ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

টিকা সঙ্কটে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২১ বুধবার, ০৯:৫৮ পিএম
টিকা সঙ্কটে বাংলাদেশ

বিশ্বের যে দেশগুলো প্রথমদিকে টিকা সংগ্রহ করে সার্বজনীন টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছিল তাদের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। বাংলাদেশ অক্সফোর্ড আবিষ্কৃত এস্ট্রোজেনিকা এবং সিরাম উৎপাদিত ভ্যাকসিন ভারত থেকে আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নানারকম বিতর্ক ছিল। কিন্তু নানারকম বাস্তবতা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ভারতের সিরাম উৎপাদিত এই টিকা বাংলাদেশে নিয়ে আসার জন্য চুক্তি করেছিল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। সেই অনুযায়ী যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল তাতে চল্লিশোর্ধ সব মানুষ টিকার আওতায় আসবে এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল। সিরাম আশ্বাস দিয়েছিল যে, বাংলাদেশে যথাসময়ে টিকা পাবে কিন্তু এখন টিকার সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। বেক্সিমকো, বাংলাদেশ সরকার এবং সিরামের মধ্যে যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছিল সেই চুক্তি অনুযায়ী সিরাম এখন টিকা দিচ্ছে না। সিরামের পক্ষে যুক্তি হলো তারা বলছে যে, ভারত সরকার অনুমতি দিলে তারা বাংলাদেশকে চুক্তি অনুযায়ী টীকা সরবরাহ করবে। আর বাংলাদেশে যেন টিকা পায় এজন্য সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেব থেকে জানা যায় যে, এখন পর্যন্ত ৫৭ লাখ মানুষ প্রথম ডোজের টিকা পেয়েছেন। আর দ্বিতীয় ডোজের টিকা পেয়েছেন ১৬ লাখ মানুষ। আর এখন টিকার মজুদ আছে ৩০ লাখেরও কম। অর্থাৎ যারা প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন যদি নতুন করে চালান না আসে তাহলে তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেয়া সম্ভব হবে না। এরকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কি করবে তা নিয়ে সঙ্কট, সংশয় এবং উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। এই সঙ্কটের প্রধান কারণ হলো ভারত। ভারত সরকার তাদের সার্বজনীন টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিদেশে টিকাদান নিষিদ্ধ করেছে। যদিও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছিল যে ভারত যেন বাংলাদেশে চুক্তি অনুযায়ী টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করে। এ ব্যাপারে ভারতের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই আশ্বাসে সাড়া মেলেনি।

ভারতের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে যে, ভারত তার নিজের দেশের চাহিদা পূরণ না করে কোন দেশে টিকা রপ্তানি করতে চায় না। ফলে বাংলাদেশে টিকা নিয়ে এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। বাংলাদেশ মাত্র একটি উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ করছিল, সেটি হলো সিরামের। যদিও বিশ্বে এখন ফাইজারের টিকা, জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা, মর্ডানার টিকা, চীনের টিকা এবং রাশিয়ার টিকা চলছে, বিভিন্ন দেশ বিভিন্নভাবে নিচ্ছে। খোদ ভারতই এখন রাশিয়ার স্পুটনিক-৫ টিকা নেওয়ার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং সেখানে তারা স্পুটনিক-৫ টিকা দিবে। ভারতের এই চুক্তি থেকে বোঝা যায় যে ভারতের বিপুল জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এই দেশটির টিকার সঙ্কট রয়েছে এবং তারা সিরামের উৎপাদিত টিকা বাংলাদেশ সহসা রপ্তানি করবে এমন সম্ভাবনা খুবই কম। তাহলে বাংলাদেশ কি করবে?

বাংলাদেশের চীনের টিকা নেওয়ার যেই সুযোগটি ছিল সেই সুযোগটি হাতছাড়া করেছে। চীন বাংলাদেশে যে মানবদেহে ট্রায়ালের জন্য অনুমতি চেয়েছিল সেই অনুমতিতে সিদ্ধান্ত দিতে বিলম্বের কারণে ওই টিকা প্রাপ্যতার অগ্রাধিকারে বাংলাদেশ এখন আর নেই। রাশিয়ার টিকা আনার জন্য বাংলাদেশে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তাছাড়া বাংলাদেশের ঔষধ অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে যে বাংলাদেশে টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন লাগবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গুলো যে টিকাগুলোকে অনুমোদন দিবে সেই টিকাই বাংলাদেশে প্রয়োগ করা যাবে। তাহলে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের শুধু ভারতের দিকে চেয়ে থাকা ছাড়া আর কোন পথ নাই। আর এই বাস্তবতায় সামনের দিনগুলোতে টিকা নিয়ে এক নতুন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে প্রথম থেকেই বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের টিকা নীতির সমালোচনা করেছিল এবং একটি জায়গা থেকে নয় বরং বহুমাত্রিক উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ করা যায় কিনা সেই সম্ভাব্যতা যাচাই করার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পথে না গিয়ে বাংলাদেশ কি ভুল করেছে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হচ্ছে এখন।

বিষয়: করোনা , টিকা