ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

হেফাজতের তাণ্ডবের আট বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ মে ২০২১ বুধবার, ০৭:৫৮ এএম
হেফাজতের তাণ্ডবের আট বছর

আজ ৫ মে। হেফাজতের চরম বর্বরতা, নৃশংসতা এবং তাণ্ডবের আট বছর। ২০১৩ সালের এই দিনে ঢাকা ঘেরাও এবং মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচির নামে মতিঝিল-পল্টনসহ আশপাশ এলাকায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, যানবাহন, ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। চরম এক ভীতিকর অবস্থা তৈরি হয় সেদিন। আর সেটা তৈরি করে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। 

কেটে ফেলা হয় সড়কের দু’পাশে শত  শত গাছ। এমনকি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে কোরআন শরীফে আগুন দেওয়া হয়। তাদের নৃশংস হামলা  থেকে রক্ষা পায়নি ফুটপাতের শত শত দোকানিও। হেফাজতের এই চরম বর্বরতা ও নৃশংসতার সাক্ষী হয়েছিল রাজধানীবাসী। ৫ মে গভীর রাতে পুলিশ-র‌্যাব ও বিজিবির  সমন্বয়ে যৌথ কমান্ডো অভিযানের মুখে মতিঝিল ছাড়তে বাধ্য হয় হেফাজতের উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীরা।

২০১৩ সালে ৫ মে। দিনটি ছিলো রোববার। ঢাকা অবরোধের নামে মতিঝিল এলাকায় প্রায় ৮ ঘণ্টা তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা। এতে মতিঝিল এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। হেফাজতের কর্মীরা দোকানপাট, মার্কেট, বাণিজ্যিক ভবন,  অফিস, গাড়ি সব কিছুতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ওই দিন ভোর পাঁচটা ফজরের নামাযের পরই ঢাকার প্রবেশপথগুলো দখলে নিয়েছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা।

ঢাকার উত্তরে গাবতলী বাস টার্মিনাল, টঙ্গী এবং দক্ষিণে সায়দাবাদের কাছে কাঁচপুর ব্রিজসহ রাজধানীকে ঘিরে ছয়টি প্রবেশমুখেই অবরোধ তৈরি করেছিলেন হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে সারাদেশ থেকে আসা বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষক। বেলা বাড়ার সাথে সাথে অবরোধকারীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়াতে থাকলো, যখন এর নেতৃত্ব ঢাকার ভেতরে প্রবেশ করে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলো।

হেফাজত যখন তাণ্ডব চালাচ্ছিলো তখন পুলিশ বাধা দিতে গেলে তাদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। মতিঝিল এলাকা পরিণত যুদ্ধক্ষেত্রে। শুধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়, সেখানকার আবাসিক ভবনগুলোতে এক নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এবং পল্টন এলাকায় সহিংসতা চলেছিল সন্ধ্যার পরও।

সমাবেশের জন্য বেঁধে দেয়া নির্ধারিত সময় বিকেল ৫টার পরও শাপলা চত্বরে থেকে যাওয়ার ঘোষণা দেয় হেফাজতের কর্মীরা। এরপর রাত আড়াইটার দিকে বিজিবি,  ব়্যাব ও পুলিশের যৌথ বাহিনী মতিঝিলকে ঘিরে অভিযান শুরু করলে ১০ মিনিটের মধ্যেই হেফাজতের কর্মীরা পিছু  হটে যায়। ওই দিন রাত পৌনে তিনটায় শুরু হয় মূল অভিযান। এর আগে সন্ধ্যার দিকে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া হেফাজতে ইসলামীর কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দেয়। মূলত তার এই বিবৃতির পর থেকে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে হেফাজতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।

অভিযানের সময় হেফাজতের শত শত কর্মী সমর্থক মতিঝিল এলাকায় বিভিন্ন ভবনে আশ্রয় নেন। পুলিশ পুরো এলাকার দখল নেওয়ার পর বিভিন্ন ভবনে আশ্রয় নেওয়াদের বের করে এনে ওই এলাকা ছেড়ে যেতে সহায়তা করে। মতিঝিল থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর হেফাজত কর্মীদের বড় একটি অংশ ২০১৩ সালে ৬ মে, সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এবং সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থান নেয়। তারা সেখানে পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন ও পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

হেফাজতের হামলা থেকে মুক্তি পায়নি গণমাধ্যমের কর্মীরাও। এছাড়া পল্টন এলাকায় অবস্থিত ব়্যাংগস ভবনের ‘সকালের খবর’ পত্রিকা অফিসে আগুন দেয়। ওই দিন সংবাদ সংগ্রহ করার সময় রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় হামলার শিকার হন একুশে টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার নাদিরা শারমিন। পুরুষদের মধ্যে নারী রিপোর্টার কেন? এমন প্রশ্ন তুলে হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা নাদিরাকে পেটাতে থাকে। পরে মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নাদিরা ছাড়াও হেফাজত কর্মীদের হামলায় আরও ৭ সংবাদকর্মী আহত হন। দায়িত্ব পালনের সময় হেফাজত কর্মীরা প্রথমে সাংবাদিকদের `দালাল-নাস্তিক` আখ্যায়িত করে গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

আর এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে হেফাজতে ইসলামের চরম বর্বরতা ও নৃশংসতার সাক্ষী হয়েছিল রাজধানীবাসী।