ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সাহিত্যিক আবুল ফজলের ৩৮তম মৃত্যুবাষির্কী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ মে ২০২১ মঙ্গলবার, ০৭:৫৮ এএম
সাহিত্যিক আবুল ফজলের ৩৮তম মৃত্যুবাষির্কী আজ

প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আবুল ফজলের ৩৮তম মৃত্যুবাষির্কী আজ। তিনি ১৯৮৩ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সাহিত্যিক আবুল ফজল ১৯০৩ সালের ১৭ জুলাই চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত একজন চিন্তাশীল ও সমাজমনস্ক প্রবন্ধকার। তার প্রবন্ধে সমাজ, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্র সম্পর্কে গভীর ও স্বচ্ছ দৃষ্টিসম্পন্ন মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়।

আবুল ফজলের বাবার নাম মৌলভী ফজলুর রহমান ও মা গুলশান আরা। আবুল ফজল প্রাথমিক পড়াশোনা শুরু গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে। ১৯২৩ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯২৫ সালে ঢাকা ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। ১৯২৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ ও ১৯৪০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন।

বাবা চেয়েছিলেন আবুল ফজল পূর্বসূরিদের মতো মৌলভী হন। কিন্তু তাকে সাহিত্যই বেশি আকর্ষণ করত। শিক্ষক হওয়ার জন্য ১৯২৯ সালে বিটি পড়ার জন্য ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে ভর্তি হন। পাস করে ১৯৩১ সালে চট্টগ্রামে ফিরে আসেন। কিছুদিন চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে দ্বিতীয় মৌলবী হিসেবে চাকরি করেন। এরপর চট্টগ্রাম সরকারি মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে দুই মাস এবং পরে কাজেম আলী বেসরকারি হাইস্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে অস্থায়ীভাবে যোগ দেন।

১৯৩৩ সালে খুলনা জেলা স্কুলে দ্বিতীয় পণ্ডিতের পদে স্থায়ীভাবে যোগ দেন। ১৯৩৭ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে সহকারী ইংরেজি শিক্ষক পদে যোগ দেন। ১৯৪১ সালে কৃষ্ণনগর কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৪৩ সালে যোগ দেন চট্টগ্রাম কলেজে। এ কলেজের গভর্নিং বডির নির্বাচনে জয়ী হন। ১৯৫৯ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন আবুল ফজল। ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে শিক্ষা ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন এবং ১৯৭৭ সালের ২৩ জুন পদত্যাগ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ফজল। পরে সম্পাদকও হন। সংগঠনটির উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক কুসংস্কার থেকে মানুষকে মুক্ত করা। তাদের সামাজিক আন্দোলনের মূলকথা ছিল- ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।’ ১৯২৬ সালে তারা প্রকাশ করেন মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র ‘শিখা’।

মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও শিখার সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তারা ‘শিখাগোষ্ঠী’ নামে পরিচিত ছিলেন। এ গোষ্ঠী ঢাকায় বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন শুরু করে।

সেকালে সমাজ সচেতন লেখক হিসেবে আবুল ফজলের সুনাম ছিল। তার লেখায় উঠে এসেছে স্বদেশপ্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা, সত্যনিষ্ঠা ও মানবতাবোধ। ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রচার বন্ধের ঘোষণা দিলে তীব্র প্রতিবাদ জানান। উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম ও ভ্রমণকাহিনীসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখেছেন। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে— জীবনপথের যাত্রী, রাঙ্গা প্রভাত, চৌচির, মাটির পৃথিবী, আয়েশা, আবুল ফজলের শ্রেষ্ঠ গল্প, সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন, সমাজ সাহিত্য রাষ্ট্র, শুভবুদ্ধি, সমকালীন চিন্তা, রেখাচিত্র, সফরনামা এবং দুর্দিনের দিনলিপি।

আবুল ফজল অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬০), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৩), নাসিরুদ্দীন স্বর্ণপদক (১৯৮০), মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), আব্দুল হাই সাহিত্য পদক (১৯৮২) ও স্বাধীনতা পদক (মরণোত্তর, ২০১২)। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।

বিষয়: আবুল-ফজল