ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

লকডাউনে যা খোলা থাকবে, যা বন্ধ থাকবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২১ সোমবার, ১২:৩৯ পিএম
লকডাউনে যা খোলা থাকবে, যা বন্ধ থাকবে

আগামী ১৪ এপ্রিল ভোর ৬ টা থেকে সারাদেশে কঠোর লাকডাউন শুরু হতে যাচ্ছে। এই কঠোর লাকডাউন আগামী ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে। আজ সোমবার (১২ এপ্রিল) মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে লকডাউনের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপনে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। দেখে নিন এই কঠোর লাকডাউন যা খোলা থাকবে বা নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে আর যা বন্ধ থাকবে বা নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত থাকবে।

যা খোলা থাকবে বা নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে: 

১. বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থলবন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে। 

২. পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে পরিবহন ব্যবস্থা চালু থাকবে।

৩. শিল্প-কারখানাসমূহ স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। তবে, শ্রমিকদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।

৪. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন-কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহণ, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের স্থেলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে।

৫. টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে।

৬. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরায় দুপুর ১২:০০টা থেকে সন্ধ্যা ৭:০০টা এবং রাত ১২:০০টা থেকে ভোর ০৬:০০টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ (Takeaway/Online) করা যাবে।

৭. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯:০০টা থেকে বিকাল ৩:০০টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষস্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

৮. বোরো ধান কাটার জরুরি প্রয়োজনে কৃষি শ্রমিক পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সমন্বয় করবে।

যা বন্ধ থাকবে বা নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত থাকবে: 

১. সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্থায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস/আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ও সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন।

২. সকল প্রকার পরিবহন (সড়ক, নৌ, রেল, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে।

৩. অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (ঔষধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না।

৪. শপিংমলসহ অন্যান্য দোকানসমূহ বন্ধ থাকবে।

কিছু নির্দেশনা:

১. বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আদালতসমূহের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

২. সারাদেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করবে।

৩. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করবেন।

৪. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুম্মা ও তারাবী নামাজের জমায়েত বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করবে।

৫. উপর্যুক্ত নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ প্রয়োজনে সম্পূরক নির্দেশনা জারি করতে পারবে।


বিষয়: লকডাউন