ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিচারপতি সিনহার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তদন্তে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০১৭ মঙ্গলবার, ১০:৩২ এএম
বিচারপতি সিনহার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তদন্তে

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সোনালী ব্যাংকের সুপ্রিমকোর্ট শাখার অ্যাকাউন্টে থাকা ৪ কোটি টাকার তদন্ত শুরু করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত আড়াই বছরে এই অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু করেছে তারা। ইতিমধ্যে দুদক সোনালী ব্যাংকের ওই শাখা থেকে সব কাগজপত্র জব্দ করেছে। যেকোনো সময় প্রধান বিচারপতির কাছে এই টাকার উৎস জানতে চেয়ে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

গত বছর ৯ নভেম্বর দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে দুই কোটি করে চার কোটি টাকা জমা হয় প্রধান বিচারপতির অ্যাকাউন্টে। এর আগে ৮ নভেম্বর ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহার ঋণ অ্যাকাউন্ট থেকে এই চার কোটি টাকার পে-অর্ডার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নামে ইস্যু করা হয়।

জানা গেছে, প্রধান বিচারপতিকে টাকা প্রদানকারী মো. শাহজাহান তার পিতার নাম আমির হোসেন (মৃত)। ঋণ আবেদনে নিজের পেশা হিসেবে চাকরি ও ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। তার টিআইএন উল্লেখ নেই আবেদনে। গত বছরের ৬ নভেম্বর ঋণ এ্যাকাউন্ট খোলার পর ৮ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নামে দুই কোটি টাকার পে-অর্ডারের জন্য আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পে-অর্ডার ইস্যু করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পে-অর্ডারের পর এই এ্যাকাউন্টে আর কোনো লেনদেনও হয়নি। আবার প্রধান বিচারপতিকে টাকা দেওয়া আরেকজন নিরঞ্জন চন্দ্র সাহার পেশা উল্লেখ নেই ব্যাংকের তথ্য ফর্মে। উল্লেখ নেই টিআইএনও। তিনিও একই ভাবে ৬ নভেম্বরে ঋণ অ্যাকাউন্ট খোলার পর ৮ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নামে দুই কোটি টাকার পে-অর্ডারের জন্য আবেদন করেন। একই ভাবে তার আবেদনের প্রেক্ষিতেও পে-অর্ডার ইস্যু করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কিন্তু এরপর নিরঞ্জন চন্দ্র সাহার অ্যাকাউন্টেও আর কোনো লেনদেন হয়নি।

এর আগে নভেম্বরে দাখিল করা আয়কর রিটার্নে ভাইয়ের নামে বরাদ্দ রাজউকের প্লটের ওপর নির্মিত বাড়ি নিজের নামে দেখিয়েছেন তিনি। এই পে ওর্ডারেরও কোনো তথ্য নেই প্রধান বিচারপতির দাখিল করা আয়কর রিটার্নে। আবার নিজের নামে বরাদ্দ প্লট আয়কর রিটার্নে দেখাননি। প্রধান বিচারপতির ভাইয়ের প্লটের আকার-আয়তনও বদল হয়েছে। উত্তরায় ওয়াসার পানির পাম্পের ভেতরে দেয়াল তুলে ওই প্লটটি তৈরি করে রাজউক। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদনও প্রচার করে।

এখন আয়কর রিটার্নে অসঙ্গতি ও ব্যাংক এ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য প্রকাশের ফলে বিতর্কের মুখে পড়েছেন বিচারপতি সিনহা। এর আগে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়েও সমালোচনার মুখোমুখি হন। রায়ের পর তার পদত্যাগের দাবিও ওঠে বিভিন্ন মহলে। বর্তমানে ছুটিতে আছেন তিনি। আগেই আজ মঙ্গলবার থেকে ছুটি চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছিলেন। এসব সমালোচনার কারণে এই ছুটি কিনা তা নিশ্চিত না হওয়া গেলেও এই আকস্মিক ছুটির কারণে গুঞ্জণ ডালপালা মেলতে শুরু করেছে।

বাংলা ইনসাইডার/আরএস/জেডএ