ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কেন ছুটি নিলেন বিচারপতি সিনহা?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০১৭ সোমবার, ০৮:২৫ পিএম
কেন ছুটি নিলেন বিচারপতি সিনহা?

সকালে নাস্তার টেবিলেই ছুটির সিদ্ধান্ত নেন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এর আগে দুই মেয়ের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা  বলেন প্রধান বিচারপতি। নাস্তার টেবিলে স্ত্রীকে ছুটির সিদ্ধান্ত জানান। সকাল সাড়ে নয়টায় প্রধান বিচারপতি তাঁর কার্যালয়ে যান। চেম্বারে বসে তিনি অবকাশকালীন ছুটির পর হাইকোর্টের বেঞ্চ পূণ:বিন্যাস করেন। এ সংক্রান্ত আদেশ সই করার পর তিনি তাঁর ব্যক্তিগত স্টাফকে ছুটির অবগতি পত্র টাইপ করতে বলেন। দশ মিনিটের মধ্যে চার লাইনের ইংরেজিতে লেখা পত্রটি টাইপ হয়ে আসে। প্রধান বিচারপতি এটি দেখে স্বাক্ষর করেন। অবগতি পত্রটি চলে যায় রেজিস্টারের মাধ্যমে আইন মন্ত্রণালয়ে। দুপুর দেড়টায় আইন মন্ত্রণালয় দরখাস্তটি বঙ্গভবনে পাঠায়। বিকেল ৩টায় রাষ্ট্রপতি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিচারপতি আবদুল ওয়াহাব মিঞাকে নিযুক্ত করেন ।

প্রশ্ন উঠেছে, প্রধান বিচারপতি কেন ছুটি নিলেন? গত ১ অক্টোবরও তাঁর ছুটি নিয়ে কোনো আলোচনা ছিল না। সরকার কি কোনো চাপ দিয়েছিল? নাকি অন্য কোনো কারণে প্রধান বিচারপতি ছুটি নিলেন? যদিও দরখাস্তে প্রধান বিচারপতি অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করেছেন।

বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সরকারের কোনো চাপ নয় বরং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি দুজন আইনজীবীর সঙ্গে আলাপের পরই মোহভঙ্গ ঘটে প্রধান বিচারপতির। তারপরই তিনি ছুটির সিদ্ধান্ত নেন। ছুটির পত্র পাঠানোর পর কেবল তার এক ঘনিষ্ঠ আইনজীবী বন্ধুর সংগেই কথা বলেন তিনি। তাঁকে বলেন ‘তোমরা এভাবে আমার ঘাড়ে বন্ধুক রেখে গুলি করতে চাইছ কেন?’ তার ছুটির খবর ছড়িয়ে পরলে একাধিক সিনিয়র আইনজীবী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও, তিনি কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করেননি। সুপ্রীম কোট আইনজীবী সমিতির সাথেও তিনি কথা বলেন নি।

জানা গেছে, ২৫ সেপ্টেম্বর এবং ১ অক্টোবর দুজন সিনিয়র সুশীল সমাজের প্রতিনিধি আইনজীবী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেন। তারা ৮ অক্টোবর মাজদার হোসেন মামলার আলোকে অধ:স্তন আদালতের বিচারকদের আচরণ বিধি নিয়ে কথা বলেন। প্রথম দিনের আলাপে, একজন আইনজীবী প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করেন সরকারকে আর যেন সময় না দেয়া হয়। এতে প্রধান বিচারপতি একটু অবাক হন, তিনি বলেন ‘আমরা তো সমস্যার সমাধান চাই। যুদ্ধ চাই না। আপনারা যুদ্ধ লাগাতে চাইছেন কেন?’ এরপর প্রধান বিচারপতি তার ঘনিষ্ঠ আইনজীবীকে ডেকে এনিয়ে তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন ‘এরা দেশে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য আমাকে ব্যবহার করতে চাইছে।’

১ অক্টোবর ছুটির দিনে, একজন সিনিয়র প্রভাবশালী আইনজীবী প্রধান বিচারপতিকে ফোন করেন। প্রধান বিচারপতির সাথে ওই আইনজীবীর প্রায় ১৭ মিনিট কথা হয়। সেখানে ওই সিনিয়র আইনজীবী সরকারের রিভিউ এ নমনীয় না হওয়ায় জন্য প্রধান বিচারপতিকে পরামর্শ দেন। তিনি প্রধান বিচারপতিকে প্রচ্ছন্ন ভাবে হুমকি দেন, যে রায়ের বিভিন্ন মন্তব্য এবং পর্যবেক্ষন পাল্টালে সিনিয়র আইনজীবীরা তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনবে। ওই আইনজীবী তাঁকে এও বলেন যে ‘আপনার অতীত আমরা সবাই জানি।’ এই টেলিফোন আলাপের পর প্রধান বিচারপতি বুঝতে পারেন, এদের আসল উদ্দেশ্য। পরিস্থিতি নিয়ে তিনি প্রায় সারা রাত চিন্তা করেন। পরামর্শ করেন স্ত্রীর সঙ্গেও। আর ২ অক্টোবর তিনি ছুটির সিদ্ধান্ত নেন। ‘কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী প্রধান বিচারপতিকে দিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার খেলায় নেমেছিল’-এটা যখন প্রধান বিচারপতির কাছে পরিস্কার হয়, তখনই তিনি ছুটির সিদ্ধান্ত নেন, জানিয়েছেন আইনপাড়ার বাইরের প্রধান বিচারপতির এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ