ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

`আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যার রায় কার্যকরের উদ্যোগ নেয়া হবে`

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ মে ২০২১ শুক্রবার, ০৯:৪৮ পিএম
`আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যার রায় কার্যকরের উদ্যোগ নেয়া হবে`

আদালতের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যার রায় দ্রুত কার্যকরের উদ্যোগ নেয়া হবে জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার রায় কার্যকরে বিলম্বিত হচ্ছে। আদালতের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এই মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে।’

শুক্রবার (৭ মে) সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ১৭তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, যারা আহসান ঊল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করেছে তাদের বিচারের রায় এখনও কার্যকর হয়নি। অবিলম্বে যাতে রায় কার্যকর হয় তার ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংগঠনের সভাপতি ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল বাতেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানের পরিচালনায় সভায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতিষ্ঠিত হয়েদ্রাবাদ জনকল্যাণ সমিতি ও আহসান উল্লাহ মাস্টার স্মৃতি পরিষদ বাদ আসর মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। এছাড়াও বাদ জুমা মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে দিনের শুরুতে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের সন্তান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল পিতার কবরে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান এবং কবর জেয়ারত করেন। পরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মেহের আফরোজ এমপি, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

স্মরণ সভায় মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের জীবন ও কর্মের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি টঙ্গী আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে দুইবার সংসদ সদস্য, ১৯৯০ সালে গাজীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৩ ও ১৯৮৭ সালে দু-দফা পূবাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য। তিনি জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) চেয়ারম্যান। তিনি শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সমাজসেবামূলক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৯২ সালে উপজেলা পরিষদ বিলোপের পর চেয়ারম্যান সমিতির আহ্বায়ক হিসেবে উপজেলা পরিষদের পক্ষে মামলা করেন এবং দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তিনি গ্রেফতার হন এবং কারা ভোগ করেন।

শুক্রবার বিকেলে কবরের পাশে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রয়াতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে বিএনপি জোট সরকারের মদতপুষ্ট একদল সন্ত্রাসী নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে।