ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ রবিবার, ০১:৫৭ পিএম
সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণ

তিন সপ্তাহ আগে বাংলাদেশে ঢুকেছেন রাহিম মিয়া ও তাঁর পরিবার। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশ, সেনাদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে জীবনের সহায় সম্বল সব ফেলে এসেছেন। শুধু প্রাণ বাঁচিয়ে পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে আসার পর পড়েন মহাসংকটে। স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে তিনসদস্যের রহিম মিয়ার পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা ত্রাণ। সেই ত্রাণটাই ঠিকমতো পাচ্ছিলেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কক্সবাজারের নাক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সড়কের পাশে বসে থাকতেন ত্রাণের জন্য। অনেকেই ত্রাণ বিলাতো। কিন্তু সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকায় রহিম মিয়া পরিবারের জন্য যথেষ্ট ত্রাণ সংগ্রহ করতে পারতেন না। তবে গত দুই দিনে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ট্রাক থেকে ত্রাণ ছুড়ে দেওয়ার বদলে লাইন দাঁড়িয়ে থেকে ত্রাণ সংগ্রহ করছেন রোহিঙ্গারা। ত্রাণ পাচ্ছেন নারী পুরুষ সবাই।

গত শুক্রবার থেকে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়েছে সশস্র বাহিনী। মূলত সেনাবাহিনীই মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এর ফলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শৃঙ্খলার মধ্যে আসছে। রহিম মিয়ার মতো অনেক রোহিঙ্গ পরিবারই সুশৃঙ্খল লাইনে দাড়িয়ে ত্রাণ সংগ্রহ করছে।

এর আগে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণের জন্য অবিলম্বে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানায় সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি। এরপরই কক্সবাজারের উখিয়ার ৭১ কিলোমিটার এলাকায় ১২টি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়।

মানবিক কারণে বাংলাদেশের জনগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ত্রাণ নিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সুষ্ঠু সমন্বয়ের অভাবে এত ত্রাণ কার্যক্রমের পরও রোহিঙ্গারা ত্রাণ পাচ্ছিল না। ত্রাণ বিতরণে এক বিশৃংখল পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। এমন অবস্থার কারণেরই সেনাবাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে।

সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি সড়কে বিচ্ছিন্নভাবে ত্রাণ দেওয়া গাড়ি রোধ এবং রোহিঙ্গারা যাতে সুশৃঙ্খলভাবে ক্যাম্পে অবস্থান করে সেদিকেও নজর রাখছে সেনাবাহিনী।

প্রথমদিন উখিয়ার ৭টি পয়েন্ট এবং টেকনাফের ৫টি পয়েন্ট থেকে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর রামু ১০ ডিশিনের জিওসি মেজর জেনারেল মাকসুদুর রহমানের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সময়ের দূর্যোগকালীন সময়ে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা ছাড়াও বর্হিবিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসনে সেনাবহিনীকে দায়িত্ব দেওয়ায় সরকারের সিদ্ধান্ত যেমন প্রশংসিত হয়েছে একইভাবে আশস্ত হয়েছে দেশের মানুষ এবং খুশি হয়েছে রোহিঙ্গারাও।

এখানে কাজ করতে আসা সেনাদের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মুহাম্মদ রাশেদ আকতার গণমাধ্যমকে জানান, পূর্ব সিদ্ধান্তমতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এসে সেনাসদস্যরা প্রথমে সড়কে যত্রতত্র ত্রাণ বিতরণ বন্ধ করে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে কাজ শুরু করেন। অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন দাঁড়ানো, রাস্তায় রোহিঙ্গাদের অহেতুক জটলা সরিয়ে দিয়ে সড়ক যোগাযোগ নির্বিঘ্ন করা হচ্ছে। এরপর নিয়ন্ত্রণকক্ষে জমা হওয়া দ্রুত পচনযোগ্য তাজা খাবারগুলো আলাদা করে বিতরণের জন্য নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সেনাবাহিনী সদস্যরা দিনব্যাপী বিভিন্ন ক্যাম্প পরিদর্শন ও পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেয়া ত্রাণ-সামগ্রীও গ্রহণ করেছেন। ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয়ের লক্ষ্যে উখিয়া ডিগ্রি কলেজে প্রধান কার্যালয় ও কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। এ কাজে প্রাথমিকভাবে সেনাবাহিনীর ২শ’ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।

সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ সেলের সমন্বয়কারী মেজর রাশেদ আকতার জানিয়েছেন, ত্রাণ সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রমকে একটি চেইন অব কমান্ডের মধ্যে নিয়ে আসতে সেনা সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন। গতকাল আমরা বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে পরিদর্শন করেছি, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ত্রাণও গ্রহণ করেছি। ত্রাণ সংরক্ষণের জন্য উখিয়া ডিগ্রি কলেজে প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর কার্যক্রমের পাশাপাশি কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের স্থাপিত টেকনাফের ৫টি ও উখিয়ায় ৭টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র থেকেও সাময়িকভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বাংলা ইনসাইডার/আরএ/জেডএ