ঢাকা, রোববার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সরকারের জন্য ৫ দুর্ভাবনার বিষয় 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ মে ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৭:৫৯ পিএম
সরকারের জন্য ৫ দুর্ভাবনার বিষয় 

টানা ১২ বছরের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নানামুখী সংকট বাড়ছে আওয়ামী লীগ সরকারের। একটি সংকট চলে গেলে আরেকটি সংকট নতুন করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সংকট সরকারের জন্য দুর্ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই সংকটগুলো থেকে উত্তরণ না করতে পারলে সরকারের প্রতি জনগণের যে আস্থা সেই আস্থায় ফাটল ধরতে পারে বলে অনেকে মনে করছে। আর যে বিষয়গুলো নিয়ে সরকার এখন দুর্ভাবনায় পড়ছে তার মধ্যে রয়েছে,

১. টিকা সংকট: গতকাল থেকে বাংলাদেশে করোনার টিকা নিবন্ধন বন্ধ করা হয়েছে। টিকার সংকট এখন দৃশ্যমান হয়েছে এবং বিভিন্ন মন্ত্রী বিভিন্ন রকম কথাবার্তা বললেও শেষ পর্যন্ত টিকা কবে আসবে এবং নতুন করে করোনার টিকা কর্মসূচি চালু করা যাবে কিনা সে নিয়ে সরকারের মধ্যে দুশ্চিন্তার রেখা ক্রমশ বড় হচ্ছে। কারণ সরকার চাইলেই আগামীকাল টিকা আনতে পারবে এমন বাস্তবতা নেই। টিকা আমদানিটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার এবং সেই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ কবে কিভাবে আবার টিকা পাবে এ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ নিয়ে জনমনে নানা রকম প্রশ্ন উঠেছে।

২. ভারতের করোনা পরিস্থিতি: সরকারের জন্য দ্বিতীয় উদ্বেগের বিষয় দাঁড়িয়েছে ভারতের করোনা পরিস্থিতি। ভারতে যেভাবে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে এই ঢেউ যে কোনো সময়ে বাংলাদেশে আছরে পড়তে পারে। বাংলাদেশে যদি ভারতের অর্ধেক পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে সেটা সরকারের জন্য সামাল দেওয়া খুব কঠিন হবে। এরকম একটা বিপর্যয়কর পরিস্থিতি বাংলাদেশে যেন না হয় সেটি সকলে কামনা করে। এটি নিয়ে সরকারের মধ্যে দুর্ভাবনা ক্রমশ বাড়ছে।

৩. হেফাজত, ছাত্র অধিকার, উগ্র মৌলবাদ: সরকারের আরেকটি ভাবনার বিষয় দাঁড়িয়েছে হেফাজত, ছাত্র অধিকার এবং অন্যান্য উগ্রবাদীদের তৎপরতা। সরকার হেফাজতকে সফলের সঙ্গে দমন করেছে। কিন্তু হেফাজত একেবারে মিলিয়ে যাবে বা হেফাজতকে পুরোপুরি দমন করা হয়েছে এমনটি সরকার মনে করে না। বরং সরকারের ভাবনার বিষয় এটি যেকোন সময় হেফাজত নতুনরূপে আসতে পারে এবং সেটি সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের চাপ হবে। হেফাজত এবং ছাত্র অধিকার সরকারের জন্য একটি ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

৪. খালেদার বিদেশযাত্রার অনুমতি: মানবিক কারণে হয়তো শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এই অনুমতির ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া নিয়ে সরকার ভাবিত এবং চিন্তিত। সরকার যদি অনুমতি না দিতো তাহলে এর দায়-দায়িত্ব সরকারের ওপর আসতো যে সরকার একজন মুমূর্ষু রোগীকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। আবার খালেদা জিয়ার বিদেশে যেয়ে যে রূপ পাল্টে ফেলবে এটি সরকার ভালো মতই জানে এবং তখন সরকার পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করবে সেটি নিয়ে সরকারের মধ্যে এক ধরনের ভাবনা রয়েছে।

৫. সরকারের ভেতর সমন্বয়হীনতা: ক্রমশ সরকারের ভেতরে সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে। এক মন্ত্রণালয় আরেক মন্ত্রণালয়ের কাজের ব্যাপারে কথা বলছে। টিকা নিয়ে একেক মন্ত্রী একেক রকম কথা বলছেন। সকালে একরকম বলছেন আবার বিকেলে এক রকম বলছেন। আর এই সমন্বয়হীনতা সরকারের জন্য একটা ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কাজটা করবে তার সুনির্দিষ্টকরণ নেই। বরং কাজ নিয়ে এক ধরনের দায়িত্বহীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সবাই যার মতো করে সমস্যা সমাধানের জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। কাজের কাজটা কেউ করছেন না। সরকারের ভেতরে এই সমন্বয়হীনতা সরকারকে এক নতুন ভাবনায় ফেলেছে।

এই দুর্ভাবনাগুলো থেকে উত্তরণের মাধ্যমে সরকারকে সফল হতে হবে এবং সে উত্তরণের পথটি নিয়ে কি হবে সেটিই সরকারের চিন্তার বিষয়।