ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

প্রধান বিচারপতি অনড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শুক্রবার, ০৭:৫৯ পিএম
প্রধান বিচারপতি অনড়

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার অবস্থান পরিবর্তনে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সরকারের দুজন প্রতিনিধিকে তিনি বলেছেন, ‘খুব বেশি হলে, তিনি ষেড়শ সংশোধনী বাতিল রায়ের কিছু পর্যবেক্ষণ রিভিউ পিটিশনে বাদ দিতে পারেন, কিন্তু পুরো রায় বাতিল করার প্রশ্নই ওঠে না।’ প্রধান বিচারপতি দেশে ফেরার পর সরকারের পক্ষ থেকে দুজন ব্যক্তি তার সাথে ‘সমঝোতা’র চেষ্টা করেছেন। এদের একজন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। ওই উপদেষ্টা সমঝোতার অগ্রগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, প্রধান বিচারপতিকে পেছন থেকে কেউ কলকাঠি নাড়ছেন।

সংসদ ৭২-এর সংবিধানের পূন:স্থাপন করে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদে ফিরিয়ে আনে। এই বিধানটি ৭২ এর সংবিধানে ছিলো। কিন্তু সংবিধানের ওই ষোড়শ সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট হয়। হাইকোর্ট ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ এবং সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে রায় দেয়। রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপীল করলে, আপীল বিভাগও সর্বসম্মত রায়ে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল বহাল রাখেন। এরপর সংসদে দু-দফা এ নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে গণমাধ্যমেও অনেক সমালোচনা হয়। তার সততা এবং স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এই রায়ের পরপরই রআওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গহর রিজভী প্রধান বিচারপতির সাথে কথা বলেন। এছাড়া ইদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গণভবনে গেলে শেখ রেহানার সাথে প্রধান বিচারপতির দীর্ঘ আলাপ হয়।    

সরকারী একাধিক সূত্র বলছে, সরকার এরকম ধারণা পেয়েছিল যে, রিভিউ আবেদন করা হলে প্রধান বিচারপতি তাঁর মত পাল্টাবেন। প্রধান বিচারপতি আকারে ইঙ্গিতে এরকম কথাই বলেছিলেন। কিন্তু আদালত খোলার আগে আগেই প্রধান বিচারপতি আবার আগের অবস্থানেই ফিরে গেছেন বলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এমন একজন বলেছেন। শুধু তাই নয়, নিম্ন আদালতের বিচারকদের আচরণবিধি নিয়েও সরকারের সাথে সমঝোতায় যেতে তিনি অস্বীকার করেছেন। তিনি এরকমও হুমকি দিয়েছেন যে, ‘আমাকে সরালে সরকারই বিপদে পড়বে।’ তিনি ‘একক নেতৃত্ব’ সম্পর্কে তাঁর পর্যবেক্ষণসহ কিছু বিষয় বাদ দিতে রাজি হয়েছেন। কিন্তু পুরো রায় প্রশ্নে তিনি অটল।

তাঁর সঙ্গে যোগাযোগকারী একজন বলেছেন, বুঝতে পারছি না। কেউ সম্ভবত তাঁকে বুদ্ধি পরামর্শ দিয়েছে। সকালে তিনি নমনীয় থাকলেও বিকালে কঠোর হচ্ছেন। আগে বলেছিলেন, ‘রিভিউ করলেই আমি বিবেচনা করব।’ এখন বলছেন, ‘রিভিউয়ের সীমারেখা খুবই সীমিত।’

ছুটি শেষ হয়ে আগামী ৩ অক্টোবর সুপ্রীম কোর্ট আবার চালু হচ্ছে। এসময় আবার সরকারের নির্বাহী বিভাগের সাথে প্রকাশ্য বিরোধের সম্ভাবনা আবার বাড়বে। একটি মহল প্রধান বিচারপতিকে তাঁর অবস্থানে অনড় থাকার পরামর্শ দিচ্ছে। এ ব্যাপারে সন্দেহের তীর ড: কামাল হোসেনের দিকে। রায় প্রকাশের পর ড: কামাল হোসেন এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘রায়ের একটি শব্দও বাদ দেয়ার কারণ দেখি না।’ 


বাংলা ইনসাইডার