ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মামুনুলের কত প্রেম, কত বিয়ে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২১ সোমবার, ০৭:৫৯ পিএম
মামুনুলের কত প্রেম, কত বিয়ে?

বাংলাদেশ এখন টক অব দ্য কান্ট্রি হলো মামুনুল। হেফাজতের এই যুগ্ম মহাসচিবের লাস্পট্য, ব্যভিচার, একাধিক বিয়ে, প্রেম সারা দেশের মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে যেমন করোনার দাপট, লকডাউনে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, তার মধ্যে মামুনুলই যেন মানুষের বিনোদনের এখন একমাত্র খোরাকে পরিণত হয়েছে। প্রথমে মামুনুল বলেছিলেন যে, ঝর্ণা তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং শরিয়াসম্মত উপায়ে তিনি তাকে বিয়ে করেছেন। কিন্তু ঝর্ণার ডায়েরি এবং তার কথাবার্তা থেকে এখনও স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি জান্নাত ওরফে ঝর্ণাকে আসলে বিয়েই করেননি বরং তার সাথে প্রতারণা করেছেন। এখন আরেক জান্নাতের সন্ধান পাওয়া গেছে। যিনিও মামুনুলের স্ত্রী বলে জান্নাতের ভাই দাবি করেছেন এবং ২০২০ সালে অর্থাৎ গত বছর তাদের বিয়ে হয়েছে বলেও তার ভাই দাবি করেছেন। 

এখন পর্যন্ত মামুনুলের তিনটি স্ত্রীর সন্ধান পাওয়া গেছে। কিন্তু যারা মামুনুলেন সঙ্গে ঘনিষ্ঠ, মামুনুলকে যারা দীর্ঘদিন ধরে চেনেন, তারা মনে করছেন যে মামুনের স্ত্রী সংখ্যা আরো বেশি। মামুনুল একাধিক নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রেখেছেন এবং তাদের সাথে মামুনুলের সম্পর্ক আছে এমন কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মামুনুলে দিক থেকেও এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন সময়ে মামুনুলের লাম্পট্যের বিভিন্ন প্রমাণ এখন সামনে চলে আসছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও মামুনুলের ব্যাপারে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাচ্ছেন। 

মামুনুল হক মোহাম্মদপুরের একটি মাদ্রাসায় চাকরি করতেন। সেখানে একজন ছেলে শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগে তিনি চাকরীচ্যুত হয়েছিলেন। এছাড়াও কেরানীগঞ্জে একজন মাদ্রাসার নারী শিক্ষার্থীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তিনি তার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়েছিলেন এরকম অভিযোগও আছে। গতকাল হাটহাজারীতে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতারা এক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। সেখানে মামুনুলকে নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী সাংবাদিকদের বলেছেন যে রয়েল রিসোর্টের ঘটনা মামুনুলের নিজস্ব বিষয়। এটি হেফাজতের এখতিয়ারাধীন বিষয় নয়। একই সঙ্গে তিনি হেফাজতের বৈঠকে মামুনুলকে নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও দাবি করেছেন। কিন্তু এটিও একটি অসত্য বক্তব্য বলেই প্রমাণ পাওয়া গেছে। কারণ ওই বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা নিশ্চিত করেছেন যে, বৈঠকের একটা বড় অংশজুড়ে মামুনুলকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং মামুনুলের একাধিক নারীর সঙ্গে প্রকাশ্য এবং গোপন সম্পর্ক নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে।

আল্লামা শফী যখন হেফাজতের আমির ছিলেন তখন মামুনুলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন যৌন হয়রানি এবং নারীদেরকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছিলো। সেই সময়ে মামুনুলকে আল্লামা শফীর দেখেছিলেন এবং তাকে তিরস্কার করেছিলেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড যেন মামুনুল যেনো আর না করে সেজন্য আল্লামা শফী তাকে তওবা পড়িয়েছিলেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ কারণেই মামুনুল আল্লামা শফীর বিরোধীতা করেছিলেন এবং আল্লামা শফীর জীবিত থাকা অবস্থায় হেফাজতে তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির বানানোর ক্ষেত্রে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তাদের মধ্যে মামুনুল অন্যতম ছিলেন। মামুনুল জুনায়েদ বাবুনগরীর অন্যতম খুঁটি হিসেবে হেফাজতের ভেতরে পরিচিত। আর এ কারণেই মামুনুলের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিতে রাজি নন জুনায়েদ বাবুনগরী।

হেফাজতের অধিকাংশ আলেমরা বলেছিলেন যে, মামুনুলকে অন্ততপক্ষে দলের পদ থেকে আপাতত সরিয়ে দেয়া উচিত। কিন্তু এটি যদি জুনায়েদ বাবুনগরী করেন তাহলে তার শক্তির ভীত অনেকখানি নষ্ট হয়ে যায় এ কারণে তিনি এই ঝুঁকি নিতে চাননি। আর এই বাস্তবতায় মামুনুল জুনায়েদ বাবুনগরীর আমীর হওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং তিনি বিভিন্ন নারীর সঙ্গে নানা রকম সম্পর্কে জড়িয়ে যান। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে মামুনুলের একাধিক টেলিফোন আলাপের কথোপকথন এসেছে। এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হলে জানা যাবে আসলে মামুনুলের কত বিয়ে, কত প্রেম এবং কত ব্যভিচার।

বিষয়: মামুনুল