ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিএনপির ট্রাম্প কার্ড সিনহা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০১৭ শনিবার, ০৮:০০ পিএম
বিএনপির ট্রাম্প কার্ড সিনহা

বিএনপির ট্রাম্পকার্ড ‘বিচারপতি সিনহা’। বিএনপির নেতারাই বলেছেন, সিনহার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা বলেছেন, ‘কোনোভাবে যদি প্রমাণ করা যায় বিচারপতি সিনহা স্বেচ্ছায় ছুটিতে যাননি, তাহলেই ‘কাজ হয়ে যাবে’। এজন্য বিএনপি নিয়ন্ত্রিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি কয়েক দফা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। এবার বিএনপি নেতৃবৃন্দ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবীর দ্বারস্থ হয়েছেন। ব্যারিস্টার রফিকুল হক, ড. কামাল হোসেনের মতো সিনিয়র কয়েকজন আইনজীবীকে বিএনপি প্রধান বিচারপতির বাসভবনে যাবার জন্য অনুরোধ করেছেন। ড. কামাল হোসেন সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। জানা গেছে, তিনি বিষয়টি দেখবেন বলেছেন। কিন্তু ব্যারিস্টার রফিকুল হক, অ্যাডভোকেট হাসান আরিফের মতো সিনিয়র আইনজীবীরা বিষয়টি নিয়ে কোনো উৎসাহ দেখাননি।

বিএনপির প্রথম থেকেই বলার চেষ্টা করছে প্রধান বিচারপতিকে জোর করে ছুটিতে রাখা হয়েছে। অনেকেই বলেছেন, যে স্বাক্ষর দেওয়া হয়েছে সেটা প্রধান বিচারপতির না। কিন্তু তাঁদের এসব যুক্তি হালে বাতাস পায়নি। সাধারণ মানুষ মনে করছে, জোর করে যদি তাঁকে ছুটিতে পাঠানো হয়, তাহলে তিনি ঢাকেশ্বরী মন্দির আর ভিসা সেন্টারে যান কীভাবে?

লন্ডন থেকে বিএনপির নেতাদের কাছে বার্তা এসেছে, অকাট্য প্রমাণ চাই। অকাট্য প্রমাণ পেলেই সরকারের পতন অনিবার্য। এখন বিএনপি ব্যস্ত অকাট্য প্রমাণের সন্ধানে। অকাট্য প্রমাণ হতে পারে একটাই, তাহলো প্রধান বিচারপতির মুখের বয়ান। কিন্তু তেমন কোনো বাণী বা বক্তব্য আসেনি। সমস্যা হলো, বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে। এটা হতে পারে তাঁদের জন্য আলাদিনের চেরাগ। কিন্তু প্রধান বিচারপতি পর্যন্ত কিছুইতেই পৌঁছুতে পারছেন না তাঁরা।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, আজকালের মধ্যে ড. কামাল হোসেন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার উদ্যোগ নেবেন। ড. কামাল হোসেন নিশ্চয়ই বাধার সম্মুখীন হবেন না বলে তারা মনে করছেন।

সরকারের সূত্রগুলো বলছে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ একান্তই প্রধান বিচারপতির বিষয়। তিনি কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, কার সঙ্গে করবেন না-সেটি তাঁর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।

তবে, সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা বা সরকারের পতন নিশ্চিত করার জন্য প্রধান বিচারপতি একটি বড় উপলক্ষ্য হতে পারে। এর আগে বিএনপি পরিকল্পনা করেছিল, বর্তমান সংসদের ১৫৪ জন সংসদ সদস্যের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করানো। এটা যদি অবৈধ ঘোষণা করানো যেত তাহলে সরকারের আর বৈধতা থাকতো না। এ ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে করা একটি রিট হাইকোর্টে খারিজ করে দেয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে অবকাশের পরই আপিল বিভাগের রিট করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু প্রধান বিচারপতির ছুটি, সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়। এখন বিএনপি প্রধান বিচারপতির অসুস্থতা মিথা প্রমাণের চেষ্টা কতটা সফল হয় সেটাই দেখার বিষয়।


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ