ঢাকা, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

পাচিং পদ্ধতিতে ধান চাষে সুফল

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০১৭ সোমবার, ০৭:৪৩ পিএম
পাচিং পদ্ধতিতে ধান চাষে সুফল

ধানের জমিতে ক্ষতিকর পোকাদমনে প্রকৃতিক পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে সুফল পাচ্ছেন ঝিনাইদহের কৃষকরা। বাংলাদেশের প্রধান ফসল ধান। এদেশের মানুষ কৃষির ওপর নির্ভর করে চলতে হয়। কৃষক বছরে ৩ বার ধান রোপন করে থাকে। ধান উৎপাদনের প্রধান অন্তরায় ক্ষতি কারক পোকার আক্রমণ। ধান ক্ষেতের পোকা দমনের জন্য কৃষক ব্যাপক হারে কীটনাশক ব্যবহার করেছে। এতে করে বন্ধুপোকা সহ পানি মাটি বাতাস দৃষিত হয়ে পড়তো, এমন কি কৃষকের স্বাস্থ্য ঝুকিতে থাকতো। কিন্তু কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এখন কমতে শুরু করেছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটি, মধুহাটী, সাগান্না হলিধানী,কুমড়োবাড়ী ইউনিয়নে প্রায় জমিতে আধুনিক জাতের ধান লাইন, লোগে সহ পাচিং করা হয়েছে। বর্তমান মাঠে ধানের অবস্থা অত্যন্ত ভালো। এসব প্রযুক্তি প্রয়োগে ধান ক্ষেতে কৃষকদের পোকা ও রোগবালাই নাশক দেওয়ার প্রয়োজন পড়ছেনা। ফলে পরিবেশের স্বাস্থ্য ভাল সহ উৎপাদন খরচ কম হচ্ছে ও কৃষক নিরাপদ স্বাস্থ্য সম্মত ফসল উৎপাদন করছে।

বড়বাড়ী গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম ও  শিমুল জানান, ধানের অবস্থা খুব ভালো। এ বার আমরা লোগে সহ লাইনে আমন ধান রোপন করেছি এবং জমিতে পাচিং করেছি ফলে পোঁকার আক্রমণ নেই আমরা কৃষি অফিসার মেসবাহ আহামেদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষাবাদ করার ফলে আর্থিক ভাবে লাভবান হব এমনটি আসা তাদের ।

সাধুহাটির কৃষক ইদ্রাস আলী জানান এভাবে কৃষি বিভাগের নতুন নতুন প্রযুক্তি কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কৃষি বিভাগের অভিনন্দন জানাই।

সাধুহাটি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও মধুহাটী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মেসবাহ আহামেদ জানান,  লাইন লোগে পদ্ধতিতে ধান রোপন করা শতভাগ জমিতে পাচিং করা হয়েছে। ধান ক্ষেতে ধৈঞ্চা ও ডাল পুতো পোঁকা খেকো পাখি বসার ফলে ধানের জমিতে কীটনাশক খরচ কম হচ্ছে ও পরিবেশের ভারসম্য রক্ষা হচ্ছে। ফলে কৃষক আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মো. মনিরুজ্জমান বলেন, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গড়ে ৮০ শতাংশ জমিতে লাইন ৫০ শতাংশ জমিতে লোগো ও প্রায় ১০০ শতাংশ পাচিং করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তি পোঁকা ও রোগ ব্যবস্থাপনা খুবই ফলপ্রসু। তাই কৃষক খুবই স্বাচ্ছান্দ পূর্ণভাবে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। সদর উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সার্বক্ষনিক ভাবে এসব প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন ফসলের নতুন নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগে নিবিড় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা আাশা করছি এবার আমন ধানের ফলন অত্যন্ত ভাল হবে এবং কৃষক খুবই লাভবান হবেন। তিনি আরো জানান ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ২২ হাজার ৫৬০ হেক্টর ও অর্জিত হয়েছে ২৩ হাজার ৮০০ হেক্টর।

বাংলাইনসাইডার/এসএস

বিষয়: জেলা-সংবাদ