ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মমতার জয়ে কি শিখলো বাংলাদেশ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ মে ২০২১ মঙ্গলবার, ১১:০০ এএম
মমতার জয়ে কি শিখলো বাংলাদেশ?

নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ নিজেদেরকে ডবল ইঞ্জিন ঘোষণা করেছিল এবং ডবল ইঞ্জিন দিয়ে দিদিকে পশ্চিমবাংলা থেকে হটাতে চেয়েছিল বিজেপি সরকার। আর তাদের পাশে ছিলো নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন বিজেপিকে সুবিধা দিতে ৪৫ দিনব্যাপী করোনার মধ্যে নির্বাচন করেছে। এত দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন হয়নি বিজেপি যখন পুরো নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদকে সামনে তুলে ধরেছে তখনও নির্বাচন কমিশন চোখ বন্ধ করেছিল। আর যখন মমতা ব্যানার্জি হিন্দু মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হতে বলেছেন বিজেপির বিরুদ্ধে তখন নির্বাচন কমিশন তাকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

সর্বশেষ নন্দীগ্রামের ফলাফল নিয়েও যে নাটক হয়ে গেল তাতে স্পষ্ট হলো যে, মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবাংলার নির্বাচনে দুইদিকে সংগ্রাম করেছেন। প্রথমত, ভয়ঙ্কর সরকারের বিরুদ্ধে। যে সরকার অত্যন্ত ক্ষমতাবান, যার টাকার কোন অভাব নেই এবং প্রশাসন থেকে সবকিছু যার নিয়ন্ত্রণে। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কমিশন। যে নির্বাচন কমিশন বিজেপি সরকারের অন্ধ সমর্থক এবং যাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে। এছাড়াও মমতা ব্যানার্জিকে আরো কিছু অদৃশ্য শত্রুর মুখোমুখি হতে হয়েছিল নির্বাচনে। কর্পোরেট মিডিয়া পুরোটাই ছিলো বিজেপির দখলে এবং তারা পুরো নির্বাচন জুড়ে নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ বন্দনা করেছিল। পশ্চিমবাংলার প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক বিজেপির বিজ্ঞাপনে পরিণত হয়েছিল। আর ধনাঢ্য ব্যবসায়ী মহল তারা যেন বিজেপিকে জেতানোর জন্য কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছিল। এইসব শক্তির বিপরীতে মমতা ব্যানার্জির একটি শক্তি ছিলো, তা হলো জনগণ। পশ্চিমবাংলার জনগণের প্রতি তার আস্থা ছিল এবং তিনি জনগণের সঙ্গেই সংযুক্ত হতে পছন্দ করেন। এই নির্বাচনে তাই বিজয়ী হয়ে তিনি অনেক কিছু প্রমাণ করে দিলেন।

১. তিনি দেখালেন যে কেন্দ্রীয় সরকার যত ক্ষমতাবান শক্তিশালী হোক না কেন তারা জনগণের চেয়ে শক্তিশালী নয়।
২. নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে নির্বাচনে কিছু কারচুপি করা যায় কিন্তু তা জনগণের শক্তির কাছে পরাস্ত হতে বাধ্য।
৩. কর্পোরেট মিডিয়া যতই পক্ষপাতমূলক খবর পরিবেশন করুক না কেন মাঠে তার প্রভাব খুব কম পড়ে।
৪. বড় বড় ব্যবসায়ীরা যতই তাদের স্বার্থের জন্য একটি দলকে সমর্থন দিক না কেন জনগণ যেটা ভাবে সেটাই হয়।
৫. জনগণ শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে না। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব হলো জনগণের এই সিদ্ধান্তকে যেন ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যায়।

আর মমতা ব্যানার্জি সেই কাজটিই করেছেন। পশ্চিমবাংলা নির্বাচনের পর বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অনেক কিছুই শেখার আছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রথমত, বাংলাদেশে যে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সবসময় ভোট কারচুপি বলে আর্তনাদ করে তারা মমতা ব্যানার্জীর কাছ থেকে শিখতে পারে যে নরেন্দ্র মোদির মতো প্রচণ্ড ক্ষমতাশীল প্রধানমন্ত্রী যে নির্বাচনে সরাসরি প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন, যে নির্বাচনে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করা হয়, সেই নির্বাচনেও বিজেপি জিততে পারেননি। মাটি কামড়ে যদি কেউ শেষ পর্যন্ত থাকে তাহলে নির্বাচনে প্রতিপক্ষ কারচুপি করতে পারেনা। বাংলাদেশেও অনেকেই নির্বাচন কমিশন নিয়ে নানারকম কথাবার্তা বলার চেষ্টা করে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাত নিয়ে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাত অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় বাধা নয় সেটা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন আরেকবার প্রমাণ করে দিলো।

মিডিয়ার পক্ষপাতের কথাও বলা হয়। সেটিও মমতা ব্যানার্জীর কাছ থেকে শিখতে পারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো। মমতা ব্যানার্জি একটা বিষয় শিখিয়ে দিয়েছেন তার এই নির্বাচনে, সেটি হলো মানুষের শক্তির উপর আস্থা। মানুষের শক্তি সবচেয়ে প্রবল এবং পরাক্রমশালী, অন্য কোন কিছু নয়। এটি যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর শিখবে, তখন বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিশ্চয়ই আরো শক্তিশালী হবে।