ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

গ্রেফতার আতঙ্কে হেফাজত নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২১ শনিবার, ০৯:০০ পিএম
গ্রেফতার আতঙ্কে হেফাজত নেতারা

হেফাজতের নেতারা বর্তমানে গ্রেফতার আতঙ্কে দিন পার করছেন। এরই মধ্যে হেফাজতের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেফতার হওয়ার পর সংগঠনটির নেতাদের মধ্যে এ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই এখন সাম্প্রতিক সময়ের হেফাজতের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন এবং এ বিষয়ে হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীকে দোষারোপ করছেন। তারা বলছেন, জুনায়েদ বাবুনগরীর এই উগ্রমৌলবাদী আচরণের জন্য আজকে হেফাজতের ফল ভোগ করতে হচ্ছে। হেফাজতকে একটি অস্তিত্বের সংকটে ফেলেছে জুনায়েদ বাবুনগরীর নেতৃত্ব। এর ফলে হেফাজত অনেকাংশেই ধ্বংসের মুখে।  

হেফাজতের সূত্র থেকে বলা হয়েছে যে, বিভিন্ন পর্যায়ে হেফাজতের শতাধিক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হেফাজতের একাধিক নেতা বলছেন যে, জুনায়েদ বাবুনগরীর যারা ঘনিষ্ঠ, বেছে বেছে তাদেরকেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। হেফাজতের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। জুনায়েদ বাবুনগরী ছাড়াও হেফাজতের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এই বিবৃতিতে হেফাজতের নেতাদের নির্যাতন, নিপীড়নের প্রতিবাদ করেছেন এবং তারা বলেছেন যে, এরকম নির্যাতন, নিপীড়নের ফলে `আল্লাহ`র গজব` নামবে। কিন্তু এই ধরনের বিবৃতি এবং উচ্চবাচ্য হেফাজতের নেতাদের গ্রেফতার আতঙ্কেরই বহিঃপ্রকাশ। তারা মনে করছে এগুলো করলে তারা বেঁচে যেতে পারবে। 

মূলত হেফাজতের শীর্ষ নেতাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে পুরনো মামলায়। বিশেষ করে ২০১৩ সালের মে মাসে যে ঢাকা চলো অভিযানের সময় সারাদেশে নাশকতা, সেই মামলাসহ পুরনো বিভিন্ন মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। সামনে আরো গ্রেফতার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর সেই থেকেই তাদের মধ্যে ভয় এসেছে। এখন গ্রেফতার আতঙ্কে তাদের মধ্যে বিভক্তিও দেখা দিয়েছে। হেফাজতের অনেক আলেম-ওলামাই এখন মনে করছেন যে, যেভাবে ২৬ এবং ২৭ মার্চ তাণ্ডব চালানো হয়েছে তা অনভিপ্রেত ও দুর্ভাগ্যজনক। এটি করা উচিত হয়নি এবং হেফাজতে রাজনীতিকরণ ঘটছে। 

আবার গ্রেফতার আতঙ্কে হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী এখন সরকারের একটি মহলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি চাচ্ছেন সব কিছু আবার আগের মতো যেনো হয়ে যায়। কিন্তু তিনি সরকারের কাছে থেকে কোনো আশার বাণি পাচ্ছেন না। ফলে তার জন্য এখন উচ্চবাচ্যই একমাত্র সম্বল হিসেবে দেখা দিয়েছে। হেফাজতের বাবুনগরীপন্থী একজন নেতা বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন যে, ডানা ছেটে খাঁচায় ভরা হচ্ছে বাবুনগরীকে। কারণ জুনায়েদ বাবুনগরীর যারা ডান হাত, বাম হাত হিসেবে পরিচিত, যারা জুনায়েদ বাবুনগরীর উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের মদদ জোগায় এবং বাবুনগরীর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয়, সরকার খুব সূঁচালোভাবে তাদের গ্রেফতার করছে। যার ফলে জুনায়েদ বাবুনগরীর ডানা কাটা যাচ্ছে। আর এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হবে যখন জুনায়েদ বাবুনগরীকে গ্রেফতার করা হলে প্রতিবাদ করার কেউ থাকবে না।

আসলে জুনায়েদ বাবুনগরীর সরকারকে চাপে ফেলার কৌশল হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা এবং পরে নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে আলোচনায় আসেন। কিন্তু ২৬ এবং ২৭ মার্চ ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যে তাণ্ডব হেফাজতের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে তার প্রেক্ষিতে সরকারের সামনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিলো না। জুনায়েদ বাবুনগরীর নিজের পাতা ফাঁদে এখন নিজেই পড়েছে। আর তার সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে হেফাজতের উগ্রবাদী অনেক নেতাই। ফলে তাদের কর্মকাণ্ডের মাশুল এখন তাদের নিজেদেরই দিতে হচ্ছে গ্রেফতারের মাধ্যমে। সে কারণেই হেফাজতের উগ্রবাদী বেশিরভাগ নেতার মনেই এখন গ্রেফতার আতঙ্ক বাসা বেঁধেছে।