ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

লকডাউন: জনমনে উদ্বেগ-অস্থিরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০২১ শনিবার, ০৯:০০ পিএম
লকডাউন: জনমনে উদ্বেগ-অস্থিরতা

সরকার ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউন জারি করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী দুইজনই বলছেন এবার লকডাউন হবে কঠোর। সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র জরুরী সেবাগুলো অব্যাহত থাকবে। মানুষ যেন ঘর থেকে বের হতে না পারে তা নিশ্চিত করা হবে। সরকারের এই কঠোর লকডাউনের ঘোষণা জনমনে এক ধরনের উদ্বেগ এবং অস্বস্তি তৈরি করেছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি আয়ের মানুষরা বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তাঁরা মনে করছেন এ ধরনের লকডাউন তাদের বিপর্যস্ত করবে এবং এর ফলে তাদের জীবন আরো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। গত বছর থেকেই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এক ধরনের সংকটের মধ্যে পড়েছে।

গত বছরের মার্চে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরার পর সরকার প্রথম দফার লকডাউন বা সাধারণ ছুটিতে গিয়েছিল। সাধারণ ছুটি শেষে মানুষ যখন কর্মকাণ্ডে ফিরেছিল তখন থেকেই অর্থনৈতিক সংকট ক্রমশ দানা বেঁধে উঠেছিল। বিশেষ করে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসায়ীরা অস্তিত্বের সংকটে লড়ছেন। তাছাড়া সামনে রোজা শুরু হচ্ছে। রোজা এবং ঈদ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি বড় বিষয়। এই সময়ে দোকান মালিকরা তাদের ব্যবসার একটি বড় অংশ হয়ে থাকে, খাবার দোকানগুলো এ সময় বড় ধরনের ব্যবসা করে। কাজেই রোজাকে ঘিরে যেই অর্থনীতি সেই অর্থনীতি লকডাউনের ফলে মুখ থুবরে পড়বে।

মানুষ মনে করছে যে এই পরিস্থিতিতে লকডাউন যদি হয় তাহলে তারা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বে। একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে তারা বলছেন যে একটা বছর তারা কঠিন সংগ্রাম করছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, অনেকে বেকার হয়েছিলেন, আবার ছোটখাটো একটা চাকরি দিয়ে নতুন করে কর্মজীবন শুরু করেছেন। এই অবস্থায় লকডাউন দিলে তারা কঠিন সংকটের মধ্যে পড়বে।

বাংলাদেশে গত এক বছরে করোনা সংক্রমণে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে আমাদের শিক্ষাখাত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন- কোচিং, প্রাইভেট টিউশনি ইত্যাদি পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এখানে একটা বিপুল জনগোষ্ঠীর বেকারত্ব বরণ করেছে। এমপিওর বাইরে যেসমস্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আছে, কিন্ডারগার্ডেন সহ বিভিন্ন ধরনের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেছে এবং এই সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। তারা এক ধরনের মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

করোনার ফলে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের দোকান এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলো আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তারা ধারণা করেছিল যে এবার ঈদ, পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে তারা তাদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার একটা চেষ্টা করবে। কিন্তু এই সময় যখন আবার লকডাউন দেয়া হবে তখন তারা আরো গভীর সংকটে পড়তে পারেন বলে মনে করছেন। বাংলাদেশে যারা মাঝারী ব্যবসায়ী তারাও এই গত এক বছরে একটা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়ে আছেন এবং এক প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করছেন। এখন লকডাউন দিলে তাদের অবস্থাকে আরো শোচনীয় করে ফেলবে।

গত বছর সরকার যে বিপুল প্রণোদনা দিয়েছিল সেই প্রণোদনা মোটেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি মাঝারি উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছেনি। তারা একরকম কঠিন জীবনযুদ্ধ করছেন। সাধারণ মানুষ মনে করছেন যে করোনায় যদি দ্বারা আক্রান্ত হন তাহলে তার চিকিৎসা আছে কিন্তু অর্থনৈতিক ক্ষতি পূরণ তারা পোষাবেন কিভাবে। তাছাড়া সাধারণ মানুষ ভিক্ষা চান না, তারা নিজের শক্তিতে অর্থনৈতিকভাবে দাঁড়াতে চান। আর একারণেই যে কঠোর লকডাউনের কথা বলা হচ্ছে সেই কঠোর লকডাউন জনগণের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

বিষয়: লকডাউন , করোনা