ঢাকা, সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৭ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ভারত-চীনের চাপে স্যান্ডউইচ হচ্ছে বাংলাদেশ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৭:৫৯ পিএম
ভারত-চীনের চাপে স্যান্ডউইচ হচ্ছে বাংলাদেশ?

ঈদের আগেই বাংলাদেশ নিয়ে কূটনৈতিক লড়াইয়ের প্রকাশ্য রূপ দেখা গেছে। বাংলাদেশে বাংলাদেশে যদি কোয়াডে যায় তাহলে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হবে এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন চীনা রাষ্ট্রদূত। যদিও ঘোষণা দেয়ার একদিন পরেই তিনি তার তিনি সুর পাল্টান এবং তিনি বলেন যে শব্দগত ভুলের জন্য তার এই বক্তব্য ভুলভাবে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটাই চীনের মনোভাব। চীন এই বক্তব্যটি বাংলাদেশ সরকারের কানে তুলতে চেয়েছিল যে কোন উপায়ে এবং কানে তুলে তারা তাদের নিজেদের জায়গায় ফিরে গেছে। আর অন্যদিকে ৫ লাখ টিকা দিয়ে চীন এখন বাংলাদেশে ভারতবিরোধী একটি অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে সক্রিয়।

অন্যদিকে করোনার তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড ভারত। তারপরও ভারত-বাংলাদেশ নিয়ে বসে নেই। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করা হবে নাকি বাংলাদেশের উপর চাপ দেওয়া হবে এ নিয়ে চলছে নানামুখী পর্যালোচনা। তবে বাংলাদেশে ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র অভিন্ন স্বার্থ নিয়েই চলে। বিশেষ করে গত এক দশকে এই দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের লক্ষ্য এবং কৌশল অভিন্ন। এই প্রেক্ষাপটে গতকাল যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, বাংলাদেশ কোয়াডে যাবে কি যাবে না এটি তার নিজস্ব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে বাংলাদেশের অবস্থান এবং বিদেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে রীতিমতো টানাহেচরা চলছে। আর এই টানাহেচরায় বাংলাদেশ স্যান্ডউইচ হয়ে যায় কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন নানা জটিলতায় বিদ্ধ। বিশেষ করে কোভিড টিকার না দেওয়ার বিষয়টিকে বাংলাদেশের জনগণ এবং সরকার কেউই মেনে নিতে পারেনি। আর তাই বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের যে গত এক যুগ ভারতমুখী কূটনৈতিক নীতি সেখান থেকে কিছুটা হলেও সরে এসেছে। তবে কূটনৈতিকরা মনে করছেন যে, বাংলাদেশ মোটেও ভারতমুখী কূটনীতি থেকে সরে আসেনি। বরং করোনা এবং অন্যান্য কারণে নাস্তানাবুদ ভারত নিজেই বাংলাদেশের দিকে মনোযোগ দিতে পারছেন না। ভারতের থিংক ট্যাংকের একটা বড় অংশই চায় যে বাংলাদেশের সাথে তাদের সম্পর্ক রক্ষা করতেই হবে। বিশেষ করে বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং সন্ত্রাসী চক্র যদি বাংলাদেশে অতীতের মতো বাসা বাধে তাহলে ভারতের জন্য সেটি নতুন বিপর্যয়ের সৃষ্টি করবে। তাছাড়া এই অঞ্চলে যখন চীনের আধিপত্য তখন জঙ্গিবাদের ইস্যুটি আবার নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে। আর এ কারণেই করোনা পরিস্থিতিতে একটু ভালো হলেই ভারতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে উদ্যোগ নেবে। আর এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় চিহ্ন হতে পারে যে সেরামের টিকা বাংলাদেশে পাঠানো।

ভারতের কূটনীতিকরা মনে করছেন যে, টিকা পাঠালে দু`দেশের সম্পর্কের যে আপাত টানাপোড়ন তা কেটে যাবে। আর এই জন্যই চীন ভারতকে বাংলাদেশ নিয়ে বেশি সুযোগ দিতে রাজি নয়। তারা তাদের ইস্যুগুলোকে দ্রুত সমাধান করতে করতে আগ্রহী। ৫ লাখ টিকা দিয়ে তারা মনে করছে যে বাংলাদেশকে তারা তাদের পক্ষে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। আর এখন সামনের দিনগুলোতে চীন ভারতবিরোধী তাদের যে প্রকল্পগুলো এবং অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো সেগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। আর এই চেষ্টার অংশ হিসেবেই তারা বাংলাদেশে তাদের টিকা দ্রুত আগামী মাসে দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানা গেছে। যদিও চীনা রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন যে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে কিন্তু চীন মনে করছে এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠ হলেই ভারত থেকে বাংলাদেশকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে। আর এই দুই দেশের কূটনৈতিক খেলায় বাংলাদেশ কি করবে বা কি করছে সেটাই দেখার বিষয়। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন বাংলাদেশকে এগুতে হবে খুবই সতর্কভাবে।

বিষয়: ভারত , চীন