ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘প্রধানমন্ত্রীই আমাগো বাঁচায়া রাখছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ০১:২২ পিএম
‘প্রধানমন্ত্রীই আমাগো বাঁচায়া রাখছে’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনেই তাঁর চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল। চরম বিপত্তির সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীই তাঁদের পাশে দাড়িয়েছে। একথা বলতে বলতেই কেঁদে ফেললেন নূরজাহান বেগম (৬০)।

মায়ানমারের রাখাইনের একটি ছোট গ্রামে বসবাস ছিল নূরজাহান বেগমের পরিবারের। এই গ্রামে তাঁর পরিবারের মতো রোহিঙ্গা অনেকগুলি পরিবারের বসতি ছিল। তাঁর স্বামী কৃষি কাজ করতেন। তাঁদের দুই ছেলে। দুই ছেলের একজন বিয়ে করেছেন। স্ত্রী রাবেয়ার ঘরে রয়েছে দেড় বছরের এক সন্তান।

গরীব হলেও তাঁদের জীবন ভালোই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করে নূরজাহান বেগমের স্বামী দুই দিন ধরে বাড়িতে ফিরছিল না। প্রতিদিনের মতো বাইরে কাজ করতে গিয়েছিল তাঁর স্বামী। স্বামীর সন্ধান না পেয়ে চিন্তায় দিন কাটছিল তাঁর। এদিকে মিয়ানমারের সেনা বাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতনে অনেক রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পাড়ি জমাচ্ছে সেই কথা নূরজাহান বেগম শুনেছিল। তাই তাঁর ভয় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে তাঁর স্বামীর কিছু হল কি না।

এর কিছু দিন পরেই নূরজাহান বেগমের গ্রামে হামলা চালায় মায়ানমার সেনাবাহিনী। হামলার দিন রাতে নূরজাহান বেগমের দুই ছেলেও ঘরে ছিল না। নূরজাহান বেগমের পাশের বাড়িতেই সেনাবাহিনীরা আগুন লাগিয়েছে। কান্নাকাটির শব্দ শুনে ভয় পেয়ে নূরজাহান বেগম ও তাঁর ছেলের স্ত্রী বাড়ি থেকে পালায়।

নূরজাহান বেগমের ছেলের স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। বাচ্চা ছেলেকে কোলে নিয়ে তাঁরা অন্যান্যদের মতো বাংলাদেশের সীমান্তে আসে। এই বৃদ্ধ বয়সে এত দূর আসা তাঁর জন্যে খুব কষ্টের। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে তাঁদের এতদূর আসতে হয়েছে। পথের মধ্যেও নূরজাহান বেগমের মনে হয়েছে এই বুঝি মায়ানমারের সেনাবাহিনীর গুলি খেতে হয়। প্রতি মুহূর্ত কেটেছে আতঙ্কে। অন্যদিকে বাড়ির কোনো পুরুষ সদস্যও তাঁদের সঙ্গে নেই। স্বামী ও দুই ছেলের কি হয়েছে তাও জানা নেই তাঁর?

বাংলাদেশের সীমান্তে এসে তাঁরা তেমন কোনো বাঁধার সম্মুখীন হয় নি। এখানে আসার পর নূরজাহানের পুত্রবধূর সন্তান হয়েছে। ঘুমধুম পাহাড়ে তাঁরা অনেকদিন ধরে থাকছেন। অন্যান্য মানুষের মতো তাঁদেরও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ত্রাণের মাধ্যমে দিন কেটে যাচ্ছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অত্যাচারের কথা মনে পড়লে এখনও তাঁর প্রাণ কেঁপে উঠে।

এত কিছুর পরও নূরজাহান বেগমের আশা মিয়ানমার সরকার তাঁদের দেশে ফিরিয়ে নেবেন। নিজ ভিটে মাটিতে স্বামী সন্তান নিয়ে আবার সুখের সংসার গড়ে তুলবেন তাঁরা। রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের এই অবদান ভুলবেন না নূরজাহান বেগমও।

নূরজাহান বেগম বলেন, ‘আল্লাহ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনন্তকাল বাঁচিয়ে রাখুক। কারণ তাঁর কল্যাণেই এত এত মানুষ বেঁচে আছে, তিনিই আমাগো বাঁচায়া রাখছে।’

বাংলা ইনসাইডার/এসএম/জেডএ