ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

হেফাজত নিয়ে সরকারের দুই মত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২১ সোমবার, ১০:০০ পিএম
হেফাজত নিয়ে সরকারের দুই মত

হেফাজত নিয়ে সরকারের দুই ধরণের অবস্থান পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের মধ্যে দুই রকমের মতামত দৃশ্যমান হচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা বলছে যে, যেকোনো ইস্যু নিয়ে একাধিক মতামত থাকতেই পারে। তার মানে মত ভিন্নতা নয়। হেফাজত ইস্যুতে সরকার এবং আওয়ামী লীগের অবস্থান একটাই। তা হলো কোনো ছাড় না দেওয়া। আওয়ামী লীগ এবং সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, হেফাজত ইস্যুতে তাদের মত ভিন্নতা রয়েছে। হেফাজত নিয়ে করণীয় কি এ নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারে প্রভাবশালী মন্ত্রীদের মতপার্থক্য আছে। তবে এই মতপার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক রীতি বলেই মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। বিশেষ করে গতরাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় হেফাজতের শফীপন্থি নেতৃবৃন্দের সাক্ষাতের পর হেফাজত নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা তাদের নিজস্ব মনোভাব প্রকাশে বলতে শুরু করেছেন।

আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশই মনে করেন যে, হেফাজতকে দমিয়ে দেওয়ার, হেফাজতকে নিঃশেষ করার এখনই সময়। হেফাজত নামের কোন সংগঠন থাকার যৌক্তিকতা নাই। এই সংগঠনটি এখন অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। সরকার যদি এই অবস্থা অনড় রাখে তাহলে হেফাজত বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আর এটিই হবে গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল মুক্তচিন্তার রাজনীতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। আওয়ামী লীগের এই অংশের নেতারা মনে করছেন যে, হেফাজতের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারা আরো শক্তিশালী হবে। তারা মনে করছে যে, সরকার ২৬-২৭ মার্চের পর খুব স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হেফাজতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং এটিতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। সাধারণ মানুষ সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। আর এ কারণেই হেফাজতের ব্যাপারে কোনো রকম ছাড় না দেওয়ার নীতিতে বিশ্বাস করেন আওয়ামী লীগের এই নেতারা। তারা মনে করেন যে, হেফাজতকে এখন কোন ছাড় দিলে তারা আবার সুযোগ বুঝে ছোবল মারবে। আওয়ামী লীগের নেতারা উদাহরণ দিয়ে বলেন, ২০১৩ সালের পর হেফাজতকে প্রচুর ছাড় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সমস্ত কথা হেফাজত মনে রাখেনি। তারা ঠিকই সরকারকে ছোবল মারার চেষ্টা করেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বাস্তবায়নে বাধা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের এই নেতারা মনে করেন যে, হেফাজতকে বিশ্বাস করা কোনোভাবেই উচিত হবে না।

অবশ্য এই মতামতের বিপরীত মতামতও পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের একটি অংশ মনে করেন যে, হেফাজতকে আওয়ামী লীগের অনুকূলে রাখা উচিত এবং অনুগত করে রাখা উচিত। তারা বলছেন যে, বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিক না দিক তাদেরকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা এবং তাদের সাথে একটি সমঝোতা রাখা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখন হেফাজতকে যদি সরকার প্রতিপক্ষ করে, হেফাজতকে যদি সরকার বন্ধ করে দেয় তাহলে এই সমস্ত মাদরাসার শিক্ষার্থীরা জঙ্গিবাদে দীক্ষিত হবে এবং বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন তাদেরকে লুফে নেবে। সেটি সরকারের জন্য আরো বিপদজনক। বরং হেফাজতকে সরকারের অনুগত রেখে হেফাজতকে আস্তে আস্তে সঠিক পথে নিয়ে আসাই একটি যৌক্তিক কাজ। তারা মনে করেন যে, ২০১৩ সালে হেফাজতের তাণ্ডবের পর সরকার যথাযথভাবে হেফাজতের সাথে সমঝোতা করেছিল এবং এই সমঝোতার প্রেক্ষিতে হেফাজত একটা অবস্থানে এসেছে। যে কারণে হেফাজতের অনেকেই জঙ্গি সংগঠনগুলোতে যায়নি। জঙ্গি সংগঠনগুলোর লোকের পাইপলাইন হলো হেফাজত। হেফাজতের মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনে লোকজন বেশি প্রবেশ করে। আর এ কারণেই হেফাজতকে সরকারের নজরদারির মধ্যে রাখাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতারা। তবে এই দুই মতের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কোন পথে সরকার যাবে সেটাই দেখার বিষয়।