ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

প্রধানমন্ত্রীর যে নির্দেশনাগুলো মানা হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২১ সোমবার, ০৫:৫৭ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর যে নির্দেশনাগুলো মানা হয়নি

বাংলাদেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিলো ৮ মার্চ। এরপর সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিলো ২৫ মার্চ থেকে। প্রধানমন্ত্রী একাই করোনা মোকাবেলার জন্য লড়াই করেছেন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং কতৃপক্ষকে নানা রকম নির্দেশনা দিয়েছেন। করোনার প্রথম দফা সংক্রমণের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন জেলার সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছিলেন, প্রত্যেকটি জেলাকে তিনি নির্দেশনা দিয়েছিলেন এবং তার ফলে করোনার প্রকোপ থেকে একটা সময় বাংলাদেশ সহনীয় জায়গায় এসেছিলো বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। 

প্রধানমন্ত্রী এই সময় দফায় দফায় বৈঠকে মোট ৭৪টি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। পহেলা এপ্রিল ২০২০ থেকে শুরু করে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিলো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে যখনই করোনার সংক্রমণ কমতে থাকে তখনই প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনাগুলোকে উপেক্ষা করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। পহেলা এপ্রিল ২০২০ তারিখে প্রধানমন্ত্রী ৩১ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। এই ৩১ দফা নির্দেশনার মধ্যে ছিলো, করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ সম্পর্কে সচেতনতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। কিন্তু দেখা গেলো যে প্রথম দফায় করোনা যখন আস্তে আস্তে কমে গেলো তখনই সচেতনতা কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেলো। 

৩১ দফা নির্দেশনার ৭ নম্বরে নদী বেষ্ঠিত জেলাসমূহে এ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সেই নির্দেশনা প্রতিফলিত হয়নি। ১ এপ্রিলের ওই নির্দেশনার মধ্যে ৯ নম্বর নির্দেশনা ছিলো সারাদেশের পরিচ্ছন্নতা আরও জোরদার করতে হবে। সেটিও বাস্তবায়িত হয়নি। এ ছাড়া ১৭ নম্বর নির্দেশনা ছিলো দ্রব্যমূলের দাম নিয়ন্ত্রণের রাখা। কিন্তু সেই নির্দেশনাও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়নের তেমন কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। ১৯ নম্বর নির্দেশনা ছিলো স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজের সকল স্তরের জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রশাসন সকলকে নিয়ে কাজ করবে। কিন্তু প্রশাসন কাজের ক্ষেত্রে একলা চলো নীতি অনুসরণ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

প্রধানমন্ত্রী ৭ এপ্রিল আরও ১০ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। সেখানে ৬ নং দফায় বলা হয়েছিলো, যে সকল চিকিৎসক-নার্স কোভিড-১৯  প্রতিরোধে শুরু থেকে কাজ করছেন। তাদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের পুরস্কৃক করতে হবে। কিন্তু এই তালিকা প্রণয়নের বিষয়টি এখনও সঠিকভাবে জানা যায়নি। এ ছাড়া ৮ নং দফায় বলা হয়েছিলো, যারা চিকিৎসা দেয়নি তারা প্রণোদনা পাবেন না। এখন থেকে যারা কাজে আসবেন তাদের কাজের ধরনে দেখে প্রণোদনা দেয়া হবে। এখন পর্যন্ত সেই নির্দেশনার কতটুকু বাস্তাবয়ন হয়েছে তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। ১৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী আরও ১০ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনার ৬ নং ধারায় বলা হয়েছিলো, সদ্য অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদের তালিকা করে তাদেরকে রিজার্ভ হিসেবে রাখার ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই ব্যাপারে দৃশ্যমান কোনো কর্মকাণ্ড হয়েছে বলে আামদের জানা নেই। 

প্রধানমন্ত্রী ২০ এপ্রিল আরও ১৩টি নির্দেশনা জারি করেছিলেন এর মধ্যে ৭নং নির্দেশনা ছিলো গাজীপুরের বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হাসপাতালটিকে কোভিড-১৯ হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো কর্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না তা জানা যায়নি। ২০ এপ্রিলের ১৩ নং নির্দেশনায় বলা হয়েছিলো ডাক্তার-নার্স যারা কোভিড-১৯ রোগীদের সেবা দিচ্ছেন তাদের যাতায়াতের জন্য মাইক্রোবাস কিংবা কোস্টারের ব্যবস্থা করতে হবে কিন্তু এটি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়নি বলে চিকিৎসকরা অভিযোগ করেছিলেন। ২৭ এপ্রিল ২০২০ তারিখে প্রধানমন্ত্রী আরও ১০টি নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। এই নির্দেশনার মধ্যে ৮নং নির্দেশনা ছিলো প্রতিটি জেলায় আইসিইউ এর ব্যবস্থা করতে হবে কিন্তু সেই ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো যদি বাস্তবায়িত হতো তাহলে করোনা দ্বিতীয় ধাক্কা মোকাবেলার ক্ষেত্রে এতো ভোগান্তি পোহাতে হতো না।