ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সরকার কি চাপে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ মে ২০২১ রবিবার, ০৮:৫৯ পিএম
সরকার কি চাপে?

শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া হচ্ছে না। সরকার এ ব্যাপারে নাটকীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে। বেগম জিয়ার বিদেশ যাওয়ার এখন প্রয়োজনীয়তা নেই বলেই সরকার মনে করছে। হেফাজতের সাথেও যে কথিত সমঝোতার কথা বলা হচ্ছিল সেই সমঝোতাও আপাতত হচ্ছেনা। বরং হেফাজতের বিরুদ্ধে সরকার আরো সাঁড়াশি অভিযানে যাচ্ছে। আর এইসব অনমনীয় অবস্থান সরকারকে চাপে ফেলবে কিনা এই প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠেছে। অনেকেই মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া ছিলো একটি স্বতঃস্ফূর্ত চাওয়া।

দেশের অধিকাংশ মানুষই মনে করেছিল যে, সরকার বোধহয় শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেবেন। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইনমন্ত্রী যে সহানুভূতিশীল বার্তা দিয়েছিলেন তাতে মানুষের মধ্যে এই ধারণাটা আরও প্রকট হয়েছিল। কিন্তু সাধারন মানুষ ভুলে গেছে যে সরকারের উদারতা এবং বদান্যতার কারণেই বেগম খালেদা জিয়া এখন বাইরে আছে। না হলে তার এখনও জেলে থাকার কথা ছিলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদারতা দেখিয়ে তাকে জেল থেকে মুক্ত করে তার বাসায় তার বাসায় রেখে দেন। এমনকি বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রথম গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তখনও তাকে জেলে একজন গৃহপরিচারিকাকে দেওয়া হয়েছিল যা জেল আইন এবং প্রচলিত সমস্ত আইন কানুনের পরিপন্থী। আর এটি হলো মহানুভবতা।

কিন্তু একজন দণ্ডিত মানুষকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হলো আইনের প্রতি অবমাননা এবং বিচার বিভাগের কাজের উপর হস্তক্ষেপ। আর এই দুটির পার্থক্য বুঝতে হবে। যেইটুকু সরকারের মহানুভবতার জায়গা ছিলো সেই মহানুভবতার জায়গাটুকু সরকার করেছে কিন্তু মহানুভবতার পাশাপাশি সরকারের যে দায়িত্বের জায়গা আছে আইনের প্রতি সম্মান দেখানো এবং আইনের চোখে সকলে সমান, সংবিধানকে প্রতিপালন করা ইত্যাদি জায়গাগুলো সরকারকে অবশ্যই মান্য করতে হবে। আর এই মান্য করতে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সরকারকে অন্যরকম সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে সরকার মানবিক এবং মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু চিকিৎসা এক জিনিস আর বিদেশে যাওয়া অন্য জিনিস। তাছাড়া বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে শেষের দিকে এক ধরনের নাটক পরিলক্ষিত হয়েছে। তার চিকিৎসা নিয়ে একটি ধুম্রজাল সৃষ্টি করে যেকোনো মূল্যে তাকে বিদেশে পাঠানোর একটি প্রক্রিয়া দেয়া হয়েছে। সরকারের দূরদৃষ্টিতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটা ফ্যাক্টর। সরকার বুঝতে পেরেছে যে, এরকম নাটক হচ্ছে। আর সে কারণেই সরকার এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করেছে, সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে তবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দ্বিতীয় বিষয় যেটি হেফাজতের ক্ষেত্রে বারবার মনে হয়েছিল যে সরকার হেফাজতের সঙ্গে সমঝোতা করছে কিন্তু হেফাজতের সাথে সরকার সমঝোতা করেনি। কয়েকজন নেতা একজন মন্ত্রীর বাসায় গিয়ে দেখা করতে চাইলে মন্ত্রী যদি দেখা করেন সৌজন্যতা, সমঝোতা নয়। এই বার্তাটি সরকার সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে। হেফাজতের বিরুদ্ধে যে অভিযান সে অভিযান চলমান রয়েছে। একই সাথে ২০১৩ সালের হেফাজতের তাণ্ডবের বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে। সরকার এই ঘটনার মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে তা হলো, সরকার আইনের প্রতি আস্থাশীল এবং নিয়ম বহির্ভূত কোনো কাজ সরকার করতে চায়না। আর একারণে সরকার অদি কোন চাপে পড়ে, কোনো সমস্যায় পড়ে সেটি মেনে নিতে প্রস্তুত কিন্তু নিজেই আপস করতে প্রস্তুত নয়। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের কাছ থেকে এধরনের চেতনাবোধই মানুষ প্রত্যাশা করে।

বিষয়: সরকার