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যুর হার ঊর্ধ্বগামী। ৫০ অতিক্রম করে ৬০ কোটায় মৃত্যু সংখ্যা ঘুরপাক খাচ্ছিল। গতকাল বুধবার মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৬৩ জন। সেখান থেকে এক লাফে আজ ৭৪ জনে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বিভিন্ন মহল শঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, এভাবে কি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে মৃত্যু। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যুর হার অনেক বাড়তে পারে এমনকি তা লাগামহীন হয়ে উঠতে পারে। এর কারণ হিসেবে তারা মনে করছেন যে, একাধিক বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা রয়েছে মৃত্যুর হার বাড়ার। যে কারণগুলোতে এবার মৃত্যুর হার বাড়তে পারে তার মধ্যে রয়েছে:

১. হাসপাতালে জায়গার অভাব: ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের সব হাসপাতালগুলো উপচে পড়ছে। কোন আইসিইউতে কোন বেড খালি নেই। যার ফলে করোনায় যে হারে রোগী বাড়ছে সেই হারে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না হাসপাতালগুলোতে। এর অনিবার্য ফলাফল হচ্ছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছেন বহু মানুষ। চিকিৎসা বঞ্চিত হওয়ার কারণে মৃত্যু হার বাড়বে এটি অবধারিত। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

২. নতুন ধরনের সংক্রমণে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি: বাংলাদেশে এখন যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে তাকে বলা হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার সংক্রমণ। এই সংক্রমণটি গতবছরের যে সংক্রমণ ছিল তারচেয়ে অত্যন্ত ভয়াবহ। এটি দ্রুত মানুষকে ঝুঁকিতে নিয়ে যায় এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায়। আর এই সংক্রমণের যদি আরো বিস্তার ঘটতে থাকে তাহলে মৃত্যুর হার বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

৩. করোনার পরবর্তী স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে: এবারের করোনায় দেখা যাচ্ছে যে করোনায় একজন মানুষ সুস্থ হয়ে যাওয়ার পর তার বিভিন্ন উপসর্গ এবং শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে এবং তিনি দ্রুত মৃত্যু বরণ করছেন। এই প্রবণতাটা গত দুই মাসে অত্যন্ত বেড়েছে বলে চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা বলছেন যে, গত বছরে যে প্রবণতাটা ছিল তা হলো একজন আক্রান্ত হওয়ার ৭ দিন পর্যন্ত তার অবস্থা কিছুটা খারাপ থাকে। ৭ দিন পর তিনি আস্তে আস্তে উন্নতি করতে থাকেন এবং সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে ৭ দিন পর তার অবস্থার অবনতি ঘটছে। ১৪ দিন পর যখন দেখা যাচ্ছে তিনি করোনামুক্ত তখন তিনি অন্য উপসর্গে আক্রান্ত মৃত্যুবরণ করছেন। এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যুর হারও বা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৪. করোনাকে উপেক্ষা: করোনার মৃত্যুর হার বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হচ্ছে করোনাকে উপেক্ষা করা। অনেকেই সাধারণ জ্বর, সর্দি হলে বা সামান্য শ্বাসকষ্ট হলে তারা চিকিৎসকদের পরামর্শ নিচ্ছেন না, এমনকি করোনার পরীক্ষাও করাচ্ছেন না। তারা মনে করছেন এটি আপনা আপনি ঠিক হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকেই এ ধরনের প্রবণতা মানুষের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসাহীন থাকার ফলে আপনা আপনি ভাল হয়ে যাবে এরকম প্রবণতার কারণে হঠাৎ করেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।

৫. শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি: এবার করোনায় উদ্বেগজনক দিকটি হলো শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। আক্রান্ত শিশুরা দ্রুত ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে এবং মৃত্যুবরণ করছে। এই পরিস্থিতিতে শিশুদের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। শিশুদের ঝুঁকি বাড়া মানে মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি, এরকম মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা

মূলত এই পাঁচ কারণে এবার মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। যদি সুষ্ঠু চিকিৎসা দেওয়া না যায় তাহলে এই মৃত্যুর হার লাগামহীন হয়ে উঠতেও পারে বলে অনেকে মনে করছেন।