ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

হেফাজতে পদ প্রত্যাখ্যানের হিড়িক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২১ বুধবার, ০৫:০০ পিএম
হেফাজতে পদ প্রত্যাখ্যানের হিড়িক

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই কিমিটিতে স্থান পেয়েছেন ৩৩ জন। যাদের মধ্যে রয়েছে চেনা-অচেনা অনেকই রয়েছেন। হেফাজতে আহবায়ক কমিটি থেকে রাজনৈতিক নেতাদের কমিটিতে স্থান দেওয়ার কথা না থাকলেও তাদেরও স্থান দেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে বিতর্ক এড়ানো জন্য হেফাজতের প্রয়াত আমির আল্লামা শফীর পুত্র মাওলানা ইউসুফ মাদানীকে স্থান দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও সংঘাত, সহিংসতা অপছন্দ করে এমন অনেককে এই কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছিল। অনেকে মনে করেছেন, সরকারের সঙ্গে সমঝােতা করতেই এই নতুন কমিটি। 

এখন দেখা যাচ্ছে হেফাজতের ঘোষিত নতুন এই কিমিটি থেকে পদ প্রত্যাখ্যানের হিড়িক পড়ে গেছে।  এরই মধ্যে এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমীর আহমদ শফীর পুত্র ও হেফাজতের সাবেক প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইউসুফ মাদানী। তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, তথাকথিত হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আমার নাম দেখে আমি মর্মাহত। যারা আমার পিতাকে কষ্ট দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় দিয়েছেন তাদের সঙ্গে আমি কখনো এক হতে পারিনা। আজকের ঘোষিত তথাকথিত হেফাজতের কমিটি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।  এই কমিটি থেকে এরই মধ্যে নায়েবে আমির আবদুল কুদ্দুসসহ আরও কয়েকজন পদ প্রত্যাখ্যান করেছেন। কমিটিতে স্থান পাওয়া আরও বেশ কয়েকজন পদ প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিতে পারেন বলে জানা গেছে। 

এদিকে নেতাদের এমন আচরণে বিব্রত বাবুনগরী অনুসারী হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা। ঘোষিত কমিটির কয়েকজনের পদ প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী বলেছেন, ‘যাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে সবার সঙ্গে আগেই আমাদের কথা হয়েছে। এখন যদি তারা অস্বীকার করেন, তাহলে আমাদের কিছুই করার নেই। কেউ আমাদের সঙ্গে থাকতে না চাইলে থাকবে না। তাদের তো আর জোর করে রাখা যাবে না।’ নতুন কমিটির নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল কুদ্দুস বলেছেন, ‘ঘোষিত কমিটিতে আমার নাম কীভাবে আসল আমি নিজেই জানি না। তারা কেন আমার নাম ঘোষণা করল তা বোধগম্য নয়। ঘোষিত কমিটির সঙ্গে আমি নেই।’ 

ঘোষিত কমিটি নিয়ে অনেকেই অভিযোগও করছেন।  তারা বছলেন, কোনো যোগাযোগ ছাড়াই কমিটিতে তাদের নাম দেওয়া হয়েছে। এ কমিটির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাই তারা কমিটির পদ প্রত্যাখ্যান করছেন। ফলে এই কমিটি আদৌও কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছবে তার কোনো ঠিক নেই।  বিশ্লেষকরা বলছেন, দিশেহারা বাবুনগরী নিজে বাঁচার জন্য একটি কমিটি ঘোষণা করেছে। এই কমিটি করার জন্য তার কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না বলেই মনে হচ্ছে। নইলে এইভাবে অনেকেই পদ প্রত্যাখ্যান করতো না। এখন দেখাই যাক এই পদ প্রত্যাখ্যানের হিড়িক কোন পর্যায়ে গিয়ে থামে।


বিষয়: হেফাজত , কমিটি